লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-07-22
বাংলাদেশে পিতার সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিয়ে যত আলোচনা হয়, মায়ের সম্পত্তির বণ্টন নিয়ে সচেতনতা তার চেয়ে অনেক কম। অনেক পরিবারেই প্রশ্ন জাগে—মায়ের মৃত্যুর পর তার নিজের অর্জিত বা পৈতৃক সম্পত্তি কে কতটুকু পাবে? মায়ের জীবিত অবস্থায় কি সন্তানরা সম্পত্তির দাবি করতে পারে? স্বামী বা মেয়ের অংশ কত? ২০২৬ সালের হালনাগাদ মুসলিম ও প্রচলিত উত্তরাধিকার আইনের আলোকে মায়ের সম্পত্তি বণ্টনের প্রতিটি আইনি ধাপ ও সঠিক অনুপাত এই গাইডে আলোচনা করা হলো। যেকোনো জটিল আইনি সমস্যায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>-এর আইনি পরামর্শ নিতে পারেন।
বাংলাদেশে মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী, নারীদের সম্পত্তির ওপর পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন মালিকানা স্বীকৃত। মুসলিম পার্সোনাল ল (শরিয়ত) অ্যাপ্লিকেশন অ্যাক্ট, ১৯৩৭ এবং মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ অনুসারে একজন নারী তার মালিকানাধীন সম্পত্তির সম্পূর্ণ একক স্বত্বাধিকারী।
মায়ের সম্পত্তির উৎস মূলত ৩ ধরনের হতে পারে:
আইনগতভাবে এই তিন প্রকারের যেকোনো উৎস থেকেই সম্পত্তি আসুক না কেন, মায়ের মৃত্যুর পর তা ফারায়েজ (ইসলামিক উত্তরাধিকার বিধি) অনুযায়ী ওয়ারিশদের মধ্যে বন্টিত হবে।
অনেক পরিবারে ভুল ধারণা রয়েছে যে মা জীবিত থাকা অবস্থাতেই সন্তানরা মায়ের জমির অংশ দাবি করতে পারে। আইনি সত্য হলো—মা জীবিত থাকা অবস্থায় কোনো সন্তান মায়ের সম্পত্তির ওপর কোনো আইনি অধিকার বা দাবি রাখতে পারে না।
মা জীবিত অবস্থায় তার সম্পত্তির ব্যাপারে নিম্নলিখিত সিদ্ধান্ত নিতে সম্পূর্ণ স্বাধীন:
তবে মা যদি মানসিক ভারসাম্যহীন হন অথবা জালিয়াতি বা ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে কোনো এক সন্তান সব সম্পত্তি আত্মসাৎ করতে চায়, তবে অন্য সন্তানরা দেওয়ানি আদালতে নিষেধাজ্ঞা (Injunction) মামলা দায়ের করতে পারেন।
মায়ের মৃত্যুর পর প্রথমে মায়ের কোনো ঋণ বা বকেয়া দেনমোহর (যদি থাকে) তা পরিশোধ করতে হবে এবং তার যদি কোনো বৈধ ওসিয়ত (সর্বোচ্চ ১/৩ অংশ) থাকে তা পূরণ করার পর অবশিষ্ট সম্পত্তি ওয়ারিশদের মধ্যে বণ্টন করা হয়।
মায়ের প্রধান ওয়ারিশরা হলেন: স্বামী (পিতা), সন্তান (ছেলে ও মেয়ে), এবং মায়ের নিজ পিতা-মাতা (যদি তারা জীবিত থাকেন)।
| ওয়ারিশ (উত্তরাধিকারী) | শর্ত/পরিস্থিতি | আইনি অংশ (Share) |
|---|---|---|
| স্বামী (মৃতার স্বামী) | সন্তান বা নাতি-নাতনি থাকলে | ১/৪ অংশ (২৫%) |
