ফৌজদারি মামলায় জামিনের নিয়ম ও খরচ ২০২৬ — ম্যাজিস্ট্রেট, দায়রা ও হাইকোর্ট বিভাগ

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-07

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

<p>কোনো ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন বা পুলিশি গ্রেপ্তারের আতঙ্কে আছেন? <strong>মনে রাখবেন, আইনের চোখে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত যেকোনো অভিযুক্ত ব্যক্তি জামিন চাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার রাখেন।</strong> জরুরি জামিন শুনানির জন্য: <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--gold);font-weight:bold">অ্যাডভোকেট মোঃ শাহ আলম</a> — <a href="tel:01712655546" style="color:var(--gold);font-weight:bold">📞 01712655546</a></p>

ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC, 1898)-এর দ্বিতীয় তফসিলে (Schedule II) কোন অপরাধটি জামিনযোগ্য এবং কোনটি অজামিনযোগ্য তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে:

বৈশিষ্ট্য জামিনযোগ্য অপরাধ (Bailable Offence) অজামিনযোগ্য অপরাধ (Non-Bailable Offence)
আইনি অধিকার আসামির আইনগত অধিকার (Matter of Right) আদালতের সুবিবেচনাপ্রসূত ক্ষমতা (Discretionary Power)
প্রযোজ্য ধারা ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৬ ধারা ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৭ ও ৪৯৮ ধারা
উদাহরণ সাধারণ মারামারি (ধারা ৩২৩), মানহানি (ধারা ৫০০), চেক ডিজঅনার (১৩৮ এনআই অ্যাক্ট) খুন (ধারা ৩০২), ডাকাতি (৩৯৫), অস্ত্র আইন, মাদক (১০ গ্রামের অধিক), যৌতুকের জন্য হত্যা
আদালতের অবস্থান শর্ত পূরণ ও জামিননামা দিলে আদালত জামিন দিতে বাধ্য আসামির বয়স, অসুস্থতা, নারী বা প্রমাণের দুর্বলতা বিবেচনায় জামিন মঞ্জুর হয়

ফৌজদারি আইনের প্রধান ৩টি জামিন সংক্রান্ত বিধান প্রতিটি আসামির জন্য জানা অপরিহার্য:

  • ধারা ৪৯৬ (জামিনযোগ্য ধারায় জামিন): কোনো ব্যক্তি জামিনযোগ্য অপরাধে গ্রেপ্তার হলে বা আদালতে হাজির হলে আদালত তাকে উপযুক্ত জামিনদারের মুচলেকায় মুক্তি দিতে বাধ্য থাকবেন।
  • ধারা ৪৯৭ (অজামিনযোগ্য ধারায় জামিন): অজামিনযোগ্য হলেও যদি আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধের যুক্তিসঙ্গত প্রমাণ না থাকে, অথবা আসামি ১৬ বছরের কম বয়সী বালক, নারী বা অসুস্থ ব্যক্তি হন, তবে আদালত জামিন দিতে পারেন।
  • ধারা ৪৯৮ (দায়রা ও হাইকোর্টের বিশেষ জামিন ক্ষমতা): দায়রা আদালত ও সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ যেকোনো ফৌজদারি মামলায় জামিন মঞ্জুর অথবা আগাম জামিন (Anticipatory Bail) প্রদান করতে পারেন।

গ্রেপ্তারের পর বা আদালতে আত্মসমর্পণের সময় জামিন যেভাবে পরিচালিত হয়:

ধাপ ১: চিফ জুডিশিয়াল / মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত

থানা পুলিশ গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিকে আদালতে উপস্থাপন করলে আইনজীবী জামিন আবেদন করেন। রিমান্ড চাইলে রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন শুনানি হয়। জামিন না হলে হাজত পরোয়ানা ইস্যু হয়।

ধাপ ২: জেলা ও দায়রা জজ আদালত (Crl. Misc Case)

ম্যাজিস্ট্রেট আদালত জামিন নামঞ্জুর করলে সার্টিফাইড কপি তুলে বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ফৌজদারি মিস কেস দায়ের করতে হয়। দায়রা জজ নথিপত্র পর্যালোচনা করে জামিন দিতে পারেন।

যদি কোনো ব্যক্তি আশঙ্কা করেন যে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় গ্রেপ্তার করা হতে পারে, তবে তিনি গ্রেপ্তার এড়াতে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে উপস্থিত হয়ে আগাম জামিনের প্রার্থনা করতে পারেন:

  • আসামিকে আদালতে সশরীরে উপস্থিত (Physical Appearance) থাকতে হবে।
  • এফআইআরের কপি বা মামলার নথিপত্র পিটিশনের সাথে সংযুক্ত করতে হবে।
  • হাইকোর্ট সাধারণত ৪ থেকে ৮ সপ্তাহের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন আগাম জামিন মঞ্জুর করে সংশ্লিষ্ট দায়রা আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।

আদালতে জামিন শুনানি ও বেইল বন্ড সম্পাদনের জন্য নিম্নোক্ত কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে:

  • মামলার এজাহার বা নালিশি দরখাস্তের সহি মোহরযুক্ত নকল (Certified Copy of FIR / Complaint)
  • পূর্বে জামিন নামঞ্জুর হয়ে থাকলে সেই আদেশের সার্টিফাইড কপি
  • মেডিকেল সার্টিফিকেট (অসুস্থতা বা শারীরিক অক্ষমতার কারণে জামিন প্রার্থনায়)
  • আসামির জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ও পাসপোর্ট সাইজ ছবি
  • ২ জন স্থানীয় উপযুক্ত জামিনদারের এনআইডি, ছবি ও নাগরিকত্ব সনদ
  • জামিনদারের আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণপত্র (ট্যাক্স টোকেন, ট্রেড লাইসেন্স বা জমির খতিয়ান)

জামিনের কোর্ট ফি অত্যন্ত নামমাত্র হলেও আদালতের স্তরভেদে আইনজীবী ফি ভিন্ন হতে পারে:

আদালতের স্তর আনুমানিক সময় আনুমানিক খরচ
ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট) ১–২ কার্যদিবস ১০,০০০ – ২৫,০০০ টাকা (মামলার ধরনভেদে)
দায়রা আদালত (জজ কোর্ট) ৩–৭ কার্যদিবস ১৫,০০০ – ৪০,০০০ টাকা
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ ১–৩ সপ্তাহ ৩৫,০০০ – ১,০০,০০০+ টাকা (সিনিয়র আইনজীবীভেদে)

⚖️ দ্রুত জামিনের জন্য সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীর সহায়তা নিন

গ্রেপ্তারের ভয়ে সময় নষ্ট না করে প্রথম সুযোগেই সঠিক আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করুন। ঢাকার যেকোনো আদালত ও হাইকোর্টে দ্রুত জামিন শুনানির জন্য সরাসরি যোগাযোগ করুন।

📞 সরাসরি কল: 01712655546 💬 WhatsApp পরামর্শ