লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-13
পারিবারিক মনোমালিন্য থেকে হঠাৎ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(গ) বা যৌতুক নিরোধ আইনে মিথ্যা মামলা হওয়া এখন এজলাসের নিয়মিত চিত্র। ভুয়া মামলায় ফেঁসে গেলে ঘাবড়ে না গিয়ে কীভাবে সাক্ষ্য-প্রমাণ দিয়ে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করবেন এবং সুপ্রিম কোর্ট থেকে মামলা বাতিল (Quashment) করবেন, তা নিয়ে বিস্তারিত গাইড। আইনি সহায়তায় <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>-এর শরণাপন্ন হন।
আদালতের প্র্যাকটিসে এমন বহু ঘটনার সাক্ষী হয়েছি, যেখানে স্বামী-স্ত্রীর সাধারণ দাম্পত্য কলহ কিংবা শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সাথে সামান্য মতবিরোধের জেরে সোজা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ১০ লাখ বা ২০ লাখ টাকা যৌতুকের মামলা ঠুকে দেওয়া হয়েছে। মামলায় শুধু স্বামী নন, বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়ি এমনকি প্রবাসে থাকা দেবর-ননদকেও আসামি করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে পুরো পরিবার চরম মানসিক ও সামাজিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
এমন মামলা হওয়ার পর বেশিরভাগ পরিবার ভয় পেয়ে যায় এবং প্রথম যে ভুলটি করে তা হলো—দালালদের খপ্পরে পড়ে লাখ লাখ টাকা নষ্ট করা কিংবা আতঙ্কে আত্মগোপনে চলে যাওয়া। অনেকে মনে করেন আপস করলেই মুক্তি মিলবে, ফলে বাধ্য হয়ে অন্যায় দাবির কাছে মাথা নত করেন। মনে রাখবেন, যৌতুক ও নারী নির্যাতনের মামলা জামিন-অযোগ্য হলেও সঠিক আইনি ধারায় আগালে প্রথম দিন থেকেই আদালতের পূর্ণ সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব।
মামলা যখন তদন্তাধীন থাকে, তখন বসে না থেকে তদন্তকারী কর্মকর্তার (IO) নিকট লিখিতভাবে নিজের নির্দোষিতার প্রমাণ পেশ করতে হবে:
যদি পুলিশ পক্ষপাতমূলকভাবে চার্জশিট দাখিল করে ফেলে, তবুও ঘাবড়ানোর কারণ নেই। ট্রাইব্যুনালে যখন অভিযোগ গঠন (Charge Framing) শুনানি হয়, তখন ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪১(ক) বা ২৬৫(গ) ধারায় অব্যাহতি (Discharge)-র আবেদন করতে হয়। আইনজীবী যদি নথিপত্র দিয়ে প্রমাণ করতে পারেন যে এজাহারের অভিযোগ বানোয়াট এবং কোনো সুনির্দিষ্ট সাক্ষ্য নেই, তবে বিজ্ঞ আদালত বিচার শুরুর আগেই আসামিকে বেকসুর খালাস দিতে পারেন।
যদি দেখা যায় মামলাটি স্পষ্টতই হয়রানিমূলক এবং কোনো প্রাথমিক উপাদান ছাড়াই ব্ল্যাকমেইলের উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়েছে, তবে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১(এ) ধারায় কোয়াশমেন্ট (Quashment) পিটিশন ফাইল করা যায়। হাইকোর্ট বিভাগ মামলার সমস্ত কার্যক্রম স্থগিত (Stay) করে দিতে পারেন এবং শুনানি শেষে সম্পূর্ণ মামলাটি বাতিল ঘোষণা করার ক্ষমতা রাখেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এর ১৭ ধারায় এবং যৌতুক নিরোধ আইন ২০১৮-এর ৫ ধারায় স্পষ্ট বলা আছে—কোনো ব্যক্তি অসৎ উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা দায়ের করলে বাদীর নিজেরই সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড হবে। এছাড়া পেনাল কোডের ২১১ ধারায় মিথ্যা অভিযোগ দায়েরের জন্য পাল্টা মামলা ও ক্ষতিপূরণ দাবি করা যায়।
মামলা লড়তে সাথে যা যা গুছিয়ে রাখবেন: