লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-07-07
জমির খতিয়ান হলো মালিকানার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দলিল। এখন আর সরকারি অফিসে লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হবে না — ঘরে বসেই eporcha.gov.bd তে RS, CS, BS সহ সব ধরনের খতিয়ান অনলাইনে চেক করুন। এই বিস্তারিত গাইডে আমরা খতিয়ানের প্রকারভেদ, অনুসন্ধানের পদ্ধতি এবং সার্টিফাইড কপি পাওয়ার উপায় আলোচনা করব। যেকোনো জটিল আইনি সমস্যায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>-এর আইনি পরামর্শ নিতে পারেন।
খতিয়ান (Khatian) হলো ভূমি জরিপের সময় সরকার কর্তৃক প্রস্তুত করা একটি সরকারি নথি যা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন জমির বিবরণ ধারণ করে। প্রতিটি খতিয়ানে থাকে:
বাংলাদেশে খতিয়ান সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আছে ভূমি মন্ত্রণালয় এবং জেলা রেকর্ড রুম। বর্তমানে eporcha.gov.bd পোর্টালের মাধ্যমে ডিজিটালভাবে খতিয়ান অনুসন্ধান করা যায়।
বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে পরিচালিত ভূমি জরিপের ভিত্তিতে বিভিন্ন ধরনের খতিয়ান রয়েছে। প্রতিটির বৈশিষ্ট্য জানুন:
| খতিয়ানের ধরন | পূর্ণ নাম | জরিপকাল | গুরুত্ব |
|---|---|---|---|
| CS খতিয়ান | Cadastral Survey | ১৮৮৮-১৯৪০ | সবচেয়ে পুরনো, মূল রেকর্ড |
| SA খতিয়ান | State Acquisition | ১৯৫৬-১৯৬২ | জমিদারি প্রথা বাতিলের পর |
| RS খতিয়ান | Revisional Survey | ১৯৬৫-১৯৯৭ | সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত |
| BS খতিয়ান | Bangladesh Survey | ১৯৯০-বর্তমান | সাম্প্রতিক ও হালনাগাদ রেকর্ড |
| মহানগর খতিয়ান | City Khatian | শহর এলাকায় | ঢাকা, চট্টগ্রাম ইত্যাদি শহরে |
সতর্কতা: বিভিন্ন খতিয়ানে দাগ নম্বর আলাদা হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট খতিয়ান নম্বর ও দাগ নম্বর সঠিকভাবে মিলিয়ে দেখুন।
eporcha.gov.bd বাংলাদেশের সরকারি ভূমি রেকর্ড পোর্টাল যেখানে খতিয়ান অনুসন্ধান করা যায়।
| অনুসন্ধানের ধরন | কী দিতে হবে | কখন ব্যবহার করবেন |
|---|---|---|
| খতিয়ান নম্বর দিয়ে | সুনির্দিষ্ট খতিয়ান নম্বর | নম্বর জানা থাকলে |
| দাগ নম্বর দিয়ে | মৌজার দাগ নম্বর | দাগ নম্বর জানা থাকলে |
| মালিকের নাম দিয়ে | মালিকের পুরো নাম | অন্য তথ্য না জানলে |
| পিতার নাম দিয়ে | পিতার নাম | সাধারণ নামে অনেক ফলাফল আসলে |
মালিকের নাম দিয়ে খতিয়ান খোঁজার পদ্ধতি অনেকের জন্য সহজ, কারণ খতিয়ান নম্বর সবার মনে থাকে না।
নাম বাংলায় লেখার ক্ষেত্রে বানানের পার্থক্যে ফলাফল না আসতে পারে। যেমন 'রহিম' ও 'রাহিম' দুটি আলাদা অনুসন্ধান ফলাফল দেবে।
মৌজার নাম না জানলে বা ভুলে গেলে:
দাগ নম্বর হলো জমির নির্দিষ্ট পরিচিতি সংখ্যা। একই মৌজায় প্রতিটি প্লটের আলাদা দাগ নম্বর থাকে।
