মায়ের সম্পত্তিতে ছেলেমেয়ের অধিকার কতটুকু? ২০২৬ সালের আইনি ব্যাখ্যা

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-01

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

<p>একটু ভাবুন — আপনার মা সারাজীবন কষ্ট করে কিছু সম্পত্তি রেখে গেছেন। কিন্তু মারা যাওয়ার পর সেই সম্পত্তিতে আপনি ঠিক কতটুকু পাবেন? অনেকে ভুল ধারণায় থাকেন — মনে করেন ভাই-বোন সমান ভাগ পাবে, বা মেয়েরা পাবে না। আসলে ইসলামি উত্তরাধিকার আইন বলছে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা। বিস্তারিত জানতে <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--gold);font-weight:bold">অ্যাডভোকেট মোঃ শাহ আলম</a>-এর সাথে যোগাযোগ করুন: <a href="tel:01712655546" style="color:var(--gold);font-weight:bold">📞 01712655546</a></p>

এই প্রশ্নটি অনেকেই করেন — "মা বেঁচে থাকতেই কি আমি সম্পত্তিতে ভাগ দাবি করতে পারি?" উত্তরটা সরল: না, পারবেন না।

আপনার মা যতক্ষণ জীবিত আছেন, ততক্ষণ তার সম্পত্তির একমাত্র মালিক তিনি নিজে। বাংলাদেশের সম্পত্তি হস্তান্তর আইন এবং মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী, সন্তান — ছেলে হোক বা মেয়ে — মায়ের জীবদ্দশায় তার সম্পত্তিতে কোনো আইনি দাবি করতে পারে না।

📌 বাস্তব উদাহরণ

রহেলা বেগমের ঢাকায় একটি ফ্ল্যাট আছে। তার ছেলে রফিক দাবি করছে বাবা মারা গেছেন, এখন ফ্ল্যাটে তার ভাগ আছে। কিন্তু আইনগতভাবে রহেলা বেগম জীবিত থাকা পর্যন্ত ফ্ল্যাটটি তার — রফিকের কোনো দাবি নেই। রহেলা বেগম চাইলে সম্পত্তি বিক্রি করতে পারবেন, দান করতে পারবেন, এমনকি ছেলেকে বঞ্চিত করে অন্যকে দিতে পারবেন।

তবে একটি ব্যতিক্রম আছে — যদি মা সম্পত্তি বিক্রি করতে চান বা হস্তান্তর করতে চান, তখন প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানরা তাদের মতামত দিতে পারেন, কিন্তু আইনগতভাবে আটকাতে পারবেন না।

মুসলিম পারিবারিক আইনে (Muslim Personal Law — Shariat Application Act 1937) মায়ের মৃত্যুর পর সম্পত্তি ফারায়েজ নীতি অনুযায়ী বণ্টন হয়।

পরিস্থিতি স্বামী পাবেন ছেলে পাবে মেয়ে পাবে
স্বামী + ২ ছেলে + ২ মেয়ে১/৪প্রত্যেকে ৩/১৪প্রত্যেকে ৩/২৮
স্বামী নেই + ২ ছেলে + ২ মেয়ে—প্রত্যেকে ২/৬প্রত্যেকে ১/৬
স্বামী + শুধু মেয়ে (ছেলে নেই)১/৪—২/৩ ভাগ (মিলে)
শুধু একজন মেয়ে (আর কেউ নেই)——১/২

💡 মূল নিয়ম: ইসলামি আইনে ছেলে সবসময় মেয়ের দ্বিগুণ পায় — এটি কুরআনের আইন। তবে মৃতের আগে দেওয়া হেবা বা উইল থাকলে হিসাব পাল্টে যেতে পারে।

মায়ের মৃত্যুর সময় যদি বাবা (স্বামী) জীবিত থাকেন, তাহলে তিনিও উত্তরাধিকারী। এই ক্ষেত্রে হিসাবটা একটু জটিল।

📊 উদাহরণ হিসাব

মৃতের সম্পত্তি: ৬০ লক্ষ টাকার জমি। ওয়ারিশ: স্বামী + ১ ছেলে + ১ মেয়ে

  • স্বামী পাবেন: ১/৪ = ১৫ লক্ষ টাকা
  • বাকি ৪৫ লক্ষ ছেলেমেয়ে পাবে (ছেলে ২ ভাগ, মেয়ে ১ ভাগ হিসেবে)
  • ছেলে পাবে: ৩০ লক্ষ টাকা
  • মেয়ে পাবে: ১৫ লক্ষ টাকা

