বাংলাদেশে নামজারি (মিউটেশন) পদ্ধতি: বিস্তারিত গাইড
লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-03-02
⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়।
সরাসরি পরামর্শের জন্য
+880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।
জমি কেনার বা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়ার পরে নামজারি করা অপরিহার্য। এটি সরকারি রেকর্ডে আপনার নাম মালিক হিসাবে আপডেট করে এবং ভবিষ্যতের যেকোনো আইনি লেনদেন সহজ করে।
নামজারি কী এবং কেন প্রয়োজন
নামজারি হলো ভূমি কর মূল্যায়ন তালিকায় (খতিয়ান) একজন মালিকের নাম পরিবর্তন করার প্রক্রিয়া। ক্রয়, উত্তরাধিকার বা উপহারের পরে এটি করা বাধ্যতামূলক। নামজারি ছাড়া:
- সরকারি রেকর্ডে আগের মালিকের নাম থাকে
- ভবিষ্যৎ বিক্রয় বা ঋণে জটিলতা হয়
- খাজনা পরিশোধে সমস্যা হয়
একজন জমির আইনজীবী প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত করতে পারেন।
কখন নামজারি করতে হয়
- জমি ক্রয়ের পর নিবন্ধিত দলিলের সাথে
- উত্তরাধিকারসূত্রে জমি পেলে মালিকের মৃত্যুর পর
- উপহার (হেবা) বা ওয়াকফের পর
- আদালতের আদেশে সম্পত্তি হস্তান্তর হলে
নামজারির আবেদন পদ্ধতি
- সংশ্লিষ্ট উপজেলা/সার্কেল ভূমি অফিসে নামজারির আবেদন ফর্ম সংগ্রহ করুন।
- ফর্ম পূরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করুন।
- নির্ধারিত ফি জমা দিন।
- সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ) শুনানি নেন।
- আপত্তি না থাকলে নামজারি আদেশ দেওয়া হয়।
- জমা ও খারিজ রেকর্ড আপডেট করুন।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
- নিবন্ধিত বিক্রয় দলিলের কপি (ক্রয়ের ক্ষেত্রে)
- উত্তরাধিকার সনদ (মৃত্যুর পর পাওয়া সম্পত্তির ক্ষেত্রে)
- মৃত্যু সনদ (প্রযোজ্য হলে)
- আবেদনকারীর NID
- সর্বশেষ খাজনা রসিদ
- খতিয়ান ও পর্চার কপি
নামজারি প্রত্যাখ্যান হলে করণীয়
নামজারি আদেশ প্রত্যাখ্যান হলে বা বিলম্ব হলে:
- জেলা প্রশাসকের কাছে আপিল করুন।
- ভূমি আপিল বোর্ডে আবেদন করুন।
- হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন করুন।
একজন সম্পত্তি আইনজীবী আপিল প্রক্রিয়ায় আপনাকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন।
নামজারির পর জমা ও খারিজ
নামজারি আদেশের পর জমা (নতুন খতিয়ান তৈরি) এবং খারিজ (পুরনো খতিয়ান থেকে বাদ) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এই দুটি পদক্ষেপ নিশ্চিত করে যে নতুন মালিকের নামে আলাদা খতিয়ান তৈরি হয়েছে। এরপর নিয়মিত খাজনা পরিশোধ শুরু করুন।