খতিয়ানে নাম বা দাগ নম্বর ভুল? এসি ল্যান্ডে মিস কেস বনাম দেওয়ানী আদালতে স্বত্ব ঘোষণার মামলা

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-15 · ১২ মিনিট পড়ুন

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

জমি নিজের দখলে আছে, রেজিস্ট্রি দলিলও শতভাগ নিখুঁত, কিন্তু জরিপের সময় মাঠপর্যায়ের ভুলের কারণে বিএস বা আরএস খতিয়ানে নিজের নামের বদলে প্রতিবেশীর নাম উঠে গেছে—এমন সমস্যায় প্রতিনিয়ত হাজারো মানুষ বিপাকে পড়েন। অনেকেই জানেন না এই ভুল কি সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঠিক করতে পারেন, নাকি দেওয়ানী আদালতে মামলা করতে হয়। বাস্তব আইনি জটিলতার সমাধান তুলে ধরেছেন সুপ্রিম কোর্টের প্র্যাকটিসিং আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>।

: · ভূমি ও নামজারি আইনজীবী উত্তরা ঢাকা

এক নজরে মূল তথ্য (Quick Answer Table)

বিষয় / শর্তসরকারি নিয়ম, ফি ও আইন (২০২৬)
অফিসিয়াল অনলাইন পোর্টালmutation.land.gov.bd, land.gov.bd, dlrms.land.gov.bd ও eporcha.gov.bd
মোট সরকারি নামজারি ফি১,১৭০ টাকা (কোর্ট ফি ২০ + নোটিশ ৫০ + রেকর্ড সংশোধন ১,০০০ + খতিয়ান ১০০ টাকা)
নিষ্পত্তির নির্ধারিত সময়সাধারণত ২৮ কার্যদিবস (প্রবাসীদের জন্য দ্রুত নিষ্পত্তির বিশেষ ব্যবস্থা)
ভূমি সেবা হটলাইন১৬১২২ (কল সেন্টার) — ২৪ ঘণ্টা সরকারি ভূমি তথ্য ও অভিযোগ
অনলাইন খতিয়ান ও ডিসিআরঅনলাইন পেমেন্টের পর কিউআর কোডযুক্ত ই-খতিয়ান ও DCR ডাউনলোড
📋 সূচিপত্র
  1. খতিয়ানে ভুল কীভাবে হয়: লিপিকর প্রমাদ বনাম স্বত্ব সংক্রান্ত বিরোধ
  2. সহকারী কমিশনার (ভূমি)-র এখতিয়ার: ১৯৫০ সালের প্রজাস্বত্ব আইনের ১৪৩ ধারা
  3. এসি ল্যান্ড কোন কোন ভুল মিস কেসের মাধ্যমে সংশোধন করতে পারেন?
  4. যখন এসি ল্যান্ডের হাত বাঁধা: স্বত্ব সংক্রান্ত বিরোধ ও দেওয়ানী আদালতের একচ্ছত্র ক্ষমতা
  5. ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল (LST) ও ২০২৩ সালের সাম্প্রতিক সংশোধনী
  6. দেওয়ানী আদালতে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় স্বত্ব ঘোষণার মোকাদ্দমা
  7. খতিয়ান সংশোধনের সঠিক আইনি পদক্ষেপের চেকলিস্ট
  8. প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

খতিয়ানে ভুল কীভাবে হয়: লিপিকর প্রমাদ বনাম স্বত্ব সংক্রান্ত বিরোধ

জরিপ চলাকালীন ভূমি রেকর্ডে দুই ধরনের ভুল সংঘটিত হয়: এক. কেরানি বা মুদ্রণজনিত ভুল (Clerical/Typographical Error), যেমন পিতার নামে একটি বর্ণ ভুল হওয়া বা জমার অংক উল্টাপাল্টা হওয়া। দুই. মৌলিক স্বত্ব বা মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধ (Title Dispute), যেখানে প্রকৃত মালিকের বদলে প্রতারণামূলকভাবে সম্পূর্ণ ভিন্ন কোনো ব্যক্তির নামে খতিয়ান প্রস্তুত হয়ে গেছে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি)-র এখতিয়ার: ১৯৫০ সালের প্রজাস্বত্ব আইনের ১৪৩ ধারা

১৯৫০ সালের রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন (State Acquisition and Tenancy Act)-এর ১৪৩ ও ১৪৪ ধারা অনুযায়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসি ল্যান্ড রেকর্ড অব রাইটস (Record of Rights/ROR) রক্ষণাবেক্ষণ ও সংশোধনের সীমিত প্রশাসনিক ক্ষমতা ভোগ করেন। তবে তিনি আদালতের মতো বিতর্কিত মালিকানা বিচার করার এখতিয়ার রাখেন না।

এসি ল্যান্ড কোন কোন ভুল মিস কেসের মাধ্যমে সংশোধন করতে পারেন?

