কবিননামা ও দেনমোহর আদায়ের আইনি নিয়ম ২০২৬: ডিভোর্সের পর স্ত্রী ও সন্তানের খোরপোশ পাওয়ার উপায়

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-07-24 · ৮ মিনিট পড়ুন

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

মুসলিম পারিবারিক আইনে দেনমোহর (Mahr) নারীর একটি আইনগত ও ধর্মীয় অধিকার, যা স্বামী পরিশোধ করতে বাধ্য। অনেক সময় দেখা যায় বিবাহিত অবস্থায় কিংবা ডিভোর্সের পর স্বামী দেনমোহরের টাকা পরিশোধ না করে টালবাহানা করে বা অস্বীকার করে। একই সাথে স্ত্রী ও সন্তানের আইনসম্মত খোরপোশ (Maintenance) প্রদান না করার ঘটনাও ঘটে। এ ক্ষেত্রে ফ্যামিলি কোর্টে (Family Court) মামলা দায়ের করে দেনমোহর ও খোরপোশের টাকা পুরোপুরি আদায় করা সম্ভব। পারিবারিক আইনের যেকোনো জটিলতায় বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>-এর সহায়তা নিন।

: · পারিবারিক ও বিবাহ আইনজীবী ঢাকা

এক নজরে মূল তথ্য (Quick Answer Table)

বিষয় / শর্তসরকারি নিয়ম, ফি ও আইন (২০২৬)
প্রযোজ্য আইন ও বিধিমালামুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন ১৯৭৪ ও বিধিমালা ২০০৯ (সংশোধিত)
প্রথম ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত দেনমোহরপ্রতি ১,০০০ টাকায় ১২.৫০ টাকা (অর্থাৎ প্রতি লাখে ১,২৫০ টাকা)
৪ লাখ টাকার অতিরিক্ত দেনমোহরপরবর্তী প্রতি ১ লাখ বা অংশবিশেষের জন্য মাত্র ১০০ টাকা
সর্বনিম্ন সরকারি নিবন্ধন ফি২০০ টাকা (দেনমোহর কম হলেও সর্বনিম্ন ২০০ টাকা প্রযোজ্য)
রসিদ ও সনদ যাচাইকাজী অফিসের সরকারি রসিদ বহি ও নিবন্ধিত নিকাহনামা (ফরম-ডি)
📋 সূচিপত্র
  1. দেনমোহর (Mahr) কী এবং এটি কখন পরিশোধযোগ্য?
  2. কবিননামা (Nikahnama) ও দেনমোহরের প্রকারভেদ
  3. ডিভোর্স না হলেও কি দেনমোহর ও খোরপোশ দাবি করা যায়?
  4. ফ্যামিলি কোর্টে দেনমোহর ও খোরপোশ আদায়ের মামলা দায়েরের নিয়ম
  5. সন্তানের খোরপোশ (Child Maintenance) ও অভিভাবকত্ব (Custody)
  6. স্বামী দেনমোহর ও খোরপোশ না দিলে আইনি শাস্তি ও জেল
  7. পারিবারিক আদালতের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির কৌশল

দেনমোহর (Mahr) কী এবং এটি কখন পরিশোধযোগ্য?

মুসলিম আইন অনুযায়ী দেনমোহর কোনো দান বা উপঢৌকন নয়; বরং এটি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর স্ত্রীর প্রতি স্বামীর অর্পিত একটি সুনির্দিষ্ট আর্থিক দায়। দেনমোহর স্ত্রীর একচ্ছত্র ব্যক্তিগত সম্পত্তি।

দেনমোহর পরিশোধের আইনি সময়:

  • স্ত্রী চাওয়ামাত্র বা বিবাহ কার্যকর হওয়া মাত্র দেনমোহর পরিশোধযোগ্য।
  • ডিভোর্স হলে বা স্বামীর মৃত্যু হলে স্ত্রীর পাওনা দেনমোহর অগ্রগণ্য ঋণ (Prior Debt) হিসেবে পরিশোধ করতে হয়।
  • এমনকি স্ত্রী আগে মৃত্যুবরণ করলেও তার উত্তরাধিকারীরা স্বামীর কাছ থেকে দেনমোহরের টাকা আদায়ের অধিকার রাখেন।

যে কোনো পারিবারিক আইনি পরামর্শের জন্য পারিবারিক ও তালাক আইনি বিশেষজ্ঞদের সাথে যোগাযোগ করা উচিত।

কবিননামা (Nikahnama) ও দেনমোহরের প্রকারভেদ

বিবাহ রেজিস্ট্রির সময় নিকাহনামা বা কবিননামার ১৩, ১৪ ও ১৫ নম্বর কলামে দেনমোহরের মোট পরিমাণ এবং পরিশোধের নিয়ম লেখা থাকে।

দেনমোহর দুই ভাগে বিভক্ত:

  1. মুয়াজ্জল (Mu'ajjal) বা আসু পরিশোধযোগ্য: যা স্ত্রী বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার পর চাওয়ামাত্র স্বামী পরিশোধ করতে বাধ্য।
  2. মুওয়াজ্জাল (Muwajjal) বা বিলম্বিত পরিশোধযোগ্য: যা সাধারণত বৈবাহিক সম্পর্ক বিচ্ছেদ (ডিভোর্স) হলে বা স্বামীর মৃত্যু ঘটলে পরিশোধ করা হয়।

যদি কবিননামায় দেনমোহর আসু নাকি বিলম্বিত তা স্পষ্ট লেখা না থাকে, তবে আইন অনুযায়ী দেনমোহরের অর্ধেক আসু এবং অর্ধেক বিলম্বিত হিসেবে গণ্য হয়।

ডিভোর্স না হলেও কি দেনমোহর ও খোরপোশ দাবি করা যায়?

অনেকের মধ্যে একটি ভুল ধারণা আছে যে ডিভোর্স না হলে দেনমোহর বা খোরপোশের মামলা করা যায় না। কিন্তু আইন অনুযায়ী **ডিভোর্স না হলেও স্ত্রী যেকোনো সময় দেনমোহর ও খোরপোশ দাবি করতে পারেন**।

ডিভোর্স ছাড়া খোরপোশ ও দেনমোহর দাবির ভিত্তি:

  • স্বামী যদি বিনা কারণে স্ত্রীকে পৃথক রাখেন বা ভরণপোষণ না দেন।
  • স্বামী দ্বিতীয় বিবাহ করেন এবং প্রথম স্ত্রীকে সমান অধিকার ও খরচ না দেন।
  • স্ত্রীকে মানসিক বা শারীরিক নির্যাতন করে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হলে।

ফ্যামিলি কোর্টে দেনমোহর ও খোরপোশ আদায়ের মামলা দায়েরের নিয়ম

পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ ১৯৮৫ (সংশোধিত ২০২৩) অনুযায়ী সিনিয়র সহকারী জজ/পারিবারিক আদালতে (Family Court) মামলা দায়ের করতে হয়।

মামলার ধাপসমূহ:

  • আরজি দাখিল: কবিননামার ফটোকপি, জাতীয় পরিচয়পত্র ও প্রমাণের নথিসহ আরজি (Plaint) দাখিল।
  • সমন জারি: স্বামীর স্থায়ী ও কর্মস্থলের ঠিকানায় আদালতের সমন পাঠানো।
  • জবাব দাখিল ও আপস চেষ্টা: স্বামী আদালতে হাজির হয়ে জবাব দেবেন এবং আদালত আপস-মীমাংসার (Pre-trial conciliation) সুযোগ দেবেন।
  • বিচার ও রায়: আপস না হলে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত দেনমোহর ও খোরপোশের ডিগ্রি (Decree) প্রদান করবেন।
⚖️ আইনি কেস মূল্যায়ন ও চেম্বার অ্যাপয়েন্টমেন্ট

আপনার জমি বিরোধ, বাটোয়ারা মামলা, জামিন, তালাক বা সাইবার জটিলতায় বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে সুপ্রিম কোর্ট বা উত্তরা চেম্বারে নথিপত্রসহ সরাসরি বসুন।

জরুরি হোয়াটসঅ্যাপ সরাসরি কল: ০১৭১২-৬৫৫৫৪৬

সন্তানের খোরপোশ (Child Maintenance) ও অভিভাবকত্ব (Custody)

মা-বাবার মধ্যে ডিভোর্স হোক বা আলাদা থাকুক না কেন, **সন্তানের ভরণপোষণ সম্পূর্ণভাবে বাবার আইনগত দায়িত্ব**।

সন্তানের খরচের অধিকার:

  • ছেলে সন্তান সাবালক (১৮ বছর) না হওয়া পর্যন্ত বাবা খোরপোশ দিতে বাধ্য।
  • মেয়ে সন্তান বিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত বাবা তার সকল পড়ালেখা, চিকিৎসা ও খোরপোশ বহনে বাধ্য।
  • মা বা সন্তানের পক্ষে পারিবারিক আদালতে খোরপোশ জারির মামলা করা যায়।

