লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-07-22 · ১১ মিনিট পড়ুন
মুসলিম আইনে হেবা (Heba) বা দানপত্র দলিল হলো নিজের সম্পত্তি জীবদ্দশায় অন্য কাউকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বা ভালোবাসার উপহার হিসেবে হস্তান্তর করার একটি জনপ্রিয় আইনি মাধ্যম। তবে সাধারণ দানপত্র, রক্তের সম্পর্কের হেবা এবং হেবা বিল এওয়াজের মধ্যে সুস্পষ্ট আইনি ও রেজিস্ট্রেশন খরচের পার্থক্য রয়েছে। হেবা দলিল কীভাবে করতে হয়, রক্তের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সরকারি ফি কত এবং কোনো হেবা দলিল জালিয়াতি হলে তা আদালতের মাধ্যমে কীভাবে বাতিল করাতে হয়—তার পূর্ণাঙ্গ আইনি নির্দেশিকা নিচে দেওয়া হলো। যেকোনো জটিল আইনি সমস্যায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>-এর আইনি পরামর্শ নিতে পারেন।
| বিষয় / শর্ত | সরকারি নিয়ম, ফি ও আইন (২০২৬) |
|---|---|
| রেজিস্ট্রেশন ফি ও স্ট্যাম্প শুল্ক | রেজিস্ট্রেশন ফি ১% + স্ট্যাম্প শুল্ক ১.৫% (দলিলে প্রদর্শিত মূল্যের ওপর) |
| স্থানীয় সরকার কর ও ভ্যাট | স্থানীয় সরকার কর ২%–৩% + ভ্যাট ১.৫%–৪.৫% (অবস্থানভেদে) |
| উৎসে কর (Gain Tax / TDS) | এলাকা ও মৌজা রেট অনুযায়ী ১% থেকে ৮% (আয়কর আইন ২০২৩) |
| হেবা দলিলের সরকারি খরচ | রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়দের মধ্যে নামমাত্র ফি (প্রায় ১,৫০০–২,৫০০ টাকা) |
| অফিসিয়াল ভূমি ও দলিল পোর্টাল | land.gov.bd, dlrms.land.gov.bd ও eporcha.gov.bd |
ইসলামিক আইন ও ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ১২২ ধারা অনুযায়ী, কোনো বিনিময় বা অর্থ ছাড়াই স্ব ইচ্ছায় জীবদ্দশায় নিজের সম্পত্তি কাউকে হস্তান্তর করাই হলো হেবা বা দান।
হেবা বৈধ হতে ৩টি শর্ত পূরণ হওয়া বাধ্যতামূলক:
আপনার জমি বিরোধ, বাটোয়ারা মামলা, জামিন, তালাক বা সাইবার জটিলতায় বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে সুপ্রিম কোর্ট বা উত্তরা চেম্বারে নথিপত্রসহ সরাসরি বসুন।
সরকার নির্দিষ্ট নিকটাত্মীয়দের মধ্যে হেবা রেজিস্ট্রি অত্যন্ত সহজ করেছে। কেবল নিম্নোক্ত ১২টি নিকট রক্তের সম্পর্কের মধ্যে হেবা করলে জমি যত কোটিরই হোক, সরকারি রেজিস্ট্রেশন ফি মাত্র ১০০ টাকা (বোর্ড ফি ও স্ট্যাম্প সহ সর্বমোট ১,০০০-১,৫০০ টাকা):
পিতা-মাতা, স্বামী-স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে, ভাই-বোন, দাদা-দাদি, নানি-নানি এবং নাতি-নাতনি।
এই ১২ সম্পর্ক ছাড়া অন্য কাউকে হেবা করলে তা সাধারণ দানপত্র হিসেবে গণ্য হবে এবং বিক্রয় দলিলের মতো শতাংশ হারে (৮%-১০%) সরকারি ফি দিতে হবে।
সাধারণ হেবা দলিল রেজিস্ট্রি এবং দখল হস্তান্তরের পর দাতা চাইলেই আর একতরফাভাবে বাতিল করতে পারেন না। বাতিল করতে হলে সহকারী জজ আদালতে 'দলিল বাতিলের মামলা' (Suit for Cancellation of Deed) দায়ের করে আদেশ পেতে হয়।
তবে পিতা-মাতা যদি সন্তানকে হেবা করেন, তবে ক্ষেত্রবিশেষে শর্ত ভঙ্গের কারণে মামলা করে তা ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকে।
⚖️ বিশেষজ্ঞ আইনি পরামর্শের জন্য যোগাযোগ: আপনার আইনি বিষযটি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম-এর সাথে সরাসরি কথা বলুন বা আমাদের বিশেষজ্ঞ আইনি সেবা গ্রহণ করুন। যেকোনো প্রয়োজনে সরাসরি যোগাযোগ পেজে ক্লিক করুন।
হ্যাঁ। হেবা দলিল রেজিস্ট্রির পরই গ্রহীতার নামে ভূমি অফিসে ই-নামজারি করিয়ে নতুন খতিয়ান খুলে নিতে হবে।
না। শ্বশুর-জামাই বা শাশুড়ি-পুত্রবধূ ১২টি নির্দিষ্ট রক্ত সম্পর্কের বাইরে, তাই তাদের ক্ষেত্রে সাধারণ বিক্রয় বা দানপত্রের ফি প্রযোজ্য।