লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-15
গ্রাম বা শহরের জমিজমা কিংবা পারিবারিক তুচ্ছ বিরোধ থেকে সংঘটিত সামান্য ধাক্কাধাক্কি বা হাতাহাতির ঘটনাকে বাড়িয়ে থানায় পেনাল কোডের ৩২৬ (মারাত্মক অস্ত্র দিয়ে গুরুতর জখম) কিংবা ৩০৭ ধারা (হত্যাচেষ্টা) জুড়ে দেওয়ার প্রবণতা অত্যন্ত সাধারণ। উদ্দেশ্য একটাই—প্রতিপক্ষকে মাসের পর মাস জামিনহীনভাবে জেলে আটকে রাখা। এই চক্রান্ত থেকে কীভাবে আইনি মুক্তি পাওয়া যায়, তা তুলে ধরেছেন সুপ্রিম কোর্টের প্র্যাকটিসিং আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>।
দণ্ডবিধির ৩২৩ ধারায় সাধারণ মারধরের জন্য ১ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে এবং এটি জামিনযোগ্য (Bailable)। ৩২৪ ধারায় বিপজ্জনক অস্ত্র দ্বারা সাধারণ আঘাত এবং ৩২৫ ধারায় হাড় ভাঙা বা গুরুতর আঘাতের (Grievous Hurt) শাস্তি অনধিক ৭ বছর। কিন্তু ৩২৬ ধারা হলো মারাত্মক মারণাস্ত্র (যেমন ধারালো অস্ত্র, আগুন বা বিষ) প্রয়োগ করে স্থায়ী অঙ্গহানি ঘটানো—যার সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং এটি সম্পূর্ণ অজামিনযোগ্য।
ফৌজদারি মামলায় হয়রানি করতে বাদীপক্ষ প্রায়ই এজাহারে দাবি করে—"আসামিগণ হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় রামদা বা লাঠি দিয়ে কোপ মারিয়াছে"। অথচ বাস্তবতায় হয়তো সাধারণ কিল-ঘুষির ঘটনা ঘটেছে। বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট বা জজ আদালতে ৩০৭ ধারার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে বাদীর মাথার জখমের প্রকৃতি ‘Life-threatening’ বা জীবন সংকটাপন্ন ছিল কি না তা প্রমাণ করা আবশ্যক।
অনেক সময় স্থানীয় সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে যোগসাজশে সাধারণ স্ক্র্যাচ বা কালশিটেকে 'Grievous' লিখে এনে ৩২৬ ধারা পুশ করা হয়। এক্ষেত্রে বিজ্ঞ আদালতে দরখাস্ত দিয়ে সিভিল সার্জন (Civil Surgeon)-এর নেতৃত্বে তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের মেডিকেল বোর্ড গঠনের মাধ্যমে ইনজুরি রিপোর্ট পুনঃপরীক্ষা করানোর স্পষ্ট আইনি নজির রয়েছে।
অজামিনযোগ্য ৩২৬ বা ৩০৭ ধারায় জামিন নেওয়ার মূল অস্ত্র হলো:
উভয় পক্ষের মধ্যে যদি মারামারি হয়ে থাকে এবং নিজেদের পক্ষেও কেউ জখম হয়ে থাকে, তবে তাৎক্ষণিক সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে প্রেসক্রিপশন সংরক্ষণ করতে হবে এবং একই ঘটনার ওপর পাল্টা সিআর বা জিআর মামলা করতে হবে। আইন অনুযায়ী একই ঘটনার দুই মামলার বিচার একসাথে হতে পারে এবং উভয় পক্ষ জামিন পাওয়ার সমতুল্য সুবিধা লাভ করে।
পুলিশ তদন্ত শেষে চার্জশিট জমা দিলে অভিযোগ গঠনের দিনে ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪১-ক (ম্যাজিস্ট্রেট আদালত) বা ২৬৫-সি (দায়রা আদালত) ধারায় বিজ্ঞ আদালতের নিকট মামলা থেকে আসামির নাম খারিজ বা অব্যাহতির দরখাস্ত দেওয়া যায়। তথ্যের ভিত্তিহীনতা আদালতে স্পষ্ট করতে পারলে চার্জ গঠনের আগেই রেহাই মেলে।