মিথ্যা যৌতুক ও পারিবারিক নির্যাতন মামলা থেকে আইনি প্রতিরক্ষা ও জামিন পাওয়ার নিয়ম

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-07-22

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

পারিবারিক মনোমালিন্য বা বিবাহবিচ্ছেদের জেরে অনেক সময় যৌতুক নিরোধ আইন এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মতো কঠোর আইনকে হাতিয়ার বানিয়ে স্বামী ও তার বয়োবৃদ্ধ পিতা-মাতা বা স্বজনদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করার প্রবণতা দেখা যায়। জামিনঅযোগ্য ধারার কারণে নির্দোষ পরিবারগুলো চরম সামাজিক ও আইনি হয়রানির শিকার হন। মিথ্যা যৌতুক বা নারী নির্যাতন মামলা দায়ের করা হলে ভয় না পেয়ে কীভাবে আইনজীবী মারফত জামিন নেবেন, মামলা খারিজ (Quashment) করাবেন এবং মিথ্যা মামলাকারীর বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করবেন—তার আইনি সমাধান নিচে দেওয়া হলো। যেকোনো জটিল আইনি সমস্যায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>-এর আইনি পরামর্শ নিতে পারেন।

যৌতুক নিরোধ আইন ২০১৮ ও নারী নির্যাতন আইনের অপব্যবহার

যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০২০) নারীদের সুরক্ষার জন্য তৈরি হলেও পারিবারিক শত্রুতার জেরে এর অপব্যবহার ঘটছে। সাধারণ যৌতুকের মিথ্যা অভিযোগ বা ১১(গ) ধারায় (সাধারণ মারধর) স্বামী ও ভাসুর/ননদদের নাম জড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

মিথ্যা মামলা দায়ের হলে প্রথম ৩টি তাৎক্ষণিক করণীয়

  1. সার্টিফাইড কপি বা এজাহারের অনুলিপি সংগ্রহ: মামলার ধারা ও অভিযোগ জানতে দ্রুত আইনজীবীর মাধ্যমে মামলার কপি তুলুন।
  2. প্রমাণ ও অকাট্য আলামত (Alibi Evidence) তৈরি: ঘটনার তারিখে আসামি ঘটনাস্থলে ছিলেন না (অন্য অফিসে/বিদেশে/হাসপাতালে ছিলেন) তার প্রমাণপত্র (সিসিটিভি ফুটেজ, পাসপোর্ট টিকিট, অফিস হাজিরা) সংগ্রহ করুন।
  3. হাইকোর্ট বা ট্রাইব্যুনালে জামিন আবেদন: গ্রেপ্তার এড়াতে দ্রুত অন্তর্বর্তীকালীন জামিন বা হাইকোর্টে অগ্রিম জামিন ফাইল করুন।

যৌতুক নিরোধ আইন ২০১৮ এর ৬ ধারা (মিথ্যা মামলার শাস্তি)

যৌতুক নিরোধ আইন ২০১৮ এর ৬ ধারা অনুযায়ী: কোনো ব্যক্তি যদি অন্য কোনো ব্যক্তির ক্ষতি সাধনের উদ্দেশ্যে যৌতুকের মিথ্যা মামলা দায়ের করেন, তবে বাদীকে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০,০০০ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে।

হাইকোর্ট বিভাগে মামলা বাতিলের আবেদন (Section 561A CrPC Quashment)

যদি দেখা যায় মামলাটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং কেবল হয়রানির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, তবে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১/এ ধারায় হাইকোর্ট বিভাগে মামলা বাতিলের আবেদন (Quashment Application) করে নিম্ন আদালতের মামলা স্থায়ীভাবে রদ/বাতিল করানো যায়।

⚖️ বিশেষজ্ঞ আইনি পরামর্শের জন্য যোগাযোগ: আপনার আইনি বিষযটি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম-এর সাথে সরাসরি কথা বলুন বা আমাদের বিশেষজ্ঞ আইনি সেবা গ্রহণ করুন। যেকোনো প্রয়োজনে সরাসরি যোগাযোগ পেজে ক্লিক করুন।