মাদক মামলায় জামিন পাওয়ার নিয়ম ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২৬ — শাস্তি, ধারা ও প্রতিকার
লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-06 · ১৪ মিনিট
⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়।
সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।
<p>বাংলাদেশে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ (সংশোধিত ২০২০) দেশের অন্যতম কঠোর আইনগুলোর একটি। ইয়াবা, হেরোইন, ফেন্সিডিল, আইস বা গাঁজার মতো মাদক সংক্রান্ত মামলায় জামিন পাওয়া অত্যন্ত জটিল আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়। অনেক সময় নির্দোষ ব্যক্তিও পূর্বশত্রুতাবশত বা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মাদক মামলায় জড়িয়ে পড়েন। এই পরিস্থিতিতে জামিনের শর্তাবলী, আদালতের এখতিয়ার এবং বিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। বিস্তারিত পরামর্শে: <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--gold);font-weight:bold">অ্যাডভোকেট মোঃ শাহ আলম</a> — <a href="tel:01712655546" style="color:var(--gold);font-weight:bold">📞 01712655546</a></p>
বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০, ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ (CrPC) ও সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্ট বিভাগ
আগাম ও নিয়মিত জামিন
হাইকোর্ট বিভাগে আগাম জামিন (ধারা ৪৯৮ CrPC) ও ম্যাজিস্ট্রেট/দায়রা আদালতে নিয়মিত জামিন
সরকারি পোর্টাল ও যাচাই
supremecourt.gov.bd, judiciary.gov.bd, pcc.police.gov.bd ও land.gov.bd
জরুরি আইনি পরামর্শ চেম্বার
অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম (বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট) — ০১৭১২-৬৫৫৫৪৬
⚡ মাদক মামলার জামিন — একনজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ অনুযায়ী মাদকের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে অপরাধের শ্রেণীবিভাগ (খাত ক, খ, গ) নির্ধারিত হয়।
স্বল্প পরিমাণের ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট থেকে জামিন মিললেও মধ্যম ও ভারী পরিমাণের ক্ষেত্রে দায়রা আদালত বা হাইকোর্টে যেতে হয়।
ধারা ৪৭ অনুযায়ী জামিনের আবেদনের শুনানিকালে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি)-কে নোটিশ প্রদান বাধ্যতামূলক।
মামলার এফআইআর ও সিজার লিস্ট (জব্দতালিকা)-এর সাক্ষীদের বক্তব্যে অসঙ্গতি থাকলে তা জামিনের মূল হাতিয়ার হয়।
মিথ্যা মামলা হলে চার্জ গঠনের সময় ধারা ২৬৫(সি) বা ২৪১(এ) অনুযায়ী অব্যাহতির (Discharge) দরখাস্ত করা যায়।
১. মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ ও অপরাধের শ্রেণীবিভাগ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ (Narcotics Control Act, 2018) প্রণয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার মাদক অপরাধ দমনে সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। এই আইনের তফসিলভুক্ত মাদকদ্রব্যসমূহকে তাদের ক্ষতিকর মাত্রা ও বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে।
আইনের ৩৬ ধারার টেবিল অনুযায়ী, বিভিন্ন মাদকের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা বিভিন্ন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ:
ইয়াবা (অ্যাম্ফিটামিন): ২০০ পিস পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড; ২০০ থেকে ৪০০ পিস পর্যন্ত ৫ থেকে ১০ বছর; এবং ৪০০ পিসের অধিক হলে যাবজ্জীবন বা মৃত্যুদণ্ড।
হেরোইন ও কোকেন: ২৫ গ্রাম পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১০ বছর; ২৫ গ্রামের বেশি হলে যাবজ্জীবন বা মৃত্যুদণ্ড।
ফেন্সিডিল (কোডিনযুক্ত): ১০০ বোতল পর্যন্ত ১ থেকে ৫ বছর; ১০০ বোতলের বেশি হলে ৫ থেকে ১০ বছর বা তদূর্ধ্ব শাস্তি।
গাঁজা: ৫ কেজি পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড; ৫ কেজির বেশি হলে ৫ থেকে ১০ বছর কারাদণ্ড।
২. কোন কোন ধারায় জামিন সম্ভব এবং কোন ধারায় কঠোর নিষেধাজ্ঞা?
