খাস জমি কি? খাস জমি চেনার উপায় ও বন্দোবস্ত নেওয়ার সরকারি নিয়ম

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-07-22

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

বাংলাদেশে খাস জমি নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ যেমন অনেক, তেমনি অজ্ঞতার কারণে প্রতারণার শিকার হওয়ার সম্ভাবনাও প্রচুর। অসৎ ব্যক্তিরা সরকারি খাস জমিকে ভুয়া দলিলে ব্যক্তিগত মালিকানার জমি বলে বিক্রি করে দেয়। আবার অন্যদিকে প্রকৃত ভূমিহীন পরিবারগুলো সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত পাওয়ার অধিকার থাকা সত্ত্বেও আবেদনের নিয়ম না জেনে বঞ্চিত হন। ২০২৬ সালের সরকারি নীতি অনুযায়ী খাস জমি চেনার উপায়, খাস খতিয়ান এবং কৃষি খাস জমি বন্দোবস্তের আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। যেকোনো জটিল আইনি সমস্যায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>-এর আইনি পরামর্শ নিতে পারেন।

খাস জমি (Khas Land) কি এবং এর আইনি সংজ্ঞা

রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ (State Acquisition and Tenancy Act, 1950) অনুযায়ী, যেসব স্থাবর জমি বা জলাশয় কোনো ব্যক্তি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বে বা মালিকানায় নেই, বরং সরাসরি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয়ের মালিকানাধীন ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সেগুলোকে খাস জমি (Khas Land) বলা হয়।

নদী ভরাট হয়ে জেগে ওঠা চর (দিয়ারা জমি), সিলিং উদ্বৃত্ত জমি, কিংবা মূল স্বত্বাধিকারীর ওয়ারিশ না থাকায় সরকারের নিকট বাজেয়াপ্ত হওয়া জমি খাস জমি হিসেবে গণ্য হয়।

খাস জমি চেনার ৪টি প্রধান উপায় (খতিয়ান ও দাগ নম্বর)

কোনো জমি কেনার আগে বা জমিটি খাস কি না নিশ্চিত হতে ৪টি বিষয়ের ওপর খেয়াল রাখুন:

  1. ১ নং খতিয়ান (1 No. Khatian): সরকারি খাস জমি সর্বদাই খতিয়ান তালিকার ১ নম্বর খতিয়ানে (১ খতিয়ান) নথিভুক্ত থাকে। জেলা প্রশাসকের (DC) নামে এই খতিয়ান পরিচালিত হয়।
  2. দাগ নম্বর ও ম্যাপ যাচাই: ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের বিএস (BS) বা আরএস (RS) মৌজা ম্যাপ এবং ই-পর্চা (eporcha.gov.bd) পোর্টালে ১ নং খতিয়ানের অধীন দাগগুলো চেক করুন।
  3. ভূমি অফিসের রেজিস্টার-২ (Register-II): সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড অফিসের রেজিস্টার-২ এ উক্ত জমির বিপরীতে যদি জেলা প্রশাসকের নাম থাকে তবে তা খাস জমি।
  4. জলমহাল বা নদী তীরবর্তী সীমানা: নদীর তীরের সরকারি সীমানা ও খাস নদী/বিল স্বয়ংক্রিয়ভাবে খাস জমি।

কৃষি খাস জমি বন্দোবস্ত পাওয়ার জন্য কারা যোগ্য? (ভূমিহীন পরিবার)

সরকার কৃষি খাস জমি বন্দোবস্ত নীতিমালা, ১৯৯৭ অনুযায়ী প্রকৃত ভূমিহীন পরিবারগুলোর মধ্যে খাস জমি বরাদ্দ দিয়ে থাকে।

যোগ্যতার শর্তাবলী:

  • যে পরিবারের নিজ নামে বা পিতামাতার নামে বসতবাড়ি ছাড়া কোনো কৃষি জমি নেই (কৃষি জমি ০.৫০ একরের কম)।
  • দুস্থ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, নদীভাঙনে নিঃস্ব পরিবার, বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার অগ্রাধিকার পাবে।
  • পরিবারের প্রধানকে অবশ্যই কৃষি কাজের ওপর নির্ভরশীল হতে হবে।

খাস জমি বন্দোবস্ত পাওয়ার সরকারি আবেদন প্রক্রিয়া

কৃষি খাস জমি বন্দোবস্তের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার (UNO) বা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরোবরে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হয়:

  1. ফরম পূরণ: স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি অফিস (তহসিল অফিস) বা এসিল্যান্ড অফিস থেকে কৃষি খাস জমি বন্দোবস্তের নির্ধারিত আবেদন ফরম সংগ্রহ করুন।
  2. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের দেওয়া 'ভূমিহীন সনদপত্র' সংযুক্ত করুন।
  3. তদন্ত ও যাচায়: উপজেলা কৃষি খাস জমি ব্যবস্থাপনা ও বন্দোবস্ত কমিটি (ইউএনও এর নেতৃত্বে) আবেদন যাচাই ও সরেজমিনে তদন্ত করবে।
  4. কবুলিয়ত ও সায়রাত রেজিস্ট্রি: আবেদন অনুমোদিত হলে সরকারি টোকেন ফি দিয়ে বন্দোবস্ত গ্রহীতার নামে ১.৫০ একর পর্যন্ত জমি নিষ্কণ্টক কবুলিয়ত দলিলের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

ভুয়া দলিলে খাস জমি বিক্রির প্রতারণা থেকে বাঁচার উপায়

অসৎ চক্র ভুয়া সিএস/এসএ খতিয়ান বানিয়ে খাস জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার লোভ দেখায়। মনে রাখবেন—খাস জমি ব্যক্তিপর্যায়ে ক্রয়-বিক্রয় করা সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ। খাস জমি কিনে কোনো রেজিস্ট্রেশন করলেও সেই দলিলে মালিকানা জন্মাবে না এবং সরকার যেকোনো সময় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে জমি দখল করে নেবে।

⚖️ বিশেষজ্ঞ আইনি পরামর্শের জন্য যোগাযোগ: আপনার আইনি বিষযটি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম-এর সাথে সরাসরি কথা বলুন বা আমাদের বিশেষজ্ঞ আইনি সেবা গ্রহণ করুন। যেকোনো প্রয়োজনে সরাসরি যোগাযোগ পেজে ক্লিক করুন।