নিম্নলিখিত ক্ষেত্রগুলোতে এসি ল্যান্ড বরাবর মিস কেস (Miscellaneous Case) করে সহজ সমাধান পাওয়া যায়:

  • নামের বানান বা পিতার নামে সামান্য কেরানিমূল ভুল থাকলে।
  • দলিল ও পূর্ববর্তী খতিয়ানের সাথে দাগ নম্বরের লেখার ভুল স্পষ্ট থাকলে।
  • অংশ বণ্টনের অঙ্কে (যোগ-বিয়োগে) সাধারণ হিসাবের গড়মিল হলে।
  • আপসকেন্দ্রিক সহ-শরিকদের মধ্যে লিখিত সম্মতি থাকলে।

যখন এসি ল্যান্ডের হাত বাঁধা: স্বত্ব সংক্রান্ত বিরোধ ও দেওয়ানী আদালতের একচ্ছত্র ক্ষমতা

যদি ভুল খতিয়ানের ওপর ভিত্তি করে অপর পক্ষ নিজেকে বৈধ মালিক দাবি করে খাজনা দাখিলা দিয়ে থাকে এবং আপস করতে অস্বীকার করে, তবে এসি ল্যান্ড মিস কেস খারিজ করে দিতে বাধ্য। কারণ প্রশাসনিক কোনো কর্মকর্তা মালিকানা বা টাইটেল নিষ্পত্তি করতে পারেন না; এজন্য দেওয়ানী আদালতই একমাত্র উপযুক্ত ফোরাম।

⚖️ আইনি কেস মূল্যায়ন ও চেম্বার অ্যাপয়েন্টমেন্ট

আপনার জমি বিরোধ, বাটোয়ারা মামলা, জামিন, তালাক বা সাইবার জটিলতায় বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে সুপ্রিম কোর্ট বা উত্তরা চেম্বারে নথিপত্রসহ সরাসরি বসুন।

জরুরি হোয়াটসঅ্যাপ সরাসরি কল: ০১৭১২-৬৫৫৫৪৬

ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল (LST) ও ২০২৩ সালের সাম্প্রতিক সংশোধনী

চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত বিএস বা সিটি জরিপের খতিয়ান চ্যালেঞ্জের জন্য সরকার ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল ও আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছে। ২০২৩ সালের রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের সংশোধনী অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রম জেলা জজ ও সহকারী জজ আদালতের সমমর্যাদায় পরিচালিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা সাধারণ দেওয়ানী মামলার মতোই কার্যকারিতা বহন করে।

দেওয়ানী আদালতে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় স্বত্ব ঘোষণার মোকাদ্দমা

ভুল খতিয়ান বাতিল ও নিজের বৈধ মালিকানা সাব্যস্ত করতে ১৮৭৭ সালের সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারা (Section 42, Specific Relief Act) অনুযায়ী সহকারী জজ বা যুগ্ম জেলা জজ আদালতে 'স্বত্ব ঘোষণা ও ভুল খতিয়ান বাতিল'-এর মামলা দায়ের করতে হয়। আদালত সিএস, এসএ, আরএস খতিয়ানের ধারাবাহিকতা ও দলিলের সত্যতা বিচার করে আপনার পক্ষে চূড়ান্ত রায় ও ডিক্রি প্রদান করবেন।

খতিয়ান সংশোধনের সঠিক আইনি পদক্ষেপের চেকলিস্ট

  1. সিএস থেকে সর্বশেষ জরিপ পর্যন্ত সকল খতিয়ানের সার্টিফায়েড নকল ও পিঠ দলিল সংগ্রহ করুন।
  2. ভুলটি কেরানিমূল নাকি মালিকানা সংক্রান্ত—তা অভিজ্ঞ দেওয়ানী আইনজীবীকে দিয়ে যাচাই করান।
  3. কেরানিমূল হলে প্রয়োজনীয় কোর্ট ফি দিয়ে এসি ল্যান্ড অফিসে মিস কেসের আবেদন জমা দিন।
  4. মালিকানা বিরোধ থাকলে সময় নষ্ট না করে উপযুক্ত দেওয়ানী আদালতে টাইটেল স্যুট দায়ের করুন।
দায়বর্জন (Disclaimer): এই আর্টিকেলে পরিবেশিত তথ্যসমূহ কেবল আইনি সচেতনতা ও সাধারণ শিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনো প্রত্যক্ষ আইনি পরামর্শ (Legal Advice) নয় এবং এর মাধ্যমে কোনো আইনজীবী-মক্কেল সম্পর্ক (Attorney-Client Relationship) তৈরি হয় না। আপনার সুনির্দিষ্ট মামলার আইনি প্রতিকারের জন্য সরাসরি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বা জজ কোর্টের তালিকাভুক্ত বিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করুন।
আইনি সহায়তা বা জরুরি পরামর্শের প্রয়োজন?
যোগাযোগ করুন এডভোকেট মোঃ শাহ আলম: +880 1712-655546  |  WhatsApp
উত্তরা চেম্বার: বাড়ি ৪৬, রোড ৬/বি, সেক্টর ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০
কোর্ট চেম্বার: আইনজীবী সমিতি ভবন, ৪র্থ তলা, ৬/৭ কোর্ট হাউস স্ট্রিট, কোতোয়ালি, ঢাকা-১১০০