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮-এর ৪৭ ধারা জামিন সংক্রান্ত বিশেষ বিধান প্রদান করে। এই ধারায় বলা হয়েছে, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল বা আদালত কোনো আসামিকে জামিন মঞ্জুর করবেন না, যদি না:
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে (পাবলিক প্রসিকিউটর) জামিনের আবেদনের শুনানির সুযোগ দেওয়া হয়।
আদালত এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, আসামি উক্ত অপরাধে দোষী নন বলে বিশ্বাস করার যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে এবং জামিনে মুক্তি পেলে তিনি পুনরায় একই অপরাধ করবেন না।
⚠️ মাদক মামলায় জামিনের কঠিন বাস্তবতা
যেসব ক্ষেত্রে শাস্তির মাত্রা যাবজ্জীবন বা মৃত্যুদণ্ড (যেমন বিপুল পরিমাণ ইয়াবা বা হেরোইন উদ্ধার দেখানো হয়েছে), সেসব ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সাধারণত জামিন আবেদন সরাসরি নামঞ্জুর করেন। সেক্ষেত্রে দায়রা জজ বা হাইকোর্ট বিভাগেই আইনি লড়াই পরিচালনা করতে হয়।
পুলিশ বা র্যাব যখন কোনো ব্যক্তিকে মাদকসহ আটক করে, তখন ফৌজদারি কার্যবিধির ৬১ ধারা ও সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (CJM) বা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (CMM) আদালতে হাজির করতে হয়।
📍 ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন প্রক্রিয়া
আসামিপক্ষের আইনজীবী ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৬ বা ৪৯৭ ধারায় জামিনের দরখাস্ত পেশ করেন। যদি উদ্ধারকৃত মাদকের পরিমাণ অল্প হয় (যেমন ১০-২০ পিস ইয়াবা বা সামান্য গাঁজা) এবং আসামির কোনো পূর্ব অপরাধের রেকর্ড (P.C.P.R) না থাকে, তবে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টেই অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পাওয়া সম্ভব।
⚖️ দায়রা আদালতে জামিন মিস মামলা
ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে জামিন নামঞ্জুর হলে আদেশের সার্টিফাইড কপি (Certified Copy) সংগ্রহ করে মহানগর দায়রা জজ বা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে 'ফৌজদারি বিবিধ মোকদ্দমা' (Criminal Misc Case) দায়ের করতে হয়। দায়রা জজ মামলার কেস ডকেট (CD) তলব করে জামিনের শুনানি গ্রহণ করেন।
৪. হাইকোর্ট বিভাগে নিয়মিত ও অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের নিয়ম
দায়রা আদালত থেকেও জামিন নাকচ হলে সংক্ষুব্ধ আসামির জন্য পরবর্তী আইনি আশ্রয় হলো বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারার অধীনে হাইকোর্টে জামিনের আবেদন দায়ের করা হয়।
হাইকোর্টে জামিনের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হয়:
হাজতবাসের মেয়াদ (Custody Period): চার্জশিট দাখিল সত্ত্বেও দীর্ঘ ৬ মাস বা ১ বছর ধরে বিচার শুরু না হলে দীর্ঘ হাজতবাসের গ্রাউন্ডে জামিন দেওয়া হয়।
আসামির অসুস্থতা ও বয়স: বৃদ্ধ, মারাত্মক অসুস্থ রোগী বা নারীদের ক্ষেত্রে মানবিক বিবেচনায় জামিন মঞ্জুর করা হয়।
সহ-আসামির জামিন (Rule of Parity): একই মামলায় সমপরিমাণ মাদকে অন্য কোনো আসামি জামিন পেলে অপর আসামিও জামিন পাওয়ার অধিকার দাবি করতে পারেন।
৫. জব্দতালিকা (Seizure List) ও সাক্ষীদের বক্তব্যের আইনি গুরুত্ব
