হেবা দলিল খরচ কত ২০২৬? হেবা ও হেবা বিল এওয়াজ দলিলের সরকারি ফি ও রেজিস্ট্রেশন নিয়ম

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-21 · ১৮ মিনিট

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

পরিবারের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজন বা রক্তের সম্পর্কের মধ্যে জমিজমা হস্তান্তরের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সবচেয়ে কম খরচের আইনি মাধ্যম হলো 'হেবা দলিল' (Gift Deed)। কিন্তু সাধারণ হেবা এবং 'হেবা-বিল-এওয়াজ' (Hiba-bil-Iwaz)-এর মধ্যে মৌলিক পার্থক্য কী, কোনটিতে রেজিস্ট্রেশন খরচ নামমাত্র ১০০ টাকা আর কোনটিতে সাফ-কবলা দলিলের মতো কর দিতে হয়—তা অনেকেরই অজানা। এছাড়া হেবা করার পর কি তা বাতিল করা যায়? এসব গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্নের ব্যাখ্যা ও সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--gold);font-weight:bold;text-decoration:underline;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>-এর বিস্তারিত দিকনির্দেশনা নিচে তুলে ধরা হলো। সম্পত্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত আইনি পরামর্শে কল করুন: <a href="tel:01712655546" style="color:var(--gold);font-weight:bold;">০১৭১২-৬৫৫৫৪৬</a>।

: · জমি রেজিস্ট্রি ও দলিল আইনজীবী

এক নজরে মূল তথ্য (Quick Answer Table)

বিষয় / শর্তসরকারি নিয়ম, ফি ও আইন (২০২৬)
রেজিস্ট্রেশন ফি ও স্ট্যাম্প শুল্করেজিস্ট্রেশন ফি ১% + স্ট্যাম্প শুল্ক ১.৫% (দলিলে প্রদর্শিত মূল্যের ওপর)
স্থানীয় সরকার কর ও ভ্যাটস্থানীয় সরকার কর ২%–৩% + ভ্যাট ১.৫%–৪.৫% (অবস্থানভেদে)
উৎসে কর (Gain Tax / TDS)এলাকা ও মৌজা রেট অনুযায়ী ১% থেকে ৮% (আয়কর আইন ২০২৩)
হেবা দলিলের সরকারি খরচরক্তের সম্পর্কের আত্মীয়দের মধ্যে নামমাত্র ফি (প্রায় ১,৫০০–২,৫০০ টাকা)
অফিসিয়াল ভূমি ও দলিল পোর্টালland.gov.bd, dlrms.land.gov.bd ও eporcha.gov.bd
⚡ এক নজরে: হেবা বনাম হেবা বিল এওয়াজ দলিল
  • সাধারণ হেবা: নিঃশর্ত উপহার বা দান, যার বিনিময়ে কোনো অর্থ বা বস্তু গ্রহণ করা হয় না।
  • হেবা-বিল-এওয়াজ: কোনো উপহারের বিনিময়ে উপহার (যেমন জায়নামাজ, তসবিহ বা কোরআন শরিফের বিনিময়ে জমি দান)।
  • রক্তের ১৫টি সম্পর্কের মধ্যে সাধারণ হেবা দলিলের সরকারি রেজিস্ট্রেশন ফি মাত্র ১০০ টাকা ও স্ট্যাম্প ২০০ টাকা।
  • রক্তের সম্পর্কহীন ব্যক্তির সাথে হেবা-বিল-এওয়াজ করলে তা সাফ-কবলা দলিলের মতো সমপরিমাণ সরকারি শুল্ক ও করের আওতাভুক্ত হয়।
  • দখল হস্তান্তর (Delivery of Possession) ছাড়া কেবল মুখে বা দলিলে হেবা দাবি করলে তা আদালতে বাতিলযোগ্য।
📋 সূচিপত্র
  1. ১. হেবা দলিল কি এবং কারা হেবা করতে পারেন?
  2. ২. কোন ১৫টি সম্পর্কের মধ্যে নামমাত্র খরচে হেবা করা যায়?
  3. ৩. হেবা-বিল-এওয়াজ দলিল আসলে কি?
  4. ৪. হেবা বনাম হেবা-বিল-এওয়াজ: প্রধান ৫টি পার্থক্য
  5. ৫. ২০২৬ সালে হেবা দলিল রেজিস্ট্রেশনের সরকারি খরচ
  6. ৬. হেবা দলিল কি বাতিল (Revoke) করা সম্ভব?
  7. ৭. ভুয়া হেবা দলিল চ্যালেঞ্জ করার দেওয়ানি মামলা
  8. ৮. অভিজ্ঞ ভূমি বিশেষজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ

১. হেবা দলিল কি এবং কারা হেবা করতে পারেন?

মুসলিম আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি যদি স্বেচ্ছায়, সুস্থ মস্তিষ্কে এবং কোনো আর্থিক প্রতিদান ব্যতিরেকে তার স্বনামে থাকা সম্পত্তি অন্য কাউকে নিঃশর্তভাবে দান করেন, তবে তাকে হেবা (Heba / Gift) বলা হয়।

হেবা সম্পূর্ণ হওয়ার জন্য ৩টি শর্ত পূরণ হওয়া বাধ্যতামূলক:

  • দাতার প্রস্তাব (Declaration/Offer): দাতা স্বেচ্ছায় দান করার ঘোষণা দেবেন।
  • গ্রহীতার সম্মতি (Acceptance): গ্রহীতা দান গ্রহণ করবেন।
  • দখল হস্তান্তর (Delivery of Possession): সম্পত্তির প্রত্যক্ষ দখল বা নিয়ন্ত্রণ গ্রহীতাকে বুঝিয়ে দিতে হবে।

২. কোন ১৫টি সম্পর্কের মধ্যে নামমাত্র খরচে হেবা করা যায়?

২০০৪ সালের রেজিস্ট্রেশন আইন সংশোধনের মাধ্যমে হেবা দলিল রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা হয়। তবে রক্তের ঘনিষ্ঠ ১৫টি সম্পর্কের মধ্যে হেবা করলে সরকার বিশেষ ফি ছাড় প্রদান করে। সম্পর্কগুলো হলো:

  1. স্বামী-স্ত্রী
  2. পিতা-পুত্র এবং পিতা-কন্যা
  3. মাতা-পুত্র এবং মাতা-কন্যা
  4. আপন ভাই-ভাই
  5. আপন বোন-বোন
  6. আপন ভাই-বোন
  7. দাদা-নাতি এবং দাদা-নাতনি
  8. দাদী-নাতি এবং দাদী-নাতনি
  9. নানা-নাতি এবং নানা-নাতনি
  10. নানী-নাতি এবং নানী-নাতনি

উক্ত ১৫টি সম্পর্কের বাইরে (যেমন চাচা-ভাতিজা, খালা-ভাগ্নে, দুলাভাই বা দূরবর্তী আত্মীয়) হেবা করলে তা সাধারণ দানপত্র (Gift Deed) হিসেবে গণ্য হবে এবং নিয়মিত সাফ-কবলা দলিলের মতো সম্পূর্ণ সরকারি ফি প্রযোজ্য হবে।

৩. হেবা-বিল-এওয়াজ দলিল আসলে কি?

আরবি 'এওয়াজ' শব্দের অর্থ হলো প্রতিদান বা বিনিময়। সুতরাং হেবা-বিল-এওয়াজ মানে হলো প্রতিদানের বিনিময়ে দান।

প্রথাগত উদাহরণ: বাবা তার সন্তানকে অথবা মুরিদ তার পীর সাহেবকে একটি ধর্মীয় কিতাব, জায়নামাজ বা সোনার আংটি উপহার দিলেন এবং তার বিনিময়ে দাতা খুশি হয়ে তাকে একখণ্ড জমি হেবা করে দিলেন। মুসলিম আইনে এটিকে বিক্রয় বা আধা-বিক্রয় চুক্তি হিসেবে গণ্য করা হয়। এতে দখল হস্তান্তর না হলেও দলিল রেজিস্ট্রেশনের সাথে সাথেই স্বত্ব হস্তান্তরিত হয়।