এই হিসাবটি বুঝতে না পারলে অনেক পরিবারে বিবাদ হয়। তাই সঠিকভাবে ফারায়েজ হিসাব করার জন্য একজন আইনজীবীর সাহায্য নেওয়া উচিত।

অনেক সময় মায়ের শুধু ছেলে থাকে, বা শুধু মেয়ে থাকে। এই দুই পরিস্থিতিতে আইন ভিন্নভাবে কাজ করে।

👦 শুধু ছেলে থাকলে

  • স্বামী থাকলে ১/৪, বাকিটা ছেলেরা পাবে
  • স্বামী না থাকলে সমস্ত সম্পত্তি ছেলেরা সমানভাবে পাবে
  • ছেলে একজন হলে সব পাবে
  • দুই ছেলে হলে অর্ধেক অর্ধেক পাবে

👧 শুধু মেয়ে থাকলে

  • একজন মেয়ে: মায়ের সম্পত্তির ১/২ পাবে
  • দুই বা তার বেশি মেয়ে: একসাথে ২/৩ পাবে
  • বাকি সম্পত্তি মৃতের ভাই-বোন বা অন্য আত্মীয়দের মধ্যে যাবে
  • এই বাকি অংশকে বলে "আসাবা"

⚠️ সাবধান! অনেক মেয়ে জানেন না যে শুধু মেয়েরা থাকলে সম্পত্তির ১/৩ মায়ের ভাইয়েরা পেয়ে যাবে। এই অধিকার আদায় করতে অনেকে আদালতে যান।

বাংলাদেশে অনেক পরিবারে এখনও একটি ভুল ধারণা প্রচলিত — মেয়েরা সম্পত্তি পাবে না, বা মেয়েরা বিয়ে হয়ে গেলে সম্পত্তির অধিকার হারায়। এটি সম্পূর্ণ ভুল।

✅ সত্য তথ্য

  • বিয়ের পরেও মেয়ের অধিকার থাকে — বিয়ে হলেই সম্পত্তির অধিকার যায় না
  • যৌতুক নিলেও অধিকার যায় না — যৌতুক আলাদা, উত্তরাধিকার আলাদা
  • দেনমোহর নিলেও অধিকার যায় না — মোহর ও উত্তরাধিকার দুটি ভিন্ন বিষয়
  • মৌখিক "মাফ" করলেও আদালতে দাবি করা যায় — মৌখিক ছাড়ের আইনি কোনো মূল্য নেই

তবে যদি মেয়ে লিখিতভাবে, নিজের ইচ্ছায়, রেজিস্ট্রিকৃত দলিলে সম্পত্তির অধিকার ছেড়ে দেন — সেটি আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য।

হিন্দু উত্তরাধিকার আইনে (Hindu Succession Act) নিয়ম ভিন্ন। বাংলাদেশে হিন্দু পরিবারের ক্ষেত্রে দায়ভাগ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।

  • হিন্দু আইনে মায়ের মৃত্যুর পর স্বামী ও ছেলেমেয়ে সমান অংশ পায়
  • মেয়ে ও ছেলে সমান অধিকার পায় (ভারতে ২০০৫ সালে সংশোধনের পর)
  • বাংলাদেশে হিন্দু আইন এখনও পুরোনো নিয়মে চলে — মেয়েরা কিছু ক্ষেত্রে বঞ্চিত হন
  • মায়ের "স্ত্রীধন" (নিজের আয়, গহনা) সন্তানদের সমানভাবে যায়

পরিবারে সম্পত্তি ভাগ নিয়ে বিরোধ হলে প্রথমে সালিশ বা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করুন। কিন্তু যদি সেটা না হয়, তাহলে আদালতে যেতে হবে।

১

ওয়ারিশ সনদ তুলুন

মৃত্যুর পর প্রথমে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা থেকে ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ করুন।

২

ফারায়েজ হিসাব করান

আইনজীবী বা মাতবর দিয়ে ফারায়েজ অনুযায়ী সঠিক ভাগ হিসাব করান।

৩

বাটোয়ারা মামলা দায়ের করুন

বিবাদ মিটমাট না হলে দেওয়ানি আদালতে বাটোয়ারা মামলা করুন। আদালত নিজে ভাগ করে দেবে।

⚖️ সম্পত্তি বিভাগে সরাসরি সহায়তা পান

মায়ের সম্পত্তির ন্যায্য ভাগ পেতে বা পরিবারে বিরোধ মেটাতে অ্যাডভোকেট মোঃ শাহ আলম-এর সাথে যোগাযোগ করুন। তিনি সম্পত্তি বণ্টন মামলায় অভিজ্ঞ।

📞 কল করুন: 01712655546 💬 WhatsApp 📍 চেম্বার ঠিকানা