মাদক মামলার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো জব্দতালিকা বা সিজার লিস্ট। মাদক উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে জব্দতালিকা প্রস্তুত করার আইনগত বিধান রয়েছে।
অনেক মাদক মামলায় দেখা যায়, পুলিশ জব্দতালিকায় যাদের সাক্ষী বানিয়েছে তারা স্থানীয় দোকানদার বা পথচারী নন, বরং পুলিশের সাথে আগে থেকেই পরিচিত সোর্স। এমনকি সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা জানান যে তারা মাদক উদ্ধার দেখেননি, কেবল খালি কাগজে সই করেছেন। চার্জ গঠনের শুনানিতে বা ক্রস এক্সামিনেশনের (জেরা) সময় এই আইনি দুর্বলতাগুলো প্রমাণ করতে পারলে আসামির খালাস পাওয়া নিশ্চিত হয়।
৬. শত্রুভাবাপন্ন হয়ে মিথ্যা মাদক মামলায় ফাঁসানো হলে করণীয়
পূর্বশত্রুতা, জমিজমা বিরোধ বা পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে অনেক সময় পকেটে বা বাড়িতে মাদক রেখে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার দুঃখজনক ঘটনা ঘটে। এই অবস্থায় ঘাবড়ে না গিয়ে দ্রুত নিচের আইনি পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে হবে:
সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ: গ্রেফতারের স্থান, সময় ও পদ্ধতির কোনো ডিজিটাল প্রমাণ বা সিসিটিভি ফুটেজ থাকলে তা মেমোরি কার্ড বা ড্রাইভে অবিলম্বে সংরক্ষণ করুন।
রিমান্ডের বিরোধিতা: আদালতে হাজির করার সময় পুলিশ রিমান্ড চাইলে আইনজীবী মারফত সুনির্দিষ্ট যুক্তি দিয়ে রিমান্ড নামঞ্জুরের জোর দাবি জানান।
অব্যাহতির দরখাস্ত (Discharge): তদন্ত কর্মকর্তা চার্জশিট দেওয়ার পর যদি দেখা যায় কোনো বস্তুগত সাক্ষ্যপ্রমাণ নেই, তবে চার্জ গঠনের দিনই মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন করুন।
কোয়াশমেন্ট বা হাইকোর্টে মামলা বাতিল: মামলা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন হলে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১(এ) ধারা অনুযায়ী হাইকোর্টে মামলা বাতিলের দরখাস্ত করা যায়।
⚖️ আইনি কেস মূল্যায়ন ও চেম্বার অ্যাপয়েন্টমেন্ট
আপনার জমি বিরোধ, বাটোয়ারা মামলা, জামিন, তালাক বা সাইবার জটিলতায় বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে সুপ্রিম কোর্ট বা উত্তরা চেম্বারে নথিপত্রসহ সরাসরি বসুন।
আইন অনুযায়ী মাদক মামলার তদন্ত ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে এবং বিচার ট্রাইব্যুনালে গঠনের পর ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে সাক্ষীদের অনুপস্থিতি, রাসায়নিক পরীক্ষকের (Chemical Examiner) রিপোর্টের বিলম্ব এবং মামলার জটের কারণে একটি মামলা শেষ হতে ১ থেকে ৩ বছর পর্যন্ত সময় লেগে যায়। তাই অভিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে দ্রুত জামিন নিশ্চিত করে বাইরে থেকে মামলা পরিচালনা করা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
৮. বিজ্ঞ ফৌজদারি আইনজীবীর কৌশলগত পরামর্শ
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট • চেম্বার কনসাল্টেশন
মাদক মামলায় সঠিক আইনি সহায়তা নিন
মাদক মামলায় জামিন শুনানি এবং চার্জশিটের আইনি ত্রুটি খুঁজে বের করতে সুপ্রিম কোর্টের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ফৌজদারি আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোঃ শাহ আলমের সুচিন্তিত আইনি পরামর্শ গ্রহণ করুন।
৯. কেমিক্যাল ল্যাব টেস্ট রিপোর্ট চ্যালেঞ্জ করার আইনি কৌশল
মাদক মামলায় প্রসিকিউশনের মূল ভিত্তি হলো মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রাসায়নিক পরীক্ষকের (Chemical Examiner) রিপোর্ট। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে তদন্ত কর্মকর্তারা মাদক পরীক্ষার ক্ষেত্রে চরম আইনি অনিয়ম করেন:
🔬 কেমিক্যাল টেস্টের যে ত্রুটিগুলো আদালতে জামিন ও খালাস আনে
নমুনা প্রেরণে অস্বাভাবিক বিলম্ব: মাদক জব্দের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিলগালা করে রাসায়নিক পরীক্ষকের কাছে প্রেরণের কথা থাকলেও পুলিশ যদি সপ্তাহ বা মাসখানেক থানায় অরক্ষিত অবস্থায় রাখে, তবে চেইন অব কাস্টডি (Chain of Custody) নষ্ট হয়ে যায়।
ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমোদনের অনুপস্থিতি: ম্যাজিস্ট্রেটের সীলমোহর ও অনুমতি ছাড়া পাঠানো রিপোর্ট সাক্ষ্য আইনের দৃষ্টিতে প্রশ্নবিদ্ধ।
সক্রিয় উপাদানের অনুপস্থিতি: জব্দকৃত বড়ি বা তরলে অ্যাম্ফিটামিন বা কোডিনের মাত্রা সুনির্দিষ্টভাবে শতকরা হারে উল্লেখ না থাকলে উচ্চ আদালত সন্দেহাতীতভাবে আসামির পক্ষে সিদ্ধান্ত দেন।
১০. পরিবহন ও যানবাহন জিম্মায় (Jimma Petition) নেওয়ার আইনি নিয়ম
মাদক পরিবহনের অভিযোগে অনেক সময় বাস, প্রাইভেট কার, ট্রাক বা মোটরসাইকেল জব্দ করে থানায় বছরের পর বছর ফেলে রাখা হয়। এতে রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে কোটি টাকার যানবাহন ধ্বংস হয়ে যায়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের বিধান মতে, গাড়ির প্রকৃত মালিক যদি প্রমাণ করতে পারেন যে তিনি মাদক পরিবহনের বিষয়ে সম্পূর্ণ অজ্ঞাত ছিলেন এবং চালক তার অজান্তে এটি করেছে, তবে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫১৬(এ) ধারা অনুযায়ী উপযুক্ত বন্ড বা ব্যাংক গ্যারান্টি দাখিল করে সংশ্লিষ্ট দায়রা জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে গাড়ি জিম্মায় (Interim Custody/Jimma) অবমুক্ত করা সম্ভব।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের উচ্চ আদালত মাদক সংক্রান্ত বহু মামলায় ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেছেন যা যেকোনো ফৌজদারি মামলার জামিন শুনানিতে আইনজীবীদের জন্য মূল রেফারেন্স হিসেবে কাজ করে:
⚖️ উচ্চ আদালতের ৩টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
দীর্ঘ হাজতবাস বনাম দ্রুত বিচার:State vs. Md. Rafiqul Islam (BLD 2021) মামলায় মহামান্য হাইকোর্ট রায় দেন যে, তদন্ত কর্মকর্তা যদি যুক্তিসঙ্গত সময়সীমার মধ্যে চার্জশিট বা কেমিক্যাল রিপোর্ট দাখিল করতে ব্যর্থ হন এবং আসামি বিনা বিচারে দীর্ঘকাল আটক থাকেন, তবে সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি জামিনে মুক্তি পাওয়ার আইনগত অধিকারী।
সাক্ষীদের বৈপরীত্য (Contradiction of Witnesses): এজাহারে উদ্ধারকারী দলের যে সদস্যরা স্বাক্ষর করেছেন, তাদের বর্ণনার সাথে যদি জব্দতালিকার প্রস্তুতকারীর বক্তব্য না মেলে, তবে তার সুবিধা (Benefit of Doubt) আসামি পাবেন।
সরাসরি হেফাজত প্রমাণের বাধ্যবাধকতা (Exclusive Possession): কোনো প্রকাশ্য স্থান, গণপরিবহন বা একাধিক ব্যক্তির যৌথ কক্ষ থেকে মাদক উদ্ধার হলে, সেটি যে সুনির্দিষ্টভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তিরই নিয়ন্ত্রণে ছিল তা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করার দায়িত্ব রাষ্ট্রপক্ষের।
১২. মাদক মামলায় জামিনের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্রের তালিকা (Checklist)
আদালতে জামিন আবেদন শুনানির সময় বিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে নিম্নলিখিত নথিপত্রসমূহ দাখিল করা অত্যন্ত জরুরি:
এজাহার বা এফআইআরের সার্টিফাইড কপি (Certified Copy of FIR)।
জব্দতালিকার সত্যায়িত অনুলিপি (Seizure List)।
ফরওয়ার্ডিংসহ ম্যাজিস্ট্রেটের রিমান্ড বা হাজত আদেশের কপি।
আসামির জাতীয় পরিচয়পত্র, পেশাগত পরিচয় বা ছাত্রত্বের প্রমাণপত্র।
আসামির পূর্বের কোনো ক্রিমিনাল রেকর্ড না থাকার প্রত্যয়ন (Clean P.C.P.R)।
অসুস্থতার ক্ষেত্রে রেজিস্টার্ড সরকারি মেডিকেল কলেজের মেডিকেল সার্টিফিকেট ও প্রেসক্রিপশন।
আসামির পক্ষে বিজ্ঞ জামিনদারদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও ট্যাক্স টোকেন।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)
মাদক মামলায় কি জামিন পাওয়া যায়?
হ্যাঁ। উদ্ধারের পরিমাণ, জব্দতালিকায় অসঙ্গতি, পূর্বের কোনো রেকর্ড না থাকা এবং দীর্ঘ হাজতবাসের কারণে ম্যাজিস্ট্রেট, দায়রা বা হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়া যায়।
ইয়াবা মামলায় জামিন পেতে কতদিন সময় লাগে?
ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে জামিন না হলে দায়রা জজ আদালতে ১৫-৩০ দিনের মধ্যে এবং হাইকোর্টে ১-৩ মাসের মধ্যে জামিন শুনানি সম্ভব হয়।
মিথ্যা মাদক মামলায় ফেঁসে গেলে কীভাবে বাঁচবেন?
গ্রেফতারের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করুন, সাক্ষীদের জেরা করে অসঙ্গতি তুলে ধরুন এবং বিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে চার্জ গঠনের সময় অব্যাহতির দরখাস্ত দিন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মৃত্যুদণ্ড কোন কোন ক্ষেত্রে হয়?
৪০০ পিসের বেশি ইয়াবা, ২৫ গ্রামের বেশি হেরোইন বা কোকেন পরিবহন ও বিক্রির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
মাদক মামলার জব্দতালিকা কী?
ঘটনাস্থলে মাদক উদ্ধারের সময় স্থানীয় নিরপেক্ষ সাক্ষীদের উপস্থিতিতে পুলিশ যে লিখিত তালিকা প্রস্তুত করে তাকে জব্দতালিকা বা সিজার লিস্ট বলে।
দায়বর্জন (Disclaimer): এই আর্টিকেলে পরিবেশিত তথ্যসমূহ কেবল আইনি সচেতনতা ও সাধারণ শিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনো প্রত্যক্ষ আইনি পরামর্শ (Legal Advice) নয় এবং এর মাধ্যমে কোনো আইনজীবী-মক্কেল সম্পর্ক (Attorney-Client Relationship) তৈরি হয় না। আপনার সুনির্দিষ্ট মামলার আইনি প্রতিকারের জন্য সরাসরি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বা জজ কোর্টের তালিকাভুক্ত বিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করুন।
আইনি সহায়তা বা জরুরি পরামর্শের প্রয়োজন?
যোগাযোগ করুন এডভোকেট মোঃ শাহ আলম: +880 1712-655546 |
WhatsApp
উত্তরা চেম্বার: বাড়ি ৪৬, রোড ৬/বি, সেক্টর ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০
কোর্ট চেম্বার: আইনজীবী সমিতি ভবন, ৪র্থ তলা, ৬/৭ কোর্ট হাউস স্ট্রিট, কোতোয়ালি, ঢাকা-১১০০