লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-01
<p>একটু ভাবুন — আপনার মা সারাজীবন কষ্ট করে কিছু সম্পত্তি রেখে গেছেন। কিন্তু মারা যাওয়ার পর সেই সম্পত্তিতে আপনি ঠিক কতটুকু পাবেন? অনেকে ভুল ধারণায় থাকেন — মনে করেন ভাই-বোন সমান ভাগ পাবে, বা মেয়েরা পাবে না। আসলে ইসলামি উত্তরাধিকার আইন বলছে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা। বিস্তারিত জানতে <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--gold);font-weight:bold">অ্যাডভোকেট মোঃ শাহ আলম</a>-এর সাথে যোগাযোগ করুন: <a href="tel:01712655546" style="color:var(--gold);font-weight:bold">📞 01712655546</a></p>
এই প্রশ্নটি অনেকেই করেন — "মা বেঁচে থাকতেই কি আমি সম্পত্তিতে ভাগ দাবি করতে পারি?" উত্তরটা সরল: না, পারবেন না।
আপনার মা যতক্ষণ জীবিত আছেন, ততক্ষণ তার সম্পত্তির একমাত্র মালিক তিনি নিজে। বাংলাদেশের সম্পত্তি হস্তান্তর আইন এবং মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী, সন্তান — ছেলে হোক বা মেয়ে — মায়ের জীবদ্দশায় তার সম্পত্তিতে কোনো আইনি দাবি করতে পারে না।
রহেলা বেগমের ঢাকায় একটি ফ্ল্যাট আছে। তার ছেলে রফিক দাবি করছে বাবা মারা গেছেন, এখন ফ্ল্যাটে তার ভাগ আছে। কিন্তু আইনগতভাবে রহেলা বেগম জীবিত থাকা পর্যন্ত ফ্ল্যাটটি তার — রফিকের কোনো দাবি নেই। রহেলা বেগম চাইলে সম্পত্তি বিক্রি করতে পারবেন, দান করতে পারবেন, এমনকি ছেলেকে বঞ্চিত করে অন্যকে দিতে পারবেন।
তবে একটি ব্যতিক্রম আছে — যদি মা সম্পত্তি বিক্রি করতে চান বা হস্তান্তর করতে চান, তখন প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানরা তাদের মতামত দিতে পারেন, কিন্তু আইনগতভাবে আটকাতে পারবেন না।
মুসলিম পারিবারিক আইনে (Muslim Personal Law — Shariat Application Act 1937) মায়ের মৃত্যুর পর সম্পত্তি ফারায়েজ নীতি অনুযায়ী বণ্টন হয়।
| পরিস্থিতি | স্বামী পাবেন | ছেলে পাবে | মেয়ে পাবে |
|---|---|---|---|
| স্বামী + ২ ছেলে + ২ মেয়ে | ১/৪ | প্রত্যেকে ৩/১৪ | প্রত্যেকে ৩/২৮ |
| স্বামী নেই + ২ ছেলে + ২ মেয়ে | — | প্রত্যেকে ২/৬ | প্রত্যেকে ১/৬ |
| স্বামী + শুধু মেয়ে (ছেলে নেই) | ১/৪ | — | ২/৩ ভাগ (মিলে) |
| শুধু একজন মেয়ে (আর কেউ নেই) | — | — | ১/২ |
💡 মূল নিয়ম: ইসলামি আইনে ছেলে সবসময় মেয়ের দ্বিগুণ পায় — এটি কুরআনের আইন। তবে মৃতের আগে দেওয়া হেবা বা উইল থাকলে হিসাব পাল্টে যেতে পারে।
মায়ের মৃত্যুর সময় যদি বাবা (স্বামী) জীবিত থাকেন, তাহলে তিনিও উত্তরাধিকারী। এই ক্ষেত্রে হিসাবটা একটু জটিল।
মৃতের সম্পত্তি: ৬০ লক্ষ টাকার জমি। ওয়ারিশ: স্বামী + ১ ছেলে + ১ মেয়ে
এই হিসাবটি বুঝতে না পারলে অনেক পরিবারে বিবাদ হয়। তাই সঠিকভাবে ফারায়েজ হিসাব করার জন্য একজন আইনজীবীর সাহায্য নেওয়া উচিত।
অনেক সময় মায়ের শুধু ছেলে থাকে, বা শুধু মেয়ে থাকে। এই দুই পরিস্থিতিতে আইন ভিন্নভাবে কাজ করে।
⚠️ সাবধান! অনেক মেয়ে জানেন না যে শুধু মেয়েরা থাকলে সম্পত্তির ১/৩ মায়ের ভাইয়েরা পেয়ে যাবে। এই অধিকার আদায় করতে অনেকে আদালতে যান।
বাংলাদেশে অনেক পরিবারে এখনও একটি ভুল ধারণা প্রচলিত — মেয়েরা সম্পত্তি পাবে না, বা মেয়েরা বিয়ে হয়ে গেলে সম্পত্তির অধিকার হারায়। এটি সম্পূর্ণ ভুল।
তবে যদি মেয়ে লিখিতভাবে, নিজের ইচ্ছায়, রেজিস্ট্রিকৃত দলিলে সম্পত্তির অধিকার ছেড়ে দেন — সেটি আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য।
হিন্দু উত্তরাধিকার আইনে (Hindu Succession Act) নিয়ম ভিন্ন। বাংলাদেশে হিন্দু পরিবারের ক্ষেত্রে দায়ভাগ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।
পরিবারে সম্পত্তি ভাগ নিয়ে বিরোধ হলে প্রথমে সালিশ বা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করুন। কিন্তু যদি সেটা না হয়, তাহলে আদালতে যেতে হবে।
মৃত্যুর পর প্রথমে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা থেকে ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ করুন।
আইনজীবী বা মাতবর দিয়ে ফারায়েজ অনুযায়ী সঠিক ভাগ হিসাব করান।
বিবাদ মিটমাট না হলে দেওয়ানি আদালতে বাটোয়ারা মামলা করুন। আদালত নিজে ভাগ করে দেবে।
মায়ের সম্পত্তির ন্যায্য ভাগ পেতে বা পরিবারে বিরোধ মেটাতে অ্যাডভোকেট মোঃ শাহ আলম-এর সাথে যোগাযোগ করুন। তিনি সম্পত্তি বণ্টন মামলায় অভিজ্ঞ।