লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-21 · ১৮ মিনিট
<p>বাংলাদেশে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের অন্যতম প্রধান কারণ হলো জাল বা ভুয়া দলিল সৃষ্টি করা। কোনো অসাধু ব্যক্তি বা ভূমিদস্যু চক্র অনেক সময় মৃত ব্যক্তির নামে ভুয়া বিক্রেতা সাজিয়ে, অন্যের ছবির ওপর নিজের ছবি লাগিয়ে, জাল সই বা টিপসহি দিয়ে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে জাল কবলা বা দানপত্র দলিল রেজিস্ট্রি করে ফেলে। পরবর্তীতে সেই জাল দলিলের ওপর ভিত্তি করে নামজারি কেটে মূল প্রকৃত মালিককে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদের হুমকি দেয়। নিজের বৈধ পৈতৃক বা ক্রয়কৃত জমির ওপর অন্য কারো জাল দলিল দেখলে আতঙ্কিত হওয়া স্বাভাবিক। তবে দেশের দেওয়ানি বিচারব্যবস্থায় জাল দলিল সম্পূর্ণরূপে বাতিল ও অকার্যকর ঘোষণার জন্য সুনির্দিষ্ট আইনি প্রতিকার রয়েছে।</p><p>বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী <strong>অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</strong> জমিজমা সংক্রান্ত প্রতারণা, জাল দলিল শনাক্তকরণ এবং দেওয়ানি আদালতে দলিল বাতিলের মামলায় দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে মক্কেলদের পক্ষে লড়াই করে আসছেন। জাল দলিলের কারণে আপনার পৈতৃক বা ক্রয়কৃত সম্পত্তি নিয়ে শঙ্কায় থাকলে অবিলম্বে সঠিক আইনি পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন তার হটলাইনে: <strong>01712655546</strong>। আজকের এই বিশদ নির্দেশিকায় আমরা আলোচনা করব সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৯ ধারার আলোকে জাল দলিল বাতিলের মামলা, তামাদির মেয়াদ এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র সম্পর্কে।</p>
ভূমি অপরাধ প্রতিরোধে আইন কঠোর হওয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন কূটকৌশলে জাল দলিল তৈরি করা হয়। সাধারণত:
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ১৮৭৭ (Specific Relief Act, 1877)-এর ধারা ৩৯ অনুযায়ী:
"যে কোনো ব্যক্তি যার বিরুদ্ধে কোনো লিখিত দলিল বাতিলযোগ্য বা অকার্যকর এবং যার যুক্তিসঙ্গত আশঙ্কা রয়েছে যে দলিলটি বলবৎ থাকলে তার গুরুতর ক্ষতি হতে পারে, তিনি উক্ত দলিল বাতিল ঘোষণার জন্য আদালতের শরণাপন্ন হতে পারেন; এবং আদালত তার স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে দলিলটি বাতিল করে রায় ও ডিক্রি দিতে পারেন।"
যদি দলিলটি সরকারি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রি করা হয়ে থাকে, তবে আদালত দলিলটি বাতিল ঘোষণার পর রায়ের একটি কপি সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রারের নিকট প্রেরণ করেন, যাতে তিনি তার ভলিউম বইতে উক্ত দলিল বাতিল মর্মে সরকারি লাল কালিতে নোট লিপিবদ্ধ করেন।
দলিল বাতিলের মামলায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তামাদি আইন (Limitation Act, 1908)। এই আইনের প্রথম তফসিলের ৯১ অনুচ্ছেদ অনুসারে:
দেওয়ানি আদালতে মামলা শক্তিশালী করতে নিচের নথিপত্রগুলো সংগ্রহ করা জরুরি:
যখন বিবাদী দাবি করে যে মূল মালিক নিজেই দলিলে সই বা টিপসহি দিয়েছেন, তখন আদালত সিআইডির (CID) হস্তরেখা বিশারদ বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশেষজ্ঞের মতামত গ্রহণ করেন। মূল মালিকের অন্যান্য নিশ্চিত স্বীকৃত দলিল, পাসপোর্ট বা ব্যাংকের স্বাক্ষরের সাথে জাল দলিলের স্বাক্ষরের মাইক্রোস্কোপিক তুলনামূলক রিপোর্ট আদালতে অকাট্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ হিসেবে কাজ করে।
দেওয়ানি আদালতে দলিল বাতিলের ডিক্রি নেওয়ার পাশাপাশি প্রতারকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার জন্য জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দণ্ডবিধির ৪৬৭ (মূল্যবান সিকিউরিটি জালিয়াতি), ৪৬৮ (প্রতারণার উদ্দেশ্যে জালিয়াতি) ও ৪৭১ ধারায় ফৌজদারি মামলা দায়ের করা যায়। এছাড়া ২০২৩ সালে প্রণীত নতুন 'ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন'-এর আওতায় ভুয়া দলিল তৈরির অপরাধে সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
জাল দলিল বাতিলের দেওয়ানি মামলা অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও কৌশলগত। আরজিতে সামান্য অসতর্কতায় বা তামাদির গণনায় ভুল হলে ন্যায়বিচার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম বহু জটিল জমিজমা বিরোধ ও জাল দলিল বাতিলের মামলায় মক্কেলদের ন্যায্য মালিকানা ফিরিয়ে দিতে সফল ভূমিকা রেখেছেন।
আপনার জমির ওপর কোনো ভুয়া দলিল হয়েছে কিনা তা যাচাই বা বাতিলের মামলার জন্য সরাসরি যোগাযোগ করুন:
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৯ ধারায় ভুয়া দলিল বাতিলের মামলা বা নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবীর সাথে সরাসরি কথা বলুন:
না, একবার দলিল রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়ে গেলে সাব-রেজিস্ট্রারের সেই দলিল বাতিল করার কোনো আইনগত ক্ষমতা নেই; কেবলমাত্র উপযুক্ত দেওয়ানি আদালতই দলিল বাতিলের ডিক্রি দিতে পারেন।
তামাদি আইন অনুসারে জাল দলিলের অস্তিত্ব সম্পর্কে প্রথম জানার তারিখ থেকে ৩ বছরের মধ্যে দেওয়ানি আদালতে মামলা দাখিল করা আবশ্যক।
সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসি ল্যান্ডের নিকট মিস কেস (Miss Case) দাখিল করে ভুয়া নামজারি বাতিলের আবেদন করতে হয় এবং দেওয়ানি আদালতে দলিল বাতিলের মামলা করতে হয়।
মামলা দায়েরের সাথে সাথেই দেওয়ানি কার্যবিধির ৩৯ আদেশের ১ ও ২ নিয়ম অনুযায়ী জমিতে স্থিতাবস্থা (Status Quo) বা বিক্রয়ের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করতে হয়।