লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-07-22
বাংলাদেশে কষ্টার্জিত জমানো টাকা দিয়ে জমি কিনতে গিয়ে হাজার হাজার মানুষ জাল দলিল, ভুয়া খতিয়ান বা ভুয়া মালিকের খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব হারান। জমি রেজিস্ট্রির পর যদি জানা যায় বিক্রেতার জমি বিক্রি করার আইনি অধিকারই ছিল না, তবে টাকা ও জমি দুটোই নষ্ট হয়। জমি কেনার বায়না করার আগেই ১০টি গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা উচিত। ভূমি আইন বিশেষজ্ঞ আইনজীবীর প্রস্তুতকৃত জমি ক্রয়ের পূর্ণাঙ্গ আইনি চেকলিস্ট নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। যেকোনো জটিল আইনি সমস্যায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>-এর আইনি পরামর্শ নিতে পারেন।
জমি ক্রয়ের প্রথম শর্ত হলো ভাটি বা দলিলের ধারাবাহিকতা (Via Deeds) খতিয়ে দেখা। বিক্রেতা যদি বায়না দলিলে দাবি করেন যে তিনি জমিটি কিনেছেন, তবে তার আগের মূল পিট দলিলের (Parent Deed) সার্টিফাইড কপি ও মূল দলিল দেখতে হবে। অন্তত বিগত ২৫ বছরের মালিকানার ইতিহাস স্পষ্ট থাকতে হবে।
বাংলাদেশের জমির চারটি প্রধান জরিপ খতিয়ান রয়েছে। সিএস (CS) থেকে শুরু করে এসএ (SA), আরএস (RS) এবং সর্বশেষ সিটি জরিপ বা বিএস (BS) খতিয়ানের মালিকের নাম ও দাগ নম্বর সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না মেলাতে হবে।
যদি সিএস মালিকের সাথে বর্তমান বিক্রেতার মালিকানার লিঙ্ক কাটা পড়ে, তবে তা আইনিভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।
বিক্রেতা জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার আগে তার নিজস্ব নামে সহকারী কমিশনার (ভূমি) / AC Land অফিস থেকে ই-নামজারি (E-Namjari) করিয়ে নিয়েছেন কি না এবং হাল সন (চলতি বছর) পর্যন্ত খাজনা দেওয়া আছে কি না তা land.gov.bd পোর্টালে যাচাই করতে হবে।
বিক্রেতা জমিটি ব্যাংক লোন নেওয়ার জন্য বন্ধক (Mortgage) রেখেছেন কি না বা অন্য কারও কাছে বায়না করে রেখেছেন কি না তা জানার জন্য সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সরকারি ফি দিয়ে ১২ বছরের সার্চ বা তল্লাশি (Search) দিতে হয়।
কাগজে জমি ঠিক থাকলেও বাস্তবে যদি অন্য কেউ ঘরবাড়ি তুলে দখলে থাকে বা পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি নিয়ে ঝামেলা থাকে, তবে পরে দখল পেতে বছরের পর বছর আদালতে দৌড়াতে হবে। তাই সরজমিনে গিয়ে আশেপাশের প্রতিবেশীদের সাথে কথা বলে প্রকৃত দখল নিশ্চিত করতে হবে।
⚖️ বিশেষজ্ঞ আইনি পরামর্শের জন্য যোগাযোগ: আপনার আইনি বিষযটি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম-এর সাথে সরাসরি কথা বলুন বা আমাদের বিশেষজ্ঞ আইনি সেবা গ্রহণ করুন। যেকোনো প্রয়োজনে সরাসরি যোগাযোগ পেজে ক্লিক করুন।