বাংলাদেশে উত্তরাধিকার আইন: মৃত্যুর পর সম্পদ বণ্টনের নিয়ম
লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-03-02
⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়।
সরাসরি পরামর্শের জন্য
+880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।
কেউ মারা গেলে তার সম্পদ কে পাবেন? কতটুকু পাবেন? এই প্রশ্নের উত্তর বাংলাদেশে নির্ভর করে মৃতের ধর্ম, পরিবারের গঠন এবং উইল আছে কিনা — তার উপর।
বাংলাদেশে উত্তরাধিকার আইনের ভিত্তি
বাংলাদেশে উত্তরাধিকার মূলত ধর্মের উপর নির্ভর করে:
- মুসলিম: মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়া) — সাধারণত হানাফি মাজহাব অনুযায়ী
- হিন্দু: হিন্দু উত্তরাধিকার আইন
- খ্রিষ্টান ও অন্যান্য: উত্তরাধিকার আইন ১৯২৫
এই গাইড মুসলিম উত্তরাধিকার আইনের উপর কেন্দ্রীভূত — বাংলাদেশের ৯০% এর বেশি জনগোষ্ঠী মুসলিম।
মুসলিম উত্তরাধিকার: মূল নীতি
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনের মূল বৈশিষ্ট্য:
- মৃতের মৃত্যুর পরই সম্পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওয়ারিশদের মধ্যে বণ্টিত হয়
- প্রতিটি ওয়ারিশের অংশ কোরআন ও হাদিস দ্বারা নির্দিষ্ট
- উইল করা যায়, তবে সর্বোচ্চ এক-তৃতীয়াংশ সম্পদের উইল বৈধ
- হত্যাকারী বা ভিন্ন ধর্মের ব্যক্তি উত্তরাধিকার পান না
প্রধান ওয়ারিশ ও তাদের অংশ
মুসলিম আইনে ওয়ারিশদের দুই ভাগ: নির্দিষ্ট অংশপ্রাপ্ত (Sharers) এবং অবশিষ্ট প্রাপ্ত (Residuaries)।
উদাহরণ — স্বামী মারা গেলে, স্ত্রী ও এক পুত্র ও এক কন্যা থাকলে:
- স্ত্রী: ⅛ (সন্তান থাকলে), ¼ (সন্তান না থাকলে)
- পুত্র: কন্যার দ্বিগুণ অংশ (Residuary হিসেবে)
- কন্যা: পুত্রের অর্ধেক অংশ
জটিল পরিবারের ক্ষেত্রে সঠিক হিসাব করতে একজন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কন্যার উত্তরাধিকার
মুসলিম আইনে কন্যা সম্পদ পান — তবে পুত্রের অর্ধেক। এই নিয়ম অনেকে মানতে না চাইলেও এটি আইনগতভাবে বাধ্যকর। কন্যার উত্তরাধিকারের অধিকার:
- পিতার সম্পদে একক কন্যা পাবেন ½, দুই বা তার বেশি কন্যা মিলে পাবেন ⅔
- পুত্র ও কন্যা একসাথে থাকলে পুত্রের দ্বিগুণের তুলনায় কন্যার অংশ নির্ধারিত হয়
- মায়ের সম্পদেও কন্যা একইভাবে অংশ পাবেন
কন্যাকে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করা বাংলাদেশের আইনে সম্পূর্ণ অবৈধ।
উইল (ওসিয়ত): বৈধতা ও সীমা
মুসলিম আইনে উইল করার নিয়ম:
- সর্বোচ্চ মোট সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ উইল করা যায়
- অন্যান্য ওয়ারিশদের সম্মতি ছাড়া ওয়ারিশের পক্ষে উইল করা যায় না
- উইল লিখিত হওয়া জরুরি এবং দুজন সাক্ষী থাকতে হবে
- উইলকারীর মৃত্যুর আগে উইল বাতিলযোগ্য
সম্পত্তি হস্তান্তরের আইনি পথ বেছে নেওয়ার আগে একজন সম্পত্তি আইনজীবীর পরামর্শ নিন।
হেবা বা দান: জীবনকালীন হস্তান্তর
হেবা (Heba) মানে জীবনকালীন সম্পত্তি দান। মুসলিম আইনে বৈধ হেবার শর্ত:
- দানকারীর সম্পত্তির উপর পূর্ণ মালিকানা থাকতে হবে
- গ্রহীতাকে দখল দিতে হবে (সরবরাহ অপরিহার্য)
- কোনো বিনিময় ছাড়া দিতে হবে
হেবা সাধারণত উত্তরাধিকারের বাইরে থাকে — তবে মৃত্যুশয্যায় বা প্রতারণামূলকভাবে দেওয়া হেবা চ্যালেঞ্জ করা যায়।
উত্তরাধিকার বিরোধ: সমাধানের পথ
উত্তরাধিকার বিরোধে প্রথমে পারিবারিক আলোচনার চেষ্টা করুন। সমঝোতা না হলে:
- ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ করুন (ইউনিয়ন পরিষদ থেকে)
- দেওয়ানি আদালতে সম্পদ বণ্টনের মামলা করুন
- অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করুন — অন্য ওয়ারিশরা সম্পদ হস্তান্তর বা বিক্রয় করতে না পারেন
- আদালত কমিশন নিয়োগ করে সম্পদ মূল্যায়ন ও বণ্টন করতে পারেন
অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম — ঢাকা ও উত্তরার সম্পত্তি আইনজীবী — উত্তরাধিকারের যেকোনো বিরোধে কার্যকর আইনি পথ দেখাবেন।