৪. হেবা বনাম হেবা-বিল-এওয়াজ: প্রধান ৫টি পার্থক্য

বৈশিষ্ট্যসাধারণ হেবাহেবা-বিল-এওয়াজ
১. প্রতিদানসম্পূর্ণ প্রতিদানহীন নিঃশর্ত দান।যেকোনো মূল্যের প্রতিদানের বিনিময়ে দান।
২. দখল হস্তান্তরদখল হস্তান্তর বাধ্যতামূলক।রেজিস্ট্রেশনই স্বত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ।
৩. বাতিল করার সুযোগশর্তসাপেক্ষে বিশেষ ক্ষেত্রে বাতিলযোগ্য।কোনো অবস্থাতেই দাতা কর্তৃক বাতিল করা যায় না।
৪. প্রি-অ্যাম্পশন (অগ্রক্রয়)শরিকরা অগ্রক্রয়ের মামলা করতে পারে না।অ-আত্মীয়ের ক্ষেত্রে অগ্রক্রয় প্রযোজ্য হতে পারে।
৫. সরকারি খরচ১৫ সম্পর্কের মধ্যে মাত্র ১০০ টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি।বিনিময়ের প্রকৃতি অনুযায়ী নিয়মিত কর প্রযোজ্য।
⚖️ আইনি কেস মূল্যায়ন ও চেম্বার অ্যাপয়েন্টমেন্ট

আপনার জমি বিরোধ, বাটোয়ারা মামলা, জামিন, তালাক বা সাইবার জটিলতায় বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে সুপ্রিম কোর্ট বা উত্তরা চেম্বারে নথিপত্রসহ সরাসরি বসুন।

জরুরি হোয়াটসঅ্যাপ সরাসরি কল: ০১৭১২-৬৫৫৫৪৬

৫. ২০২৬ সালে হেবা দলিল রেজিস্ট্রেশনের সরকারি খরচ

রক্তের সম্পর্কের ১৫ জন ব্যক্তির মধ্যে সাধারণ হেবা দলিল রেজিস্ট্রেশনের হালনাগাদ সরকারি খরচ:

  • রেজিস্ট্রেশন ফি: মাত্র ১০০ (একশত) টাকা।
  • স্ট্যাম্প শুল্ক: ২০০ (দুইশত) টাকা।
  • হলফনামা স্ট্যাম্প: ৩০০ (তিনশত) টাকা।
  • ই-ফি ও এন-ফি: প্রায় ৭০০ থেকে ১,০০০ টাকা।
  • উৎস আয়কর (53H) ও স্থানীয় সরকার কর: রক্তের সম্পর্কের হেবা দলিলের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ শূন্য (০%) বা মওকুফ।

অর্থাৎ মাত্র ২,০০০ থেকে ৩,০০০ টাকার সরকারি চালানে কোটি টাকার জমিও রক্তের সম্পর্কের মধ্যে বৈধভাবে হেবা রেজিস্ট্রি করা সম্ভব।

৬. হেবা দলিল কি বাতিল (Revoke) করা সম্ভব?

মুসলিম আইনের ১৬৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হেবা দলিলের দখল হস্তান্তরের পূর্বে দাতা যেকোনো সময় হেবা বাতিল করতে পারেন। কিন্তু একবার রেজিস্ট্রি হয়ে এবং দখল বুঝিয়ে দেওয়ার পর সাধারণ হেবা সহজে বাতিল করা যায় না। তবে নিচের ক্ষেত্রে দেওয়ানি আদালতের মাধ্যমে হেবা বাতিল হতে পারে:

  • প্রতারণা, জোরজবরদস্তি বা ভুল বুঝিয়ে হেবা দলিল সম্পাদন করা হলে।
  • গ্রহীতা যদি হেবার শর্ত (যেমন আজীবন ভরণপোষণ দেওয়া) ভঙ্গ করে।
  • দখল হস্তান্তর না হয়ে থাকলে।

তবে স্বামী-স্ত্রী অথবা রক্তের নিষিদ্ধ সম্পর্কের (Prohibited Degree) আত্মীয়দের মধ্যে হেবা হলে তা আদালত ব্যতিরেকে একতরফা বাতিল করার কোনো সুযোগ নেই।

