জাল দলিল চেনার ৭টি উপায় ও ভুয়া দলিল বাতিল করার আইনি নিয়ম ২০২৬: দেওয়ানি ৩৯ ধারা মামলা ও শাস্তি

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-08-26

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

বাংলাদেশে ভূমি বিরোধের শতকরা ৮০ ভাগেরই মূল কারণ জাল দলিল ও ভুয়া পর্চা তৈরি করে অন্যের জমি গ্রাস করার অপচেষ্টা। কোনো ব্যক্তি যদি জালিয়াতি করে আপনার মালিকানাধীন জমির ভুয়া দলিল রেজিস্ট্রি করে ফেলে, তবে <strong>সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ১৮৭৭-এর ৩৯ ধারা অনুযায়ী দেওয়ানি আদালতে “দলিল বাতিল মোকদ্দমা” (Suit for Cancellation of Instrument)</strong> এবং ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৩ অনুযায়ী সরাসরি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা যায়। সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ জমি আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--gold);font-weight:bold;text-decoration:underline;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>-এর সরাসরি আইনি সহায়তার জন্য কল করুন <a href="tel:01712655546" style="color:var(--gold);font-weight:bold;">০১৭১২৬৫৫৫৪৬</a> নাম্বারে।

পেনাল কোড ১৮৬০-এর ৪৬৩ ও ৪৬৪ ধারা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি যদি অন্য কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে অসদুপায়ে কোনো মিথ্যা দলিল তৈরি করে, স্বাক্ষর জাল করে বা মৃত ব্যক্তির নামে ভুয়া আমমোক্তারনামা বানিয়ে রেজিস্ট্রি করায়, তবে তা জাল দলিল হিসেবে গণ্য হয়।

  1. স্ট্যাম্পের তারিখ ও ভেন্ডার নম্বর যাচাই: দলিলের স্ট্যাম্প ক্রয়ের তারিখ দলিল সম্পাদনের তারিখের পূর্ববর্তী হতে হবে। স্ট্যাম্পে উল্লেখিত লাইসেন্সধারী ভেন্ডারের খাতার সাথে মিল না থাকলে দলিলটি ভুয়া।
  2. সাব-রেজিস্ট্রি বালাম বই পরীক্ষা: দলিলের নম্বর, বালামের খণ্ড নম্বর ও পৃষ্ঠা নম্বরের সাথে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মূল বালাম বইয়ের এন্ট্রি মিলিয়ে দেখা।
  3. বায়া দলিলের ধারাবাহিকতা পরীক্ষা: বিক্রেতা কোথা থেকে জমি পেলেন (CS -> SA -> RS -> BS) তার চেইন অব টাইটেলে কোনো ছেদ বা অসঙ্গতি থাকলে দলিলটি সন্দেহজনক।
  4. স্বাক্ষর ও বৃদ্ধাঙ্গুলির ছাপ (Thumb Impression): মৃত ব্যক্তির বা জীবিত মালিকের স্বাক্ষর ফরেনসিক ল্যাবে সিআইডি দ্বারা হস্তরেখা পরীক্ষার মাধ্যমে জাল প্রমাণিত হয়।
  5. চৌহদ্দি ও দাগ নম্বরের অসঙ্গতি: ম্যাপ ও দাগের সাথে দলিলের চৌহদ্দি মিল না থাকা।
  6. সাব-রেজিস্ট্রারের সিল ও স্বাক্ষর: সাব-রেজিস্ট্রারের অফিশিয়াল সিল ও স্বাক্ষরের কালির মেয়াদ ও স্টাইল যাচাই।
  7. দখলের ইতিহাস: যে দলিলের পেছনে কোনো বাস্তব শারীরিক দখল নেই, সে দলিল আদালতে প্রমাণ করা প্রায় অসম্ভব।

দলিল যাচাইয়ের জন্য সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে নির্দিষ্ট ফি জমা দিয়ে তল্লাশি ফরম দাখিল করতে হয়। নকল নবিস বালাম বের করে নিশ্চিত করবেন ওই দলিল নম্বরটি প্রকৃতপক্ষে ওই রেজিস্ট্রি অফিসে নিবন্ধিত হয়েছে কিনা।

তামাদি আইন ১৯০৮-এর ৯১ ও ৯২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাল দলিলের কথা জানার ৩ বছরের মধ্যে সহকারী জজ বা যুগ্ম জেলা জজ আদালতে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৯ ধারায় মামলা করতে হয়। আদালত দলিলটিকে বেআইনি ও বাতিল ঘোষণা করে সাব-রেজিস্ট্রার বরাবর ডিক্রির কপি পাঠিয়ে বালামে "বাতিল" লিখে দেওয়ার আদেশ দেন।

জাল দলিলের ওপর ভিত্তি করে যদি চক্রটি সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে নামজারি করে ফেলে, তবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বরাবর মিস আপিল দায়ের করে ওই নামজারি খতিয়ান অবিলম্বে বাতিল করানো যায়।

ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৩-এর ৪ ও ৫ ধারা অনুযায়ী জাল দলিল তৈরি বা সহযোগিতাকারীদের বিরুদ্ধে সরাসরি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি মামলা করা যায়, যার শাস্তি সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড।

জাল দলিল বাতিলের দেওয়ানি মোকদ্দমা ও জমির নিরঙ্কুশ মালিকানা রক্ষায় সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম-এর আইনি পরামর্শ নিন। যোগাযোগ: ০১৭১২৬৫৫৫৪৬।