বাংলাদেশে মানহানি আইন – দেওয়ানি ও ফৌজদারি প্রতিকার
লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-03-09 · ৮ মিনিট পড়ুন
⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়।
সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।
অনলাইনে মিথ্যা অভিযোগ। সমাজে ছড়িয়ে দেওয়া বানোয়াট গুজব। প্রতিযোগীর মিথ্যা বক্তব্য যা আপনার ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দেয়। বাংলাদেশে মানহানি ফৌজদারি ও দেওয়ানি উভয় আইনে শাস্তিযোগ্য — এবং সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে সুনামের ক্ষতি হতে পারে তাৎক্ষণিকভাবে। আপনার প্রতিকারের পথ জানাই প্রথম পদক্ষেপ। যেকোনো জটিল আইনি সমস্যায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>-এর আইনি পরামর্শ নিতে পারেন।
বাংলাদেশ আইনে মানহানি কী?
মানহানি হলো এমন মিথ্যা তথ্য প্রকাশ যা অন্য ব্যক্তির সুনাম ক্ষুণ্ণ করে। বাংলাদেশে মানহানির দুটি আইনি মাত্রা আছে:
ফৌজদারি মানহানি:বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪৯৯–৫০২ ধারা দ্বারা পরিচালিত। কারাদণ্ড ও/বা জরিমানাযোগ্য। ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ দায়ের করতে হয়।
দেওয়ানি মানহানি: যা দেওয়ানি আদালতে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবির সুযোগ দেয়।
এছাড়া অনলাইন মানহানি সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩ (CSA)-এ আলাদাভাবে সম্বোধিত। উপযুক্ত ক্ষেত্রে উভয় পথ একইসাথে অনুসরণ করা যায়।
ফৌজদারি মানহানি: দণ্ডবিধির ৪৯৯–৫০২ ধারা
দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারা মানহানিকে সংজ্ঞায়িত করে: কথায় (মৌখিক বা লিখিত), চিহ্নে, বা দৃশ্যমান উপস্থাপনায় এমন অভিযোগ করা বা প্রকাশ করা যা কোনো ব্যক্তির সুনাম ক্ষুণ্ণ করে।
প্রমাণ করতে হবে:
বিবৃতি দেওয়া হয়েছে: কথা বলা, লেখা বা যেকোনোভাবে যোগাযোগ।
বিবৃতি অভিযোগকারীকে উল্লেখ করে।
বিবৃতি কমপক্ষে একজন তৃতীয় পক্ষের কাছে প্রকাশিত।
বিবৃতি সুনামের ক্ষতি করেছে।
আসামির ক্ষতির অভিপ্রায় বা জ্ঞান ছিল।
শাস্তি (৫০০ ধারা): সর্বোচ্চ ২ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয়।
৫০১ ধারা: মানহানিকর বিষয় মুদ্রণ বা খোদাই — একই শাস্তি।
৫০২ ধারা: মুদ্রিত মানহানিকর সামগ্রী বিক্রয় — একই শাস্তি।
ফৌজদারি মানহানির ব্যতিক্রম
৪৯৯ ধারায় ১০টি ব্যতিক্রম আছে — এগুলো সুনাম ক্ষুণ্ণ হলেও মানহানি হিসেবে গণ্য হয় না। সবচেয়ে প্রচলিত:
জনস্বার্থে সত্য কথা: বিবৃতি সত্য এবং প্রকাশ জনকল্যাণে।
সরকারি কর্মকর্তা সম্পর্কে ন্যায্য মন্তব্য: সরকারি কর্মকর্তার সরকারি কাজের মতামত মানহানি নয়।
আদালতের কার্যক্রমের সুষ্ঠু প্রতিবেদন।
সাহিত্যিক সমালোচনা: প্রকাশিত বই বা শিল্পকর্মের ন্যায়সঙ্গত সমালোচনা।
সদিচ্ছায় সতর্কতা।
এই ব্যতিক্রমগুলো কেবল তখনই প্রযোজ্য যখন বিবৃতি সত্যিই সেই সীমার মধ্যে। বিদ্বেষপরায়ণভাবে কাজ করা আসামি "ন্যায্য মন্তব্য" দাবি করে পার পাবেন না।
সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩ (যা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ প্রতিস্থাপন করেছে) ধারা ২৯-এ অনলাইন মানহানি সম্বোধন করে:
অপরাধ: ইন্টারনেটে মানহানিকর বিষয় প্রকাশ (সোশ্যাল মিডিয়া, ওয়েবসাইট, মেসেজিং অ্যাপ)।
শাস্তি: সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড, ৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয়।
গুরুতর ক্ষেত্রে অজামিনযোগ্য।
তদন্ত: সাইবার নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ বা ডিজিটাল ফরেনসিক সক্ষমতাসম্পন্ন পুলিশ ইউনিট।
ফেসবুক পোস্ট, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ বার্তা, ইউটিউব ভিডিও ও অনলাইন সংবাদের ক্ষেত্রে এই ধারা প্রযোজ্য। অভিযোগের আগে স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করুন — অভিযোগের পর বিষয়বস্তু প্রায়ই মুছে দেওয়া হয়।
বাংলাদেশে মানহানির অভিযোগ কীভাবে করবেন
ফৌজদারি মানহানির (দণ্ডবিধি) জন্য:
সাক্ষ্য সংগ্রহ করুন: স্ক্রিনশট, সাক্ষীর বিবৃতি, প্রকাশনার কপি।
সংশ্লিষ্ট এলাকার মুখ্য মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট (CMM) বা মুখ্য বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের (CJM) কাছে নালিশি দরখাস্ত দায়ের।
ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশ তদন্ত নির্দেশ দিতে পারেন বা সরাসরি আসামির বিরুদ্ধে প্রক্রিয়া জারি করতে পারেন।
অনলাইন মানহানির (সাইবার নিরাপত্তা আইন) জন্য:
ডিজিটাল সাক্ষ্য সংরক্ষণ করুন।
সাইবার নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ বা সাইবার পুলিশে অভিযোগ দায়ের।
বিকল্পভাবে CSA-এর অধীনে সাইবার ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ।
দেওয়ানি মানহানির জন্য:
দেওয়ানি আদালতে আরজি দাখিল করে ক্ষতিপূরণ দাবি।
একইসাথে আরো প্রকাশ বন্ধে নিষেধাজ্ঞার আবেদন।
একজন অভিজ্ঞ মানহানি আইনজীবী ঢাকায় আপনার পরিস্থিতিতে সর্বোত্তম প্রতিকারের পরামর্শ দেবেন।
আসামির জন্য উপলব্ধ প্রতিরক্ষা
মানহানির অভিযোগের সম্মুখীন হলে নিচের প্রতিরক্ষাগুলো উপলব্ধ:
হ্যাঁ। দণ্ডবিধির ৪৯৯–৫০২ ধারায় ফৌজদারি মানহানি সর্বোচ্চ ২ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয় দণ্ডে শাস্তিযোগ্য।
সোশ্যাল মিডিয়ায় মানহানির জন্য মামলা করা যাবে?
হ্যাঁ। সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩ ধারা ২৯-এ অনলাইন মানহানি ও দণ্ডবিধিতে মামলাযোগ্য। একইসাথে দেওয়ানি ক্ষতিপূরণ মামলাও করা যায়।
বাংলাদেশে মানহানিতে কি সত্যতা একটি প্রতিরক্ষা?
ফৌজদারিতে জনস্বার্থে সত্য হলে প্রতিরক্ষা। দেওয়ানিতে সত্যতা নিঃশর্ত প্রতিরক্ষা।
মানহানির মামলা দায়েরের সময়সীমা কত?
দেওয়ানি মানহানিতে সাধারণত প্রকাশের তারিখ থেকে এক বছর। ফৌজদারিতে দেরি না করে আইনজীবীর পরামর্শ নিন।
একই বিবৃতির জন্য ফৌজদারি ও দেওয়ানি উভয় মামলা করা যাবে?
হ্যাঁ। ফৌজদারি ও দেওয়ানি মানহানি স্বাধীন — শাস্তির জন্য ফৌজদারি এবং আর্থিক ক্ষতিপূরণের জন্য দেওয়ানি মামলা একসাথে চলতে পারে।
দায়বর্জন (Disclaimer): এই আর্টিকেলে পরিবেশিত তথ্যসমূহ কেবল আইনি সচেতনতা ও সাধারণ শিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনো প্রত্যক্ষ আইনি পরামর্শ (Legal Advice) নয় এবং এর মাধ্যমে কোনো আইনজীবী-মক্কেল সম্পর্ক (Attorney-Client Relationship) তৈরি হয় না। আপনার সুনির্দিষ্ট মামলার আইনি প্রতিকারের জন্য সরাসরি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বা জজ কোর্টের তালিকাভুক্ত বিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করুন।
আইনি সহায়তা বা জরুরি পরামর্শের প্রয়োজন?
যোগাযোগ করুন এডভোকেট মোঃ শাহ আলম: +880 1712-655546 |
WhatsApp
উত্তরা চেম্বার: বাড়ি ৪৬, রোড ৬/বি, সেক্টর ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০
কোর্ট চেম্বার: আইনজীবী সমিতি ভবন, ৪র্থ তলা, ৬/৭ কোর্ট হাউস স্ট্রিট, কোতোয়ালি, ঢাকা-১১০০