লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-17
ব্যবসায়িক পাওনা টাকা চাওয়া, চাকরি ছাড়ার দাবি করা কিংবা পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রতিশোধ নিতে সবচেয়ে বেশি অপব্যবহার করা হয় পেনাল কোডের ৩৭৯ (চুরি) ও ৩৮০ ধারা (বসতবাড়িতে চুরি)। মালিকপক্ষ অনেক সময় নিজের আলমারি থেকে স্বর্ণ বা নগদ টাকা চুরির সাজানো গল্প বানিয়ে নির্দোষ কর্মচারীকে থানায় সোপর্দ করেন। মিথ্যা চুরির অভিযোগ থেকে দ্রুত জামিন ও বেকসুর খালাস পাওয়ার বাস্তব কৌশল তুলে ধরেছেন সুপ্রিম কোর্টের প্র্যাকটিসিং আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>।
পেনাল কোডের ৩৭৯ ধারায় সাধারণ চুরির শাস্তি সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড এবং এটি জামিনযোগ্য (Bailable)। তবে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে বাদীপক্ষ প্রায়ই এজাহারে বসতবাড়ির কথা উল্লেখ করে ৩৮০ ধারা জুড়ে দেন, যার শাস্তি সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং এটি অজামিনযোগ্য (Non-bailable)। ফলে পুলিশ সহজেই আসামিকে আদালতে চালান করে দেয়।
ফৌজদারি আইনের প্রতিষ্ঠিত নীতি অনুযায়ী—শুধুমাত্র মুখের কথায় চুরির অভিযোগ প্রমাণ হয় না। বাদীকে অকাট্যভাবে প্রমাণ করতে হবে যে কথিত মালটি প্রকৃতপক্ষে তার দখলে ছিল এবং তা আসামির হেফাজত থেকে পুলিশ আইনসম্মতভাবে উদ্ধার করেছে। আসামির কাছ থেকে কোনো মাল উদ্ধার না হলে চুরির অভিযোগের মেরুদণ্ড ভেঙে পড়ে।
৩৮০ ধারার মামলায় আদালতে সারেন্ডার করে জামিন প্রার্থনার সময় বিজ্ঞ আইনজীবীকে তুলে ধরতে হবে:
ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৩ ধারা অনুযায়ী জব্দতালিকায় স্থানীয় নিরপেক্ষ গণ্যমান্য সাক্ষীর সই থাকা বাধ্যতামূলক। পুলিশ যদি বাদীর ঘনিষ্ঠ লোক বা নিজস্ব সোর্স দিয়ে রাতের আঁধারে সাজানো জব্দতালিকা তৈরি করে, তবে আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণের সময় জেরা (Cross-examination) করে সেই জব্দতালিকা অবৈধ প্রমাণ করা যায়।
পুলিশ তদন্ত শেষে মনগড়া চার্জশিট দিলেও চার্জ গঠনের দিনে ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪১(ক) ধারায় বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অব্যাহতির দরখাস্ত দেওয়া যায়। কোনো প্রত্যক্ষদর্শী বা উদ্ধার না থাকলে আদালত আসামিকে ট্রায়াল শুরুর আগেই মামলা থেকে চিরতরে খালাস দেন।
মিথ্যা চুরির মামলা থেকে খালাস পাওয়ার পর ক্ষান্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই। যে ব্যক্তি জেনে-শুনে ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে, তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২১১ ধারা (False Charge) অনুযায়ী পাল্টা ফৌজদারি মামলা করে তাকে সর্বোচ্চ ২ থেকে ৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করানো যায়।