একটি দাগ নম্বরে একাধিক মালিক থাকতে পারেন (যৌথ মালিকানায়)। এক্ষেত্রে প্রতিটি মালিকের জন্য আলাদা খতিয়ান থাকবে। দাগের মোট জমি এবং প্রতিটি খতিয়ানে দাগের কত অংশ আছে তা মিলিয়ে দেখুন।
| বিষয় | খতিয়ান | পর্চা |
|---|---|---|
| সংজ্ঞা | মালিকানার রেকর্ড বুক | খতিয়ানের অনুলিপি/কপি |
| ব্যবহার | মূল রেকর্ড সংরক্ষণ | ব্যক্তিগত ব্যবহার, দলিল |
| সার্টিফাইড কপি | প্রযোজ্য নয় | সার্টিফাইড পর্চা পাওয়া যায় |
eporcha.gov.bd পোর্টালে এখন অনলাইনে সার্টিফাইড খতিয়ান কপি বা পর্চা ডাউনলোড করার সুবিধা আছে।
| সেবা | ফি |
|---|---|
| অনলাইন পর্চা (অসার্টিফাইড ভিউ) | বিনামূল্যে |
| সার্টিফাইড পর্চা (RS/BS) | ১০০-২০০ টাকা |
| CS পর্চা | ১০০-৩০০ টাকা |
| জরুরি পর্চা সেবা | অতিরিক্ত ফি প্রযোজ্য |
অনলাইনে সমস্যা হলে সরাসরি জেলা রেকর্ড রুম বা উপজেলা ভূমি অফিসে গিয়ে আবেদন ফর্ম পূরণ করে পর্চা নিতে পারেন।
জমি কেনার আগে খতিয়ান যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। নকল বা ভুল খতিয়ান দেখিয়ে প্রতারণার ঘটনা প্রায়ই ঘটে।
নিচের বিষয়গুলো দেখলে সতর্ক হন:
খতিয়ানে নাম বানান ভুল, পরিমাণ কম, বা অন্য কোনো ত্রুটি থাকলে সংশোধনের আবেদন করতে হবে।
eporcha পোর্টালে তথ্য ভুল থাকলে পোর্টালের হেল্পডেস্কে বা সরাসরি ভূমি অফিসে অভিযোগ করুন। ডিজিটাল তথ্য হালনাগাদ করতে সংশ্লিষ্ট জেলা রেকর্ড রুমে যোগাযোগ করুন।
DLRMS ও ভূমি রেকর্ড সিস্টেম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।
উত্তর: শুধু দেখার জন্য (ভিউ করা) বিনামূল্যে। সার্টিফাইড পর্চা ডাউনলোড করতে নির্ধারিত ফি দিতে হবে।
উত্তর: RS হলো রিভিশনাল সার্ভে (১৯৬৫-১৯৯৭) এবং BS হলো বাংলাদেশ সার্ভে (১৯৯০-বর্তমান)। BS সর্বশেষ ও আরও হালনাগাদ রেকর্ড। তবে সব এলাকায় এখনও BS জরিপ সম্পন্ন হয়নি।
উত্তর: খতিয়ান না থাকলেও ক্রয় দলিল, হেবা দলিল বা উত্তরাধিকার সনদ দিয়ে মালিকানা প্রমাণ করা যায়। তবে খতিয়ান থাকলে তা অনেক শক্তিশালী প্রমাণ।
উত্তর: পুরনো দলিলে মৌজার নাম থাকে। না থাকলে স্থানীয় ভূমি অফিস বা ইউনিয়ন পরিষদে জিজ্ঞেস করুন।
উত্তর: না। খতিয়ান রেকর্ড প্রমাণ, কিন্তু একমাত্র নয়। রেজিস্ট্রি দলিল, দখল ও সুদীর্ঘ ভোগদখলও মালিকানা প্রমাণে ভূমিকা রাখে।
খতিয়ান সংক্রান্ত জটিলতা — চাই তা ভুল রেকর্ড হোক, প্রতারণামূলক জমি বিক্রির চেষ্টা হোক বা সীমানা বিরোধ হোক — আমাদের বিশেষজ্ঞ আইনজীবী টিম সব ধরনের সমস্যায় আপনার পাশে থাকবে।
আমাদের চেম্বার উত্তরা, ঢাকাতে অবস্থিত। প্রথম পরামর্শ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়।
📍 ঠিকানা: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম, উত্তরা, ঢাকা, বাংলাদেশ
🌐 ওয়েবসাইট: advmdshahalam.me
🕐 অফিস সময়: শনি-বৃহস্পতিবার, সকাল ১০টা - বিকাল ৫টা
⚖️ বিশেষজ্ঞ আইনি পরামর্শের জন্য যোগাযোগ: আপনার আইনি বিষযটি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম-এর সাথে সরাসরি কথা বলুন বা আমাদের বিশেষজ্ঞ আইনি সেবা গ্রহণ করুন। যেকোনো প্রয়োজনে সরাসরি যোগাযোগ পেজে ক্লিক করুন।