নাবালকের সম্পত্তি বিক্রয়ে আদালতের অনুমতি নেওয়ার নিয়ম

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-08-04

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

<p>পৈতৃক বা অন্য কোনো সূত্রে পাওয়া নাবালকের (১৮ বছরের কম বয়সী) সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তান্তর করা অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি আইনি বিষয়। আইন নাবালকের স্বার্থ রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। অনেকেই না জেনে আদালতের অনুমতি ছাড়াই নাবালকের সম্পত্তি বিক্রি করে দেন, যা আইনত সম্পূর্ণ অবৈধ এবং পরবর্তীতে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়কেই চরম আইনি জটিলতায় ফেলে। মুসলিম আইন এবং 'গার্ডিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্ডস অ্যাক্ট, ১৮৯০' (Guardians and Wards Act, 1890) অনুযায়ী, নাবালকের স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করতে হলে অবশ্যই উপযুক্ত আদালতের পূর্বানুমতি নিতে হবে। এই আর্টিকেলে আমরা নাবালকের সম্পত্তি বিক্রয়ের আইনি বিধিবিধান, আদালতে আবেদন করার প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।</p>

মুসলিম ব্যক্তিগত আইন অনুযায়ী, নাবালকের অভিভাবককে সাধারণত দুই ভাগে ভাগ করা হয়: ব্যক্তি বা শরীরের অভিভাবক এবং সম্পত্তির অভিভাবক। সম্পত্তির ক্ষেত্রে পিতা হলেন স্বাভাবিক বা আইনি অভিভাবক (Legal Guardian)। পিতার অবর্তমানে পিতার নিয়োগ করা ব্যক্তি, অথবা দাদা বা দাদার নিয়োগ করা ব্যক্তি আইনগত অভিভাবক হতে পারেন। মুসলিম আইনে মা নাবালকের শরীরের জিম্মাদার (Hizanat) হলেও, সম্পত্তির আইনি অভিভাবক নন, তিনি 'ডি ফ্যাক্টো' (De Facto) অভিভাবক মাত্র। একজন ডি ফ্যাক্টো অভিভাবকের নাবালকের স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি, বন্ধক বা হস্তান্তর করার কোনো আইনি ক্ষমতা নেই। তাই, মা বা অন্য কোনো আত্মীয়কে নাবালকের সম্পত্তি বিক্রি করতে হলে অবশ্যই আদালতের মাধ্যমে নিজেকে আইনি অভিভাবক হিসেবে নিয়োগ করাতে হবে এবং বিক্রির অনুমতি নিতে হবে।

নাবালকের শরীর ও সম্পত্তির সার্বিক কল্যাণের জন্য ব্রিটিশ আমলে 'Guardians and Wards Act, 1890' প্রণয়ন করা হয়, যা বাংলাদেশে আজও কার্যকর। এই আইনের অধীনে জেলা জজ আদালত (যা বর্তমানে পারিবারিক আদালত হিসেবেও কাজ করে) অভিভাবক নিয়োগ এবং সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা প্রয়োগ করে। এই আইনের ২৯ ধারা অনুযায়ী, আদালতের নিয়োগকৃত বা ঘোষিত কোনো অভিভাবক আদালতের পূর্বানুমতি ছাড়া নাবালকের স্থাবর সম্পত্তি বন্ধক, বিক্রি, দান, বিনিময় বা ৫ বছরের বেশি সময়ের জন্য ইজারা দিতে পারবেন না। ৩১ ধারা অনুযায়ী, আদালত কেবল তখনই এই ধরনের হস্তান্তরের অনুমতি দেবেন যখন তা নাবালকের জন্য 'অপরিহার্য প্রয়োজন' (Necessity) বা 'সুস্পষ্ট কল্যাণ' (Evident Advantage)-এর জন্য করা হচ্ছে বলে প্রমাণিত হবে।

নাবালক যেহেতু নিজের ভালো-মন্দ বুঝতে অক্ষম, তাই তার সম্পত্তি যেন কেউ আত্মসাৎ বা নষ্ট করতে না পারে, সেজন্য রাষ্ট্র বা আদালত তার 'প্যারেন্টস প্যাট্রিয়া' (Ultimate Guardian) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। আদালত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে দেখেন যে, সম্পত্তি বিক্রির উদ্দেশ্য আসলেই নাবালকের কল্যাণে কিনা। যেমন—নাবালকের চিকিৎসা, শিক্ষা, ভরণপোষণ, অথবা ওই সম্পত্তি বিক্রি করে আরও লাভজনক কোনো সম্পত্তি কেনা হবে কিনা। আদালত নিশ্চিত হতে চান যে, অভিভাবক নিজের স্বার্থে নাবালকের সম্পদ ব্যবহার করছেন না। আদালতের এই কঠোর নজরদারির কারণেই অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

নাবালকের সম্পত্তি বিক্রির জন্য প্রথমে এখতিয়ারসম্পন্ন জেলা জজ বা পারিবারিক আদালতে (যেখানে নাবালক বসবাস করে বা সম্পত্তিটি অবস্থিত) