আয়কর নোটিশ পেলে কী করবেন: বাংলাদেশ গাইড
লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-03-02
⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়।
সরাসরি পরামর্শের জন্য
+880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে আয়কর নোটিশ পেলে অনেকে আতঙ্কিত হন। কিন্তু নোটিশ উপেক্ষা করা আরও বিপজ্জনক। সঠিকভাবে সময়মতো জবাব দিলে বড় জরিমানা ও হয়রানি এড়ানো সম্ভব।
আয়কর নোটিশের প্রকারভেদ
এনবিআর বিভিন্ন উদ্দেশ্যে নোটিশ জারি করে:
- রিটার্ন দাখিলের নোটিশ: নির্দিষ্ট বছরের আয়কর রিটার্ন দাখিলের আহ্বান
- মূল্যায়ন নোটিশ: DCT আপনার আয় ও করদায় যাচাই করছেন জানানো
- কারণ দর্শানো নোটিশ: জরিমানা আরোপের কারণ দর্শানোর আদেশ
- অডিট/তদন্ত নোটিশ: রিটার্ন বিস্তারিত পরীক্ষার জন্য নির্বাচন
- দাবি নোটিশ: নির্দিষ্ট পরিমাণ কর অবিলম্বে পরিশোধের দাবি
প্রতিটি নোটিশের আলাদা জবাবের বাধ্যবাধকতা ও সময়সীমা রয়েছে। যেকোনো এনবিআর নোটিশ পেলে সঙ্গে সঙ্গে একজন কর আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ করুন।
আয়কর আইন ২০২৩: প্রধান পরিবর্তন
বাংলাদেশ ২০২৩ সালে আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ বাতিল করে আয়কর আইন ২০২৩ প্রণয়ন করে। ২০২৩-২৪ কর বছর থেকে কার্যকর। মূল পরিবর্তন:
- করের হার ও ছাড়ের সংশোধন
- ব্যবসায়িক ব্যয়ের প্রমাণ নথির কড়াকড়ি
- ডিজিটাল আয় ও ই-কমার্সে নতুন কর বিধান
- অপ্রকাশিত আয়ে কঠোর জরিমানা
- কর আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিলের সংশোধিত প্রক্রিয়া
নোটিশ পেলে প্রথমে কী করবেন
আয়কর নোটিশ পেলে:
- আতঙ্কিত হবেন না — কিন্তু উপেক্ষা করবেন না। প্রতিটি নোটিশের জবাবের সময়সীমা আছে।
- নোটিশ মনোযোগ দিয়ে পড়ুন — কোন কর বছর, কী ধরনের নোটিশ, কী কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে এবং জবাবের শেষ তারিখ।
- প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র সংগ্রহ করুন — আয়ের বিবরণী, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, বিনিয়োগের প্রমাণ।
- কর আইনজীবী বা চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের সাহায্য নিন।
- সময়সীমা মিস করবেন না। সময়মতো জবাব দিতে না পারলে মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করুন।
মূল্যায়ন নোটিশে কীভাবে জবাব দেবেন
মূল্যায়ন নোটিশে জবাব হওয়া উচিত:
- সম্পূর্ণ: নোটিশের প্রতিটি বিষয়ে জবাব দিন
- প্রমাণসমৃদ্ধ: প্রতিটি দাবির সাথে কাগজপত্র সংযুক্ত করুন
- আইনগতভাবে যুক্তিসম্মত: যেখানে আইন আপনার পক্ষে, সেখানে ধারা উল্লেখ করুন
- লিখিত ও প্রাপ্তিস্বীকারসহ: সব জবাব লিখিতভাবে জমা দিন এবং প্রাপ্তিস্বীকার রাখুন
কর দাবির বিরুদ্ধে আপিল
কর মূল্যায়ন বা দাবির সাথে দ্বিমত পোষণ করলে আপিলের সুযোগ আছে:
- কর কমিশনার (আপিল): মূল্যায়ন আদেশের ৪৫ দিনের মধ্যে — বিতর্কিত করের ১০% পূর্বশর্ত
- কর আপিল ট্রাইব্যুনাল: দ্বিতীয় স্তরের আপিল
- হাইকোর্টে রেফারেন্স: আইনের প্রশ্নে হাইকোর্টে যাওয়ার সুযোগ
বিতর্কিত দাবি আইনি পরামর্শ ছাড়া পরিশোধ করবেন না। অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম — ঢাকার কর ও ভ্যাট আইনজীবী — এনবিআর, কর আপিল ট্রাইব্যুনাল এবং হাইকোর্টে কার্যকর প্রতিনিধিত্ব করেন।
জরিমানা ও শাস্তি
এনবিআর নোটিশ উপেক্ষা করলে:
- রিটার্ন না দেওয়ার জন্য প্রতিদিন জরিমানা
- অপরিশোধিত করে সুদ
- সেরা বিচার মূল্যায়ন — DCT নিজে আয় অনুমান করেন, যা প্রায়ই বাস্তবের চেয়ে বেশি হয়
- গুরুতর কর ফাঁকিতে কারাদণ্ড
- ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা সম্পদ ক্রোক