লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-06
<p>বাংলাদেশে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ (সংশোধিত ২০২০) দেশের অন্যতম কঠোর আইনগুলোর একটি। ইয়াবা, হেরোইন, ফেন্সিডিল, আইস বা গাঁজার মতো মাদক সংক্রান্ত মামলায় জামিন পাওয়া অত্যন্ত জটিল আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়। অনেক সময় নির্দোষ ব্যক্তিও পূর্বশত্রুতাবশত বা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মাদক মামলায় জড়িয়ে পড়েন। এই পরিস্থিতিতে জামিনের শর্তাবলী, আদালতের এখতিয়ার এবং বিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। বিস্তারিত পরামর্শে: <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--gold);font-weight:bold">অ্যাডভোকেট মোঃ শাহ আলম</a> — <a href="tel:01712655546" style="color:var(--gold);font-weight:bold">📞 01712655546</a></p>
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ (Narcotics Control Act, 2018) প্রণয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার মাদক অপরাধ দমনে সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। এই আইনের তফসিলভুক্ত মাদকদ্রব্যসমূহকে তাদের ক্ষতিকর মাত্রা ও বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে।
আইনের ৩৬ ধারার টেবিল অনুযায়ী, বিভিন্ন মাদকের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা বিভিন্ন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ:
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮-এর ৪৭ ধারা জামিন সংক্রান্ত বিশেষ বিধান প্রদান করে। এই ধারায় বলা হয়েছে, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল বা আদালত কোনো আসামিকে জামিন মঞ্জুর করবেন না, যদি না:
যেসব ক্ষেত্রে শাস্তির মাত্রা যাবজ্জীবন বা মৃত্যুদণ্ড (যেমন বিপুল পরিমাণ ইয়াবা বা হেরোইন উদ্ধার দেখানো হয়েছে), সেসব ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সাধারণত জামিন আবেদন সরাসরি নামঞ্জুর করেন। সেক্ষেত্রে দায়রা জজ বা হাইকোর্ট বিভাগেই আইনি লড়াই পরিচালনা করতে হয়।
পুলিশ বা র্যাব যখন কোনো ব্যক্তিকে মাদকসহ আটক করে, তখন ফৌজদারি কার্যবিধির ৬১ ধারা ও সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (CJM) বা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (CMM) আদালতে হাজির করতে হয়।
আসামিপক্ষের আইনজীবী ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৬ বা ৪৯৭ ধারায় জামিনের দরখাস্ত পেশ করেন। যদি উদ্ধারকৃত মাদকের পরিমাণ অল্প হয় (যেমন ১০-২০ পিস ইয়াবা বা সামান্য গাঁজা) এবং আসামির কোনো পূর্ব অপরাধের রেকর্ড (P.C.P.R) না থাকে, তবে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টেই অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পাওয়া সম্ভব।
ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে জামিন নামঞ্জুর হলে আদেশের সার্টিফাইড কপি (Certified Copy) সংগ্রহ করে মহানগর দায়রা জজ বা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে 'ফৌজদারি বিবিধ মোকদ্দমা' (Criminal Misc Case) দায়ের করতে হয়। দায়রা জজ মামলার কেস ডকেট (CD) তলব করে জামিনের শুনানি গ্রহণ করেন।
দায়রা আদালত থেকেও জামিন নাকচ হলে সংক্ষুব্ধ আসামির জন্য পরবর্তী আইনি আশ্রয় হলো বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারার অধীনে হাইকোর্টে জামিনের আবেদন দায়ের করা হয়।
হাইকোর্টে জামিনের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হয়:
মাদক মামলার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো জব্দতালিকা বা সিজার লিস্ট। মাদক উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে জব্দতালিকা প্রস্তুত করার আইনগত বিধান রয়েছে।
অনেক মাদক মামলায় দেখা যায়, পুলিশ জব্দতালিকায় যাদের সাক্ষী বানিয়েছে তারা স্থানীয় দোকানদার বা পথচারী নন, বরং পুলিশের সাথে আগে থেকেই পরিচিত সোর্স। এমনকি সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা জানান যে তারা মাদক উদ্ধার দেখেননি, কেবল খালি কাগজে সই করেছেন। চার্জ গঠনের শুনানিতে বা ক্রস এক্সামিনেশনের (জেরা) সময় এই আইনি দুর্বলতাগুলো প্রমাণ করতে পারলে আসামির খালাস পাওয়া নিশ্চিত হয়।
পূর্বশত্রুতা, জমিজমা বিরোধ বা পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে অনেক সময় পকেটে বা বাড়িতে মাদক রেখে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার দুঃখজনক ঘটনা ঘটে। এই অবস্থায় ঘাবড়ে না গিয়ে দ্রুত নিচের আইনি পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে হবে:
আইন অনুযায়ী মাদক মামলার তদন্ত ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে এবং বিচার ট্রাইব্যুনালে গঠনের পর ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে সাক্ষীদের অনুপস্থিতি, রাসায়নিক পরীক্ষকের (Chemical Examiner) রিপোর্টের বিলম্ব এবং মামলার জটের কারণে একটি মামলা শেষ হতে ১ থেকে ৩ বছর পর্যন্ত সময় লেগে যায়। তাই অভিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে দ্রুত জামিন নিশ্চিত করে বাইরে থেকে মামলা পরিচালনা করা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
মাদক মামলায় জামিন শুনানি এবং চার্জশিটের আইনি ত্রুটি খুঁজে বের করতে সুপ্রিম কোর্টের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ফৌজদারি আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোঃ শাহ আলমের সুচিন্তিত আইনি পরামর্শ গ্রহণ করুন।
মাদক মামলায় প্রসিকিউশনের মূল ভিত্তি হলো মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রাসায়নিক পরীক্ষকের (Chemical Examiner) রিপোর্ট। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে তদন্ত কর্মকর্তারা মাদক পরীক্ষার ক্ষেত্রে চরম আইনি অনিয়ম করেন:
মাদক পরিবহনের অভিযোগে অনেক সময় বাস, প্রাইভেট কার, ট্রাক বা মোটরসাইকেল জব্দ করে থানায় বছরের পর বছর ফেলে রাখা হয়। এতে রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে কোটি টাকার যানবাহন ধ্বংস হয়ে যায়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের বিধান মতে, গাড়ির প্রকৃত মালিক যদি প্রমাণ করতে পারেন যে তিনি মাদক পরিবহনের বিষয়ে সম্পূর্ণ অজ্ঞাত ছিলেন এবং চালক তার অজান্তে এটি করেছে, তবে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫১৬(এ) ধারা অনুযায়ী উপযুক্ত বন্ড বা ব্যাংক গ্যারান্টি দাখিল করে সংশ্লিষ্ট দায়রা জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে গাড়ি জিম্মায় (Interim Custody/Jimma) অবমুক্ত করা সম্ভব।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের উচ্চ আদালত মাদক সংক্রান্ত বহু মামলায় ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেছেন যা যেকোনো ফৌজদারি মামলার জামিন শুনানিতে আইনজীবীদের জন্য মূল রেফারেন্স হিসেবে কাজ করে:
আদালতে জামিন আবেদন শুনানির সময় বিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে নিম্নলিখিত নথিপত্রসমূহ দাখিল করা অত্যন্ত জরুরি: