লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-13 · ১০ মিনিট পড়ুন
জমি বা ফ্ল্যাট কেনাবেচার সময় রেজিস্ট্রেশন খরচ বাঁচাতে অনেকেই দলিলের লিখিত মূল্য সরকারি মৌজা মূল্যের সমান দেখিয়ে গোপনে বাকি টাকা ক্যাশে লেনদেন করেন। পরবর্তীতে এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (CIC) যখন তদন্তে নামে, তখন বিক্রেতা ও ক্রেতা উভয়ের কাছেই কোটি টাকার উৎসে কর ও কালোধনের নোটিশ চলে আসে। এমন আইনি ফাঁদ থেকে নিরাপদ থাকার নিয়ম তুলে ধরেছেন আয়কর ও দেওয়ানি আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>।
| বিষয় / শর্ত | সরকারি নিয়ম, ফি ও আইন (২০২৬) |
|---|---|
| প্রযোজ্য আইন ও আদালত | বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০, ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ (CrPC) ও সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্ট বিভাগ |
| আগাম ও নিয়মিত জামিন | হাইকোর্ট বিভাগে আগাম জামিন (ধারা ৪৯৮ CrPC) ও ম্যাজিস্ট্রেট/দায়রা আদালতে নিয়মিত জামিন |
| সরকারি পোর্টাল ও যাচাই | supremecourt.gov.bd, judiciary.gov.bd, pcc.police.gov.bd ও land.gov.bd |
| জরুরি আইনি পরামর্শ চেম্বার | অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম (বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট) — ০১৭১২-৬৫৫৫৪৬ |
নতুন আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী জমি রেজিস্ট্রির সময় বিক্রেতার অনুকূলে নির্ধারিত উৎসে কর (Advance Income Tax বা AIT) কর্তন করা হয়। এলাকাভেদে (যেমন: ঢাকা গুলশান, বনানী, উত্তরা কিংবা সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা এলাকা) কাঠাপ্রতি বা দলিলের শতকরা হারে নির্দিষ্ট পরিমাণ কর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সরকারি চালানের মাধ্যমে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন দলিল রেজিস্ট্রি হয়ে যাওয়া মানেই কাজ শেষ! বাস্তবে দুটি বড় ভুল হয়:
বর্তমানে সাব-রেজিস্ট্রারদের প্রতি মাসে নির্দিষ্ট মূল্যের ওপরে হওয়া সমস্ত জমি রেজিস্ট্রির তালিকা এনবিআরের সেন্ট্রাল রিস্ক ম্যানেজমেন্ট টিমের কাছে পাঠাতে হয়। করদাতাদের রিটার্নের সাথে সাব-রেজিস্ট্রারের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্রস-ম্যাচিং করার মাধ্যমে কর কর্মকর্তারা গোপন লেনদেনের নোটিশ জারি করেন।
নোটিশ পাওয়ার পর ভয় না পেয়ে ব্যাংকিং ট্রানজেকশনের স্টেটমেন্ট, অতীতের জমানো পারিবারিক সঞ্চয়, বৈধ ঋণ বা পূর্বের সম্পদ বিক্রির অর্থ দিয়ে তহবিল গঠন (Source of Fund) প্রমাণ করতে হয়। উপযুক্ত কর আইনজীবীর মাধ্যমে ড্রাফট করা লিখিত ব্যাখ্যা ডিসিটির নিকট উপস্থাপন করলে কোনো অবৈধ জরিমানার মুখে পড়তে হয় না।
আপনার জমি বিরোধ, বাটোয়ারা মামলা, জামিন, তালাক বা সাইবার জটিলতায় বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে সুপ্রিম কোর্ট বা উত্তরা চেম্বারে নথিপত্রসহ সরাসরি বসুন।
জমি ক্রয়ের বছরেই আয়কর রিটার্নের সাথে সংযুক্ত ‘পরিশিষ্ট: পরিসম্পদ ও দায়ের বিবরণী’ (IT-10B)-তে জমির সম্পূর্ণ ক্রয়মূল্য, রেজিস্ট্রেশন খরচ এবং স্ট্যাম্প শুল্কের সঠিক অংক প্রদর্শন করতে হবে। এতে ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য জমিটি সম্পূর্ণ ‘হোয়াইট’ বা বৈধ মূলধন হিসেবে স্বীকৃত থাকবে।
জমি বিক্রির সময় যে উৎসে কর কর্তন করা হয়েছে, তা পরবর্তীতে রিটার্ন দাখিলের সময় সমন্বয়ের সুযোগ রয়েছে। যদি বিক্রেতা ওই টাকা দিয়ে পুনরায় নতুন জমি কেনেন বা আইনানুগ খাতে বিনিয়োগ করেন, তবে নির্দিষ্ট শর্তে ক্যাপিটাল গেইনের ওপর কর রেয়াত লাভ করা যায়।
জমি কেনাবেচার চুক্তি চূড়ান্ত করার পূর্বে: