লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-13 · ১১ মিনিট পড়ুন
পরিবারের কোনো সদস্য হঠাৎ পুলিশি অভিযানে গ্রেফতার হলে প্রথম ২৪ ঘণ্টার সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করে দেয় মামলার ভবিষ্যৎ। বিভ্রান্তি ও ভয়ের বশে ভুল পদক্ষেপ নিলে রিমান্ড এবং দীর্ঘ কারাবাস অবধারিত হতে পারে। গ্রেফতার পরবর্তী সুরক্ষা ও তাৎক্ষণিক জামিনের প্রস্তুতি নিয়ে জরুরি গাইড। যেকোনো জরুরি ফৌজদারি আইনি সহায়তায় যোগাযোগ করুন <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>-এর চেম্বারে।
| বিষয় / শর্ত | সরকারি নিয়ম, ফি ও আইন (২০২৬) |
|---|---|
| প্রযোজ্য আইন ও আদালত | বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০, ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ (CrPC) ও সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্ট বিভাগ |
| আগাম ও নিয়মিত জামিন | হাইকোর্ট বিভাগে আগাম জামিন (ধারা ৪৯৮ CrPC) ও ম্যাজিস্ট্রেট/দায়রা আদালতে নিয়মিত জামিন |
| সরকারি পোর্টাল ও যাচাই | supremecourt.gov.bd, judiciary.gov.bd, pcc.police.gov.bd ও land.gov.bd |
| জরুরি আইনি পরামর্শ চেম্বার | অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম (বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট) — ০১৭১২-৬৫৫৫৪৬ |
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদ এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৬১ ধারা অনুসারে—পুলিশ কোনো ব্যক্তিকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করলে যাতায়াতের সময় বাদ দিয়ে অনধিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটতম বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে সোপর্দ করতে বাধ্য। ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় থানায় কোনো ব্যক্তিকে বিনা আদেশে আটকে রাখা বেআইনি ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
আদালতের অভিজ্ঞতায় দেখা যায় আসামির স্বজনরা প্রাথমিক ধাক্কায় ৩টি আত্মঘাতী ভুল করেন:
সংবিধানের ৩৫(৪) অনুচ্ছেদে স্পষ্ট বলা আছে, কোনো অপরাধের অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যাবে না। পুলিশি হেফাজতে যেকোনো স্বীকারোক্তি সাক্ষ্য আইনের ২৪ ও ২৫ ধারা মতে আদালতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। আসামি তার আইনজীবীর উপস্থিতি চাইতে পারেন এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত জবানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন।
আপনার জমি বিরোধ, বাটোয়ারা মামলা, জামিন, তালাক বা সাইবার জটিলতায় বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে সুপ্রিম কোর্ট বা উত্তরা চেম্বারে নথিপত্রসহ সরাসরি বসুন।
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৭ ধারায় পুলিশ যখন রিমান্ড (পুলিশ হেফাজত) প্রার্থনা করে, তখন আইনজীবীর মূল কাজ হলো রিমান্ড আবেদন বাতিল চেয়ে একই সাথে নিয়মিত জামিনের আর্জি পেশ করা। সুপ্রিম কোর্টের ব্লাস্ট বনাম বাংলাদেশ (ব্লাস্ট গাইডলাইন) মামলার যুগান্তকারী রায় অনুযায়ী—বিনা কারণে বা যান্ত্রিকভাবে রিমান্ড দেওয়া যাবে না। আসামির বয়স, অসুস্থতা, মামলার ধারার অসঙ্গতি এবং ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততা না থাকা প্রমাণ করতে পারলে রিমান্ড নামঞ্জুর করে আদালত জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন অথবা সরাসরি জামিন মঞ্জুর করেন।
আসামিকে যদি পুলিশ হেফাজতে শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন করা হয়ে থাকে, তবে আদালতে হাজির করার সাথে সাথে ম্যাজিস্ট্রেটের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন ২০১৩ অনুযায়ী অবিলম্বে সরকারি হাসপাতালের অভিজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে মেডিকেল বোর্ড গঠনের আবেদন জানাতে হবে।
গ্রেফতারের খবর পাওয়ার সাথে সাথেই বিজ্ঞ আদালতে ওকালতনামায় স্বাক্ষর নেওয়া, ফরওয়ার্ডিং ও সিডি (Case Diary) পর্যালোচনা করা এবং ম্যাজিস্ট্রেট এজলাসে বলিষ্ঠ শুনানির প্রস্তুতি নেওয়াই হলো একজন বিচক্ষণ আইনজীবীর মূল দায়িত্ব।