লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-07-22
বাংলাদেশে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ কঠোর করার পর মাদক সংক্রান্ত যেকোনো মামলায় গ্রেপ্তার হলে জামিন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক সময় নির্দোষ ব্যক্তিও কেবল শত্রুভাবাপন্নভাবে বা সন্দেহের বশে ভুয়া মাদক মামলায় ফেঁসে যান। মাদক মামলায় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত, দায়রা জজ আদালত এবং হাইকোর্ট বিভাগে জামিন আবেদনের সঠিক আইনি প্রক্রিয়া, পরিমাণের ভিত্তিতে শাস্তির মাত্রা এবং কার্যকর জামিনের কৌশল এই বিস্তারিত গাইডে আলোচনা করা হলো। যেকোনো জটিল আইনি সমস্যায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>-এর আইনি পরামর্শ নিতে পারেন।
বাংলাদেশে মাদক সংক্রান্ত যাবতীয় অপরাধ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ (২০২০ সালে সংশোধিত) অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এই আইনের অধীনে আমলযোগ্য (Cognizable) এবং জামিনঅযোগ্য (Non-bailable) অপরাধ হিসেবে মাদক মামলাকে গণ্য করা হয়।
মাদকদ্রব্যকে মূলত তাদের ক্ষতিকারক প্রভাব ও ধরন অনুযায়ী ‘ক’, ‘খ’ এবং ‘গ’ শ্রেণি বা তপশিলে ভাগ করা হয়েছে:
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) ধারার সারণী অনুযায়ী জব্ধকৃত মাদকের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে শাস্তি ও জামিনের সুযোগ নির্ধারিত হয়:
| মাদকের ধরন | ছোট পরিমাণ (Small Quantity) | মাঝারি পরিমাণ (Medium Quantity) | বড় পরিমাণ (Commercial Quantity) |
|---|---|---|---|
| ইয়াবা (Amphetamine) | ২০০ পিস পর্যন্ত (১-৫ বছর জেল) | ২০১ থেকে ৯,৯৯৯ পিস (৫-১০ বছর জেল) | ১০,০০০ পিসের বেশি (মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন) |
| ফেনসিডিল (Phensedyl) | ২৫ বোতল পর্যন্ত (১-৫ বছর জেল) | ২৬ থেকে ৯৯ বোতল (৫-১০ বছর জেল) | ১০০ বোতল বা তার বেশি (যাবজ্জীবন কারাদণ্ড) |
| গাঁজা (Ganja/Cannabis) | ৫ কেজি পর্যন্ত (১-৫ বছর জেল) | ৫ কেজি থেকে ২৫ কেজি (৫-১০ বছর জেল) | ২৫ কেজির বেশি (যাবজ্জীবন কারাদণ্ড) |
জামিনের আইনি সম্ভাবনা: ছোট পরিমাণে (Small Quantity) ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট থেকেই জামিন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। কিন্তু কমার্শিয়াল কোয়ান্টিটি বা বড় পরিমাণে দায়রা জজ আদালত সচরাচর জামিন নামঞ্জুর করে, যা হাইকোর্টে আবেদন করতে হয়।
আসামি গ্রেপ্তারের পর জামিন পাওয়ার জন্য আইনজীবীকে ধারাবাহিকভাবে ৩টি ধাপে অগ্রসর হতে হয়:
আসামিকে থানায় চালান দেওয়ার পর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজিরা দিয়ে ফৌজদারি কার্যবিধি ৪৯৭ ধারায় জামিনের আবেদন করা হয়। চার্জশিট (Charge Sheet) না হওয়া পর্যন্ত ছোট পরিমাণের ক্ষেত্রে এখানে জামিন পাওয়ার সুযোগ থাকে।
ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে জামিন না হলে, মেট্রোপলিটন/জেলা দায়রা আদালতে ফৌজদারি মিস মামলা (Criminal Misc Case) দায়ের করে জামিন শুনানি করতে হয়। দায়রা আদালত কেস ডায়েরি (CD) তলব করে শুনানি পরিচালনা করেন।
দায়রা আদালতে জামিন নামঞ্জুর (Reject) হলে, আদেশের প্রত্যায়িত কপি (Certified Copy) তুলে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আবেদন করা হয়।
হাইকোর্ট বিভাগে অভিজ্ঞ অ্যাডভোকেটের মাধ্যমে সঠিক আইনি পয়েন্ট তুলে ধরতে পারলে বাণিজ্যিক পরিমাণের ক্ষেত্রেও অন্তর্বর্তীকালীন জামিন (Interim Bail) এবং রুল (Rule) লাভ করা সম্ভব।
হাইকোর্টে জামিন চাওয়ার ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো আদালত বিবেচনা করেন:
আসামি যদি কোনো মাদকের সাথে সরাসরি যুক্ত না থাকেন এবং তাকে সাজানো মামলায় জড়ানো হয়, তবে আইনজীবী আদালতে যে যুক্তিগুলো উপস্থাপন করেন:
⚖️ বিশেষজ্ঞ আইনি পরামর্শের জন্য যোগাযোগ: আপনার আইনি বিষযটি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম-এর সাথে সরাসরি কথা বলুন বা আমাদের বিশেষজ্ঞ আইনি সেবা গ্রহণ করুন। যেকোনো প্রয়োজনে সরাসরি যোগাযোগ পেজে ক্লিক করুন।