লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-17
পারিবারিক বিরোধ বা আবেগের বশবর্তী হয়ে থানায় বা আদালতে মামলা করার পর অনেক সময়ই উভয় পক্ষ নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে আপস করতে চান। কিন্তু অনেকেই ভাবেন বাদী চাইলেই যেকোনো ফৌজদারি মামলা তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করে নিতে পারে। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী কোন কোন মামলা আপসযোগ্য এবং কীভাবে আইনিভাবে মামলা নিষ্পত্তি করতে হয়, তা তুলে ধরেছেন সুপ্রিম কোর্টের প্র্যাকটিসিং আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>।
১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪৫ ধারা (Section 345, CrPC) অনুযায়ী সকল অপরাধ রাষ্ট্র বা আদালতের চোখে আপসযোগ্য নয়। আইন অনুযায়ী অপরাধ দুই প্রকার: এক. আপসযোগ্য (Compoundable), যা বাদী ও বিবাদী মিলে আদালতের মাধ্যমে মীমাংসা করতে পারেন। দুই. অ-আপসযোগ্য (Non-compoundable), যেমন—খুন, ধর্ষণ, বড় ডাকাতি ইত্যাদি জঘন্য অপরাধ, যা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধ গণ্য হওয়ায় ব্যক্তিগতভাবে আপস করা যায় না।
৩৪৫ ধারার ১ উপসারণী অনুযায়ী কিছু সাধারণ অপরাধে আদালতের বিশেষ অনুমতি ছাড়াই বাদী ও আসামির সম্মতিক্রমে সরাসরি আপসনামা দিলে আদালত আসামিকে খালাস দেন। যেমন: সাধারণ আঘাত (৩২৩ ধারা), অনধিকার প্রবেশ (৪৪৭ ধারা), নারীর অমর্যাদা বা অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার (৫০৯ ধারা), এবং মানহানি (৫০০ ধারা)।
৩৪৫ ধারার ২ উপসারণীর অপরাধগুলোতে উভয় পক্ষ আপস করতে চাইলেও বিজ্ঞ আদালতের সুনির্দিষ্ট অনুমতি (Permission of the Court) বাধ্যতামূলক। যেমন: অস্ত্র দ্বারা সাধারণ আঘাত (৩২৪ ধারা), গুরুতর আঘাত বা হাড় ভাঙা (৩২৫ ধারা), অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ (৪০৬ ধারা) এবং প্রতারণা (৪২০ ধারা)। শুনানিতে আদালত সন্তুষ্ট হলে আপসনামা গ্রহণ করে আসামিকে তাৎক্ষণিক অব্যাহতি বা খালাস (Acquittal) দেন।
যদি মামলাটি অ-আপসযোগ্য ধারায় (যেমন ৩২৬ বা ৩০৭ ধারা) দায়ের হয়ে থাকে কিন্তু প্রকৃতপক্ষে বাদী ও আসামির মধ্যে বিরোধ মিটে যায়, তবে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্বে বাদী ও মূল সাক্ষীরা আদালতে এসে জবানবন্দিতে ‘ঘটনা দেখেননি’ বা ‘ভুল বোঝাবুঝি ছিল’ মর্মে বৈরী সাক্ষী (Hostile Witness) হয়ে বক্তব্য দিলে আদালত প্রমাণের অভাবে আসামিকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৪ ধারা অনুযায়ী সরকারের নির্দেশে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পাবলিক প্রসিকিউটর বা পিপি) আদালতের সম্মতি নিয়ে যেকোনো জিআর মামলার বিচার কার্যক্রম থেকে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহার করতে পারেন। এতে আসামির বিরুদ্ধে কোনো চার্জ গঠিত না হয়ে থাকলে তিনি ডিসচার্জ হন, আর চার্জ গঠনের পর হলে খালাস পান।