৭. ভুয়া হেবা দলিল চ্যালেঞ্জ করার দেওয়ানি মামলা

আমাদের দেশে প্রায়শই বয়োবৃদ্ধ বাবা-মায়ের অজান্তে কোনো চালাক সন্তান সমস্ত জমি নিজের নামে হেবা দলিল করিয়ে নেয়। ভুক্তভোগী বাবা বা বঞ্চিত ভাই-বোনেরা দেওয়ানি আদালতে দলিল বাতিলের মামলা (Suit for Cancellation of Deed) দায়ের করতে পারেন। সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ১৮৭৭-এর ৩৯ ধারা অনুযায়ী আদালত ভুয়া হেবা দলিল বাতিল ঘোষণা করতে পারেন।

৮. অভিজ্ঞ ভূমি বিশেষজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ

হেবা দলিল ভবিষ্যতে অন্যান্য ওয়ারিশদের সাথে পারিবারিক বিরোধের বড় কারণ হতে পারে। তাই হেবা করার সময় স্পষ্ট শর্তাবলি, সঠিক চৌহদ্দি এবং প্রত্যক্ষ দখল নিশ্চিত করে অভিজ্ঞ আইনজীবীর তত্ত্বাবধানে দলিল রেজিস্ট্রি করা বুদ্ধিমানের কাজ। আমাদের চেম্বারে হেবা দলিল ড্রাফটিং ও লিগ্যাল সিকিউরিটি যাচাইয়ের পরামর্শ দেওয়া হয়।

সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)

চাচা কি ভাতিজাকে ১০০ টাকা ফিতে হেবা করতে পারেন?

না। চাচা-ভাতিজার সম্পর্ক নির্ধারিত ১৫টি রক্তের সম্পর্কের মধ্যে পড়ে না। ফলে চাচা ভাতিজাকে জমি দিতে চাইলে নিয়মিত দানপত্র দলিল করতে হবে এবং দলিলের মূল্যের ওপর পুরো সরকারি শুল্ক ও কর পরিশোধ করতে হবে।

হেবা দলিলের পর কি নামজারি করা বাধ্যতামূলক?

হ্যাঁ, শতভাগ বাধ্যতামূলক। হেবা দলিল রেজিস্ট্রির পর অবিলম্বে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে ই-নামজারি আবেদন করে গ্রহীতার নামে নতুন খতিয়ান তৈরি করতে হবে, অন্যথায় দলিলে শতভাগ মালিকানা থাকা সত্ত্বেও বিক্রয় বা খাজনা দেওয়া যাবে না।

মৌখিকভাবে হেবা করে জমি দখল দিলে কি তা বৈধ হবে?

২০০৪ সালের ১ জুলাই থেকে বাংলাদেশে মৌখিক হেবা আইনত অকার্যকর। এখন হেবা অবশ্যই লিখিত এবং সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রি করা বাধ্যতামূলক।

হেবা-বিল-এওয়াজ কি পরে দাতা বাতিল করতে পারেন?

না। হেবা-বিল-এওয়াজে যেহেতু প্রতিদান গ্রহণ করা হয়, তাই প্রতিদান গ্রহণের পর কোনো অবস্থাতেই দাতা একতরফাভাবে হেবা-বিল-এওয়াজ দলিল বাতিল করতে পারেন না।

দায়বর্জন (Disclaimer): এই আর্টিকেলে পরিবেশিত তথ্যসমূহ কেবল আইনি সচেতনতা ও সাধারণ শিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনো প্রত্যক্ষ আইনি পরামর্শ (Legal Advice) নয় এবং এর মাধ্যমে কোনো আইনজীবী-মক্কেল সম্পর্ক (Attorney-Client Relationship) তৈরি হয় না। আপনার সুনির্দিষ্ট মামলার আইনি প্রতিকারের জন্য সরাসরি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বা জজ কোর্টের তালিকাভুক্ত বিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করুন।
আইনি সহায়তা বা জরুরি পরামর্শের প্রয়োজন?
যোগাযোগ করুন এডভোকেট মোঃ শাহ আলম: +880 1712-655546  |  WhatsApp
উত্তরা চেম্বার: বাড়ি ৪৬, রোড ৬/বি, সেক্টর ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০
কোর্ট চেম্বার: আইনজীবী সমিতি ভবন, ৪র্থ তলা, ৬/৭ কোর্ট হাউস স্ট্রিট, কোতোয়ালি, ঢাকা-১১০০