লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-21 · ১৬ মিনিট
<p>জমি ক্রয়-বিক্রয়, ফ্ল্যাট নির্মাণ বা ডেভেলপার কোম্পানিকে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে সবচেয়ে প্রচলিত এবং গুরুত্বপূর্ণ আইনি দলিল হলো <strong>অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি</strong> (Irrevocable Power of Attorney)। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, আমমোক্তার বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি (যেমন কোনো ডেভেলপার বা মধ্যস্বত্বভোগী) চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করছেন, সময়মতো কাজ শেষ করছেন না, অথবা মূল মালিকের অজান্তেই জমি বিক্রি বা অনিয়মের আশ্রয় নিচ্ছেন। এমন জটিল পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মনে প্রধান উদ্বেগ তৈরি হয়—যে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিলে 'অপ্রত্যাহারযোগ্য' শব্দটি লেখা আছে, তা কি আদৌ আইনত বাতিল করা সম্ভব? উত্তর হলো: <strong>হ্যাঁ, আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট শর্ত ও প্রক্রিয়ায় এটি অবশ্যই বাতিল করা যায়।</strong></p><p>বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী <strong>অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</strong> জমিজমা ও দেওয়ানি বিরোধ নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে মক্কেলদের আইনানুগ সুরক্ষা দিয়ে আসছেন। পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সংক্রান্ত যেকোনো জটিল বিরোধ বা আইনি নোটিশ পাঠাতে সরাসরি পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন তার হটলাইনে: <strong>01712655546</strong>। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করব অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বাতিলের আইনি শর্ত, লিগ্যাল নোটিশের গুরুত্ব এবং দেওয়ানি আদালতের মামলা প্রক্রিয়া সম্পর্কে।</p>
সাধারণ ভাষায় পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা আমমোক্তারনামা হলো এমন একটি আইনি দলিল, যার মাধ্যমে মূল ভূমির মালিক অন্য কোনো ব্যক্তিকে তার পক্ষে জমি ব্যবস্থাপনা, ক্রয়-বিক্রয় বা উন্নয়নের বৈধ ক্ষমতা অর্পণ করেন। পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন ২০১২-এর ২(৪) ধারা অনুযায়ী, কোনো স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়, বিক্রয়ের চুক্তি সম্পাদন বা আর্থিক প্রতিদানের বিনিময়ে ডেভেলপারকে ফ্ল্যাট নির্মাণের ক্ষমতা দেওয়া হলে তা 'অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি' হিসেবে গণ্য হয়।
যেহেতু এতে আর্থিক দায়বদ্ধতা বা স্বার্থ সংশ্লিষ্ট (Power coupled with interest) থাকে, তাই সাধারণ দলিলের মতো চাইলেই একতরফাভাবে এটি প্রত্যাহার করা যায় না। কিন্তু এর মানে এই নয় যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি মূল মালিকের ক্ষতি করলেও মালিক আজীবন জিম্মি হয়ে থাকবেন।
অনেকেই মনে করেন, দলিলে 'অপ্রত্যাহারযোগ্য' শব্দ থাকলে আর কখনোই তা বাতিল করা যায় না। এটি একটি ভুল ধারণা। আইন কখনোই কাউকে প্রতারণা বা অধিকার হরণের লাইসেন্স দেয় না।
পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন ২০১২ এবং পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বিধিমালা ২০১৫ অনুসারে, যদি অ্যাটর্নি গ্রহীতা মূল চুক্তির মৌলিক শর্ত লঙ্ঘন করেন—যেমন নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে ফ্ল্যাট হস্তান্তর না করা, অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়া, বা মালিকের স্বার্থ পরিপন্থী বেআইনি কাজ করা—তাহলে মূল মালিক আইনগত নোটিশ প্রদান করে সেই ক্ষমতা বাতিল করার অধিকারী হন।
অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বাতিলের জন্য আইনে সুনির্দিষ্ট কিছু শর্ত ও ধাপ নির্ধারণ করা হয়েছে:
আইন অনুযায়ী অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সরাসরি ছিঁড়ে ফেলা বা মুখে মুখে বাতিল করা যায় না। বাতিলের সুনির্দিষ্ট কার্যপ্রণালী হলো:
যদি উভয় পক্ষ পারস্পরিক সমঝোতায় সম্মত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সশরীরে উপস্থিত হয়ে একটি 'রদ দলিল' বা বাতিলের দলিল (Deed of Cancellation/Revocation) রেজিস্ট্রি করে নিতে হয়। রদ দলিল রেজিস্ট্রি হওয়ার পর আগের পাওয়ার অব অ্যাটর্নির আর কোনো কার্যকারিতা থাকে না।
তবে অপর পক্ষ যদি অসহযোগিতা করে বা রেজিস্ট্রি অফিসে আসতে অস্বীকার করে, তখন দেওয়ানি আদালতের আশ্রয় গ্রহণ ছাড়া বিকল্প পথ থাকে না।
যদি অ্যাটর্নি গ্রহীতা বিরোধ নিষ্পত্তি না করে উল্টো জমির ওপর অবৈধ দখল বজায় রাখার চেষ্টা করেন বা তৃতীয় পক্ষের কাছে জমি বিক্রির পাঁয়তারা করেন, তবে অবিলম্বে উপযুক্ত এখতিয়ারবান দেওয়ানি আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে:
পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সংক্রান্ত বিবাদ অত্যন্ত টেকনিক্যাল এবং সামান্য ভুলেই কোটি টাকার সম্পত্তি হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। তাই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্বে সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করা অপরিহার্য। অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম দেওয়ানি ও ল্যান্ড ডিসপিউট সংক্রান্ত মামলায় দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় শত শত মক্কেলের সম্পত্তি পুনরুদ্ধার ও দলিল সুরক্ষায় সহায়তা করেছেন।
জরুরি পরামর্শ বা লিগ্যাল নোটিশ ড্রাফটিংয়ের জন্য সরাসরি যোগাযোগ করুন:
অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বাতিল, নোটিশ পাঠানো বা দেওয়ানি নিষেধাজ্ঞা মামলার বিষয়ে সরাসরি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবীর সাথে কথা বলুন:
আইনত একতরফাভাবে হঠাৎ করে বাতিল করা যায় না; প্রথমে অপর পক্ষকে সুনির্দিষ্ট কারণ দর্শিয়ে রেজিস্টার্ড ডাকযোগে ৩০ দিনের আইনি নোটিশ দিতে হয় এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে দেওয়ানি আদালতের আদেশের মাধ্যমে বাতিল করতে হয়।
রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এবং পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন ২০১২ অনুসারে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়ে চুক্তি বাতিল করা যায় এবং ক্ষতিপূরণসহ জমি ফেরতের জন্য মামলা দায়ের করা যায়।
উভয় পক্ষ সম্মত থাকলে সামান্য সরকারি ফি ও স্ট্যাম্প শুল্ক দিয়ে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রদ দলিল সম্পাদন করা সম্ভব। আর আদালতে মামলা করতে হলে নির্দিষ্ট অ্যাড ভ্যালোরেম বা নির্ধারিত কোর্ট ফি প্রয়োজন হয়।
মামলা ফাইল করার সাথে সাথেই দেওয়ানি কার্যবিধির অর্ডার ৩৯ অনুযায়ী জমিতে স্থিতাবস্থা (Status Quo) বা বিক্রয়ের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার (Injunction) জরুরি আবেদন করতে হয়।