স্বামী দেনমোহর ও খোরপোশ না দিলে আইনি শাস্তি ও জেল

আদালত দেনমোহর ও খোরপোশের ডিগ্রি প্রদান করার পরও যদি স্বামী নির্ধারিত সময়ে টাকা না দেন, তবে স্ত্রী আদালতের মাধ্যমে **জারি মামলা (Execution Case)** দায়ের করতে পারেন।

আদালতের কঠোর পদক্ষেপ:

  • স্বামীর সম্পত্তি ক্রোক (Attachment) করে তা নিলামে তুলে ডিগ্রির টাকা আদায় করা।
  • স্বামীর ব্যাংক হিসাব স্থগিত বা বেতন কেটে পাওনাদার স্ত্রীকে প্রদান।
  • টাকা না দেওয়া পর্যন্ত স্বামীকে **দেওয়ানি কারাগারে (Civil Jail) আটক** রাখা।

পারিবারিক আদালতের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির কৌশল

পারিবারিক আদালতে সঠিক উপায়ে তথ্য উপস্থাপন ও আইনি নোটিশের মাধ্যমেই কম সময়ে অধিকার ফিরে পাওয়া সম্ভব। ভুল আইনজীবী নির্বাচন বা দুর্বল আরজি দাখিলের ফলে মামলা বছরের পর বছর ঝুলতে পারে।

অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম — বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট ও ঢাকা ফ্যামিলি কোর্টের একজন অভিজ্ঞ পারিবারিক আইনজীবী। নারী ও শিশুদের আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠায় এবং দেনমোহর ও খোরপোশ আদায়ে তিনি অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সাথে সেবা দিয়ে থাকেন।

⚖️ পারিবারিক আইনি সহায়তার জন্য যোগাযোগ: আপনার দেনমোহর, ডিভোর্স বা খোরপোশ সংক্রান্ত বিষয়ে সুপ্রীম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম-এর সরাসরি আইনি পরামর্শ নিন। আমাদের পারিবারিক সেবা দেখতে এখানে ক্লিক করুন অথবা সরাসরি যোগাযোগ করুন।

সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)

স্ত্রী নিজে তালাক (ডিভোর্স) দিলে কি দেনমোহর পাবেন?

হ্যাঁ, স্ত্রী নিজে তালাক দিলেও (যদি না খুলা তালাকে দেনমোহর মাফ করা হয়) সম্পূর্ণ দেনমোহরের টাকা পাওয়ার আইনগত অধিকারী থাকেন।

দেনমোহর মাফ করে দিলে কি পরে দাবি করা যায়?

যদি স্ত্রী স্বেচ্ছায়, কোনো ধরনের চাপ বা ভয়ভীতি ছাড়া লিখিতভাবে দেনমোহর মাফ করেন, তবে পরবর্তীতে দাবি করা যায় না। তবে চাপে ফেলে মুখিক মাফ করা আইনত ধোপে টিকে না।

ডিভোর্সের কত দিন পর পর্যন্ত খোরপোশ পাওয়া যায়?

ডিভোর্সের পর ইদ্দতকালীন সময় (সাধারণত ৩ মাস ১০ দিন বা গর্ভবতী হলে সন্তান প্রসব হওয়া পর্যন্ত) স্ত্রী স্বামীর কাছ থেকে খোরপোশ পাবেন।

সন্তান মায়ের কাছে থাকলে বাবা কি খোরপোশ বন্ধ করতে পারবে?

না, সন্তান মায়ের হেফাজতে বা যার কাছেই থাকুক না কেন, বাবার ভরণপোষণ দেওয়ার দায়িত্ব আইনত অপরিবর্তনীয়।

দায়বর্জন (Disclaimer): এই আর্টিকেলে পরিবেশিত তথ্যসমূহ কেবল আইনি সচেতনতা ও সাধারণ শিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনো প্রত্যক্ষ আইনি পরামর্শ (Legal Advice) নয় এবং এর মাধ্যমে কোনো আইনজীবী-মক্কেল সম্পর্ক (Attorney-Client Relationship) তৈরি হয় না। আপনার সুনির্দিষ্ট মামলার আইনি প্রতিকারের জন্য সরাসরি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বা জজ কোর্টের তালিকাভুক্ত বিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করুন।
আইনি সহায়তা বা জরুরি পরামর্শের প্রয়োজন?
যোগাযোগ করুন এডভোকেট মোঃ শাহ আলম: +880 1712-655546  |  WhatsApp
উত্তরা চেম্বার: বাড়ি ৪৬, রোড ৬/বি, সেক্টর ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০
কোর্ট চেম্বার: আইনজীবী সমিতি ভবন, ৪র্থ তলা, ৬/৭ কোর্ট হাউস স্ট্রিট, কোতোয়ালি, ঢাকা-১১০০