লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-15
গ্রাম বা শহরের জমিতে ১-২ ফুট সীমানা নিয়ে বিরোধ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এমনকি হত্যা পর্যন্ত রূপ নেয়। প্রতিবেশী রাতের আঁধারে সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলা বা জোরপূর্বক নিজের সীমানার খুঁটি সরিয়ে জমি গ্রাস করার চেষ্টা করলে অনেকেই দ্বিধায় পড়েন কীভাবে আইনিভাবে মাপঝোক করবেন। মারামারি না করে সরকারিভাবে জমি মেপে স্থায়ী সীমানা প্রাচীর দেওয়ার সঠিক আইনি প্রক্রিয়া তুলে ধরেছেন সুপ্রিম কোর্টের প্র্যাকটিসিং আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>।
অধিকাংশ সীমানা বিরোধ ঘটে সরকারি মৌজা নকশা (CS/RS/BS Map) এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব দখলের মধ্যে অমিলের কারণে। অনেকে নিজের দলিলে উল্লিখিত শতক হিসেবে জমি দখলে পেলেও মৌজা ম্যাপের লাইন অনুযায়ী দাগের আকার বেঁকে যাওয়ার ফলে সীমানা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি বা জবরদখলের সূচনা হয়।
জমি মাপার পূর্বে চারপাশের সকল সীমানা শরিকদের (চৌহদ্দির মালিক) কমপক্ষে ৩ থেকে ৭ দিন পূর্বে লিখিত নোটিশ দিন। বিজ্ঞ আমিন দ্বারা সীমানা মাপার সময় তিনটি স্থায়ী সীমানা বিন্দু বা বাউন্ডারি পিলার (যেমন- পাকা সড়ক, সরকারি খাল বা স্থায়ী প্রাচীন স্থাপনা) থেকে ফিতা টেনে ত্রিকোণমিতিক পদ্ধতিতে দাগের সঠিক সীমানা চিহ্নিত করতে হবে।
যদি প্রতিবেশী আপসে জমি মাপতে অস্বীকার করে বা মাপার সময় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (UNO) বা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর নির্ধারিত সরকারি ফি জমা দিয়ে ‘সরকারি কানুনগো বা সার্ভেয়ার দ্বারা সীমানা চিহ্নিতকরণ’-এর আবেদন করা যায়। সরকারি কর্মকর্তা পুলিশ পাহারায় উপস্থিত থেকে সরকারি মৌজা ম্যাপ অনুযায়ী লাল নিশান টাঙিয়ে সীমানা নির্ধারণ করে দেন।
প্রতিবেশী যদি সীমানা না মেনে জোর করে দেয়াল বা ঢালাই তোলার চেষ্টা করে, তবে তাৎক্ষণিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ বা ১৪৫ ধারায় মামলা করতে হবে। ম্যাজিস্ট্রেট তাৎক্ষণিকভাবে ওই স্থানে স্থিতাবস্থা (Status Quo) জারি করে পুলিশকে অবৈধ নির্মাণ বন্ধের নির্দেশ প্রদান করবেন।
স্থায়ী সমাধানের জন্য উপযুক্ত দেওয়ানী সহকারী জজ আদালতে ‘সীমানা নির্ধারণ ও স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা’ (Demarcation & Permanent Injunction) মোকদ্দমা দায়ের করা যায়। আদালত একজন নিরপেক্ষ অ্যাডভোকেট সার্ভে কমিশনার (Survey Commissioner) নিয়োগ করে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে জমি মেপে আদালতের সিলমোহরযুক্ত চূড়ান্ত সীমানা প্রাচীর নির্মাণের হুকুম প্রদান করেন।
নতুন ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের ৭ ধারা অনুযায়ী সীমানা পিলার বা প্রাচীর ভেঙে অন্যের জমি দখল করা বা অবৈধভাবে সীমানা পরিবর্তন করা সরাসরি দণ্ডনীয় অপরাধ, যার জন্য সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।