লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-07-24 · ৮ মিনিট পড়ুন
মুসলিম পারিবারিক আইনে দেনমোহর (Mahr) নারীর একটি আইনগত ও ধর্মীয় অধিকার, যা স্বামী পরিশোধ করতে বাধ্য। অনেক সময় দেখা যায় বিবাহিত অবস্থায় কিংবা ডিভোর্সের পর স্বামী দেনমোহরের টাকা পরিশোধ না করে টালবাহানা করে বা অস্বীকার করে। একই সাথে স্ত্রী ও সন্তানের আইনসম্মত খোরপোশ (Maintenance) প্রদান না করার ঘটনাও ঘটে। এ ক্ষেত্রে ফ্যামিলি কোর্টে (Family Court) মামলা দায়ের করে দেনমোহর ও খোরপোশের টাকা পুরোপুরি আদায় করা সম্ভব। পারিবারিক আইনের যেকোনো জটিলতায় বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>-এর সহায়তা নিন।
| বিষয় / শর্ত | সরকারি নিয়ম, ফি ও আইন (২০২৬) |
|---|---|
| প্রযোজ্য আইন ও বিধিমালা | মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন ১৯৭৪ ও বিধিমালা ২০০৯ (সংশোধিত) |
| প্রথম ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত দেনমোহর | প্রতি ১,০০০ টাকায় ১২.৫০ টাকা (অর্থাৎ প্রতি লাখে ১,২৫০ টাকা) |
| ৪ লাখ টাকার অতিরিক্ত দেনমোহর | পরবর্তী প্রতি ১ লাখ বা অংশবিশেষের জন্য মাত্র ১০০ টাকা |
| সর্বনিম্ন সরকারি নিবন্ধন ফি | ২০০ টাকা (দেনমোহর কম হলেও সর্বনিম্ন ২০০ টাকা প্রযোজ্য) |
| রসিদ ও সনদ যাচাই | কাজী অফিসের সরকারি রসিদ বহি ও নিবন্ধিত নিকাহনামা (ফরম-ডি) |
মুসলিম আইন অনুযায়ী দেনমোহর কোনো দান বা উপঢৌকন নয়; বরং এটি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর স্ত্রীর প্রতি স্বামীর অর্পিত একটি সুনির্দিষ্ট আর্থিক দায়। দেনমোহর স্ত্রীর একচ্ছত্র ব্যক্তিগত সম্পত্তি।
দেনমোহর পরিশোধের আইনি সময়:
যে কোনো পারিবারিক আইনি পরামর্শের জন্য পারিবারিক ও তালাক আইনি বিশেষজ্ঞদের সাথে যোগাযোগ করা উচিত।
বিবাহ রেজিস্ট্রির সময় নিকাহনামা বা কবিননামার ১৩, ১৪ ও ১৫ নম্বর কলামে দেনমোহরের মোট পরিমাণ এবং পরিশোধের নিয়ম লেখা থাকে।
দেনমোহর দুই ভাগে বিভক্ত:
যদি কবিননামায় দেনমোহর আসু নাকি বিলম্বিত তা স্পষ্ট লেখা না থাকে, তবে আইন অনুযায়ী দেনমোহরের অর্ধেক আসু এবং অর্ধেক বিলম্বিত হিসেবে গণ্য হয়।
অনেকের মধ্যে একটি ভুল ধারণা আছে যে ডিভোর্স না হলে দেনমোহর বা খোরপোশের মামলা করা যায় না। কিন্তু আইন অনুযায়ী **ডিভোর্স না হলেও স্ত্রী যেকোনো সময় দেনমোহর ও খোরপোশ দাবি করতে পারেন**।
ডিভোর্স ছাড়া খোরপোশ ও দেনমোহর দাবির ভিত্তি:
পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ ১৯৮৫ (সংশোধিত ২০২৩) অনুযায়ী সিনিয়র সহকারী জজ/পারিবারিক আদালতে (Family Court) মামলা দায়ের করতে হয়।
মামলার ধাপসমূহ:
আপনার জমি বিরোধ, বাটোয়ারা মামলা, জামিন, তালাক বা সাইবার জটিলতায় বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে সুপ্রিম কোর্ট বা উত্তরা চেম্বারে নথিপত্রসহ সরাসরি বসুন।
মা-বাবার মধ্যে ডিভোর্স হোক বা আলাদা থাকুক না কেন, **সন্তানের ভরণপোষণ সম্পূর্ণভাবে বাবার আইনগত দায়িত্ব**।
সন্তানের খরচের অধিকার:
আদালত দেনমোহর ও খোরপোশের ডিগ্রি প্রদান করার পরও যদি স্বামী নির্ধারিত সময়ে টাকা না দেন, তবে স্ত্রী আদালতের মাধ্যমে **জারি মামলা (Execution Case)** দায়ের করতে পারেন।
আদালতের কঠোর পদক্ষেপ:
পারিবারিক আদালতে সঠিক উপায়ে তথ্য উপস্থাপন ও আইনি নোটিশের মাধ্যমেই কম সময়ে অধিকার ফিরে পাওয়া সম্ভব। ভুল আইনজীবী নির্বাচন বা দুর্বল আরজি দাখিলের ফলে মামলা বছরের পর বছর ঝুলতে পারে।
অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম — বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট ও ঢাকা ফ্যামিলি কোর্টের একজন অভিজ্ঞ পারিবারিক আইনজীবী। নারী ও শিশুদের আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠায় এবং দেনমোহর ও খোরপোশ আদায়ে তিনি অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সাথে সেবা দিয়ে থাকেন।
⚖️ পারিবারিক আইনি সহায়তার জন্য যোগাযোগ: আপনার দেনমোহর, ডিভোর্স বা খোরপোশ সংক্রান্ত বিষয়ে সুপ্রীম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম-এর সরাসরি আইনি পরামর্শ নিন। আমাদের পারিবারিক সেবা দেখতে এখানে ক্লিক করুন অথবা সরাসরি যোগাযোগ করুন।
হ্যাঁ, স্ত্রী নিজে তালাক দিলেও (যদি না খুলা তালাকে দেনমোহর মাফ করা হয়) সম্পূর্ণ দেনমোহরের টাকা পাওয়ার আইনগত অধিকারী থাকেন।
যদি স্ত্রী স্বেচ্ছায়, কোনো ধরনের চাপ বা ভয়ভীতি ছাড়া লিখিতভাবে দেনমোহর মাফ করেন, তবে পরবর্তীতে দাবি করা যায় না। তবে চাপে ফেলে মুখিক মাফ করা আইনত ধোপে টিকে না।
ডিভোর্সের পর ইদ্দতকালীন সময় (সাধারণত ৩ মাস ১০ দিন বা গর্ভবতী হলে সন্তান প্রসব হওয়া পর্যন্ত) স্ত্রী স্বামীর কাছ থেকে খোরপোশ পাবেন।
না, সন্তান মায়ের হেফাজতে বা যার কাছেই থাকুক না কেন, বাবার ভরণপোষণ দেওয়ার দায়িত্ব আইনত অপরিবর্তনীয়।