লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-08-10 · ২০ মিনিট
বাবা বা মায়ের মৃত্যুর পর সম্পত্তি ভাগ নিয়ে পরিবারে বিরোধ বাংলাদেশে অত্যন্ত সাধারণ ঘটনা। ভাই বোনের মধ্যে কতটুকু জমি যাবে, মা জীবিত থাকলে কতটুকু পাবেন—এই প্রশ্নের উত্তর না জানলে আপনি প্রতারিত হতে পারেন। মুসলিম ফারায়িজ আইন ও বাংলাদেশ উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী ভাই-বোনের অংশের সঠিক গাণিতিক হিসাবসহ এই গাইডে সব কিছু বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--gold);font-weight:bold;text-decoration:underline;">মো. শাহ আলম</a>-এর সরাসরি পরামর্শ পেতে কল করুন: <a href="tel:01712655546" style="color:var(--gold);font-weight:bold;">01712655546</a>।
বাংলাদেশে মুসলিম উত্তরাধিকার আইন (Muslim Personal Law - Shariat Application Act 1937) এবং পবিত্র কুরআনের সূরা আন-নিসার নির্দেশনা অনুযায়ী বাবার মৃত্যুর পর তার সমস্ত স্থাবর (জমি, বাড়ি) ও অস্থাবর (নগদ অর্থ, সোনা) সম্পত্তি ওয়ারিশদের মধ্যে বণ্টিত হয়।
বাবার সম্পত্তিতে প্রধান ওয়ারিশ ও তাদের অংশ:
| ওয়ারিশ | শর্ত | অংশ |
|---|---|---|
| স্ত্রী (মা) | সন্তান থাকলে | ১/৮ (আট ভাগের এক) |
| স্ত্রী (মা) | সন্তান না থাকলে | ১/৪ (চার ভাগের এক) |
| ছেলে | অবশিষ্ট সম্পত্তি থেকে | মেয়ের দ্বিগুণ (২:১) |
| মেয়ে | অবশিষ্ট সম্পত্তি থেকে | ছেলের অর্ধেক (১:২) |
উল্লেখযোগ্য বিষয়: বাবার পিতামাতা (দাদা-দাদি) জীবিত থাকলে তারাও অংশ পাবেন। দাদা-দাদির উপস্থিতিতে হিসাব কিছুটা জটিল হয়ে যায়।
মায়ের মৃত্যুর পর তার সম্পত্তিতে প্রধান ওয়ারিশ হলেন তার স্বামী ও সন্তানেরা। মায়ের সম্পত্তির ক্ষেত্রেও একই ফারায়িজ আইন প্রযোজ্য।
মায়ের সম্পত্তিতে ওয়ারিশদের অংশ:
অর্থাৎ মায়ের মৃত্যুর পর বাবা জীবিত থাকলে বাবা ১/৪ অংশ পাবেন, বাকি ৩/৪ অংশ সন্তানেরা ২:১ অনুপাতে ভাগ করবে।
অনেকে প্রশ্ন করেন — মায়ের নিজের নামে কেনা বা উপহার পাওয়া জমিতে কি ছেলে-মেয়েরা মায়ের জীবদ্দশায় অধিকার পাবে? উত্তর হলো না।
মা জীবিত থাকাকালীন মায়ের নামে থাকা সম্পত্তিতে ছেলে-মেয়ে কোনো আইনি দাবি করতে পারে না। মা নিজের ইচ্ছামতো সেই সম্পত্তি বিক্রি, দান বা হেবা করতে পারেন।
মায়ের মৃত্যুর পরেই তার সম্পত্তিতে ছেলে-মেয়েদের উত্তরাধিকার আইনি অধিকার সৃষ্টি হয়। তখন বাবা, ছেলে ও মেয়েরা উপরে উল্লিখিত অনুপাতে সম্পত্তির মালিক হন।
⚠️ গুরুত্বপূর্ণ: মৃত মায়ের সম্পত্তিতে ছেলে-মেয়ে অধিকার পেলেও সেটা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করতে প্রথমে ওয়ারিশ সনদ (Succession Certificate) সংগ্রহ করতে হবে এবং তারপর বাটোয়ারা দলিল করতে হবে।
প্রথমে মায়ের অংশ বের করি: ১/৮ × ১২ = ১.৫ বিঘা (মায়ের)
বাকি: ১২ - ১.৫ = ১০.৫ বিঘা (ছেলে-মেয়েদের)
ভাই পয়েন্ট: ২ জন × ২ = ৪
বোন পয়েন্ট: ২ জন × ১ = ২
মোট পয়েন্ট: ৬
প্রতিটি ভাই: (২/৬) × ১০.৫ = ৩.৫ বিঘা
প্রতিটি বোন: (১/৬) × ১০.৫ = ১.৭৫ বিঘা
বাবা মৃত, কোনো ভাই নেই, তাই ৩ বোন সমান অংশ পাবে।
প্রতিটি বোন: ৯ ÷ ৩ = ৩ বিঘা
(মুসলিম আইনে একমাত্র মেয়ে থাকলে সে ১/২ পায়; ২ বা তার বেশি মেয়ে থাকলে মোট সম্পত্তির ২/৩ পায়, বাকি অংশ দূরবর্তী আত্মীয় পায়। কিন্তু যদি কোনো ছেলে সন্তান না থাকে তাহলে তারা অবশিষ্ট নিয়ে নিতে পারে যদি কোনো আসাবা না থাকে।)
জমি ভাগ করতে হলে অবশ্যই সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রি বাটোয়ারা দলিল করতে হবে। শুধু মৌখিক বা স্ট্যাম্পে লিখিত সমঝোতা আইনত বৈধ বলে স্বীকৃত নয় এবং এর মাধ্যমে ই-নামজারি করা সম্ভব নয়।
বাটোয়ারা দলিল করার ধাপ:
সরকারি বাটোয়ারা দলিল রেজিস্ট্রি ফি তুলনামূলকভাবে কম, সাধারণত ৫০০-৩,০০০ টাকার মধ্যে।
বাংলাদেশে একটি সাধারণ সমস্যা হলো ভাইয়েরা বোনদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করে। এটি সম্পূর্ণ বেআইনি। বোনরা নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নিতে পারেন:
মামলা করার জন্য নির্ধারিত কোনো সময়সীমা (Limitation) নেই, তবে যত দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন ততই ভালো।
যখন আপোস সম্ভব না হয়, তখন দেওয়ানী আদালতে বাটোয়ারা মামলা (Partition Suit) একমাত্র পথ। এটি সহকারী জজ আদালতে দায়ের করতে হয়।
বাটোয়ারা মামলার খরচ: কোর্ট ফি সম্পত্তির বাজার মূল্যের উপর নির্ভর করে, সাধারণত ৩০০-৫,০০০ টাকা। আইনজীবী ফি আলাদা।
কত দিনে মামলা শেষ হয়: সাধারণত ৩-৭ বছর লাগতে পারে। তবে প্রাথমিক ডিক্রি (আংশিক রায়) পেতে ১-২ বছর লাগে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:
জমি ভাগের হিসাব, বাটোয়ারা দলিল তৈরি বা আদালতে বাটোয়ারা মামলার জন্য বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম-এর সহায়তা নিন।
না। মায়ের মৃত্যুর পর তার সম্পত্তি ছেলে ও মেয়ে উভয়ই পাবে, তবে ২:১ অনুপাতে (ছেলে বেশি)। বাবা জীবিত থাকলে তিনিও ১/৪ অংশ পাবেন।
না। সম্পত্তি যদি ওয়ারিশ হিসেবে বোনের অধিকারে থাকে, তাহলে ভাই একা বিক্রি করতে পারবে না। এটি আইনত বেআইনি এবং বোন আদালতে চ্যালেঞ্জ করতে পারবে।
না। বাবা বা মা জীবিত থাকলে তার সম্পত্তিতে সন্তানদের কোনো আইনি দাবি নেই। তাদের মৃত্যুর পরই উত্তরাধিকার সত্ত্ব সৃষ্টি হয়।
বাটোয়ারা মামলার কোর্ট ফি সম্পত্তির মূল্যের উপর নির্ভর করে, সাধারণত ৩০০-৫,০০০ টাকা। আইনজীবী ফি আলাদা, সাধারণত ১০,০০০-৫০,০০০ টাকা বা তার বেশি হতে পারে।
হ্যাঁ। হিন্দু উত্তরাধিকার আইনেও মেয়েরা সম্পত্তির অধিকার পায়। তবে হিন্দু আইনে বণ্টনের নিয়ম কিছুটা ভিন্ন।