| স্বামী (মৃতার স্বামী) | কোনো সন্তান না থাকলে | ১/২ অংশ (৫০%) |
| মাতা (মৃতার নিজ মা) | সন্তান বা একাধিক ভাইবোন থাকলে | ১/৬ অংশ |
| পিতা (মৃতার নিজ বাবা) | সন্তান থাকলে | ১/৬ অংশ |
| ছেলে ও মেয়ে | স্বামী ও পিতামাতার অংশ দেওয়ার পর বাকি অংশে | ছেলে পাবে মেয়ের দ্বিগুণ (২:১ অনুপাত) |
পিতার সম্পত্তির মতো মায়ের সম্পত্তির ক্ষেত্রেও মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে 'ছেলে পাবে মেয়ের দ্বিগুণ' নীতি প্রযোজ্য।
ধরা যাক, মায়ের মোট সম্পত্তি ১২ শতক জমি। মায়ের মৃত্যুর সময় তার স্বামী (পিতা), ২ জন ছেলে এবং ১ জন মেয়ে জীবিত আছেন। (মায়ের পিতামাতা পূর্বে মারা গেছেন ধরে নিয়ে):
এই হিসাব অনুযায়ী ৩ শতক স্বামী + ৭.২ শতক ২ ছেলে + ১.৮ শতক ১ মেয়ে = মোট ১২ শতক জমি নির্ভুলভাবে বণ্টিত হলো।
অনেকে না জেনে মনে করেন মায়ের সম্পত্তি শুধুই সন্তানেরা পাবে, স্বামী কিছু পাবেন না। এটি একটি মস্ত বড় আইনি ভুল।
আইন অনুযায়ী স্ত্রী আগে মারা গেলে স্ত্রীর সম্পত্তিতে স্বামীর সুস্পষ্ট অধিকার রয়েছে:
স্বামী জীবিত থাকা অবস্থায় সন্তানদের সাথে সমানভাবে ওয়ারিশ হবেন এবং নামজারি খতিয়ানে তার নামও যুক্ত হবে।
যদি মায়ের কোনো ছেলে সন্তান না থাকে, শুধু মেয়ে থাকে, তবে সম্পত্তি বণ্টনে ফারায়েজের বিশেষ নিয়ম প্রয়োগ হয়:
যদি মা জীবিত অবস্থায় চান যে তার মৃত্যুর পর তার কন্যাসন্তানরা যেন সম্পূর্ণ জমি পায় এবং দূর সম্পর্কের আত্মীয়রা অংশ না পায়, তবে মা জীবদ্দশাতেই রেজিস্ট্রিকৃত হেবা বিল এওয়াজ বা দান দলিলে মেয়েদের নামে জমি লিখে দিয়ে যেতে পারেন।
বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে মায়ের সম্পত্তি যেভাবেই অর্জিত হোক না কেন, বণ্টনের নিয়মে কোনো পার্থক্য নেই।
অনেকে মনে করেন মা যদি তার বাবার বাড়ি থেকে সম্পত্তি পান, তবে তা শুধু মেয়রাই পাবে বা শুধু ভাইয়েরা পাবে—এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন কথা। পিতা থেকে পাওয়া জমি হোক কিংবা দেনমোহরে পাওয়া জমি হোক, মায়ের মৃত্যুর মুহূর্ত থেকে তা ফারায়াজের সাধারণ বণ্টন নীতি অনুযায়ী স্বামী, ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে বন্টিত হবে।
মায়ের সম্পত্তি বণ্টন ও নামজারির সময় পরিবারে কিছু মারাত্মক ভুল দেখা যায়:
⚖️ বিশেষজ্ঞ আইনি পরামর্শের জন্য যোগাযোগ: আপনার আইনি বিষযটি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম-এর সাথে সরাসরি কথা বলুন বা আমাদের বিশেষজ্ঞ আইনি সেবা গ্রহণ করুন। যেকোনো প্রয়োজনে সরাসরি যোগাযোগ পেজে ক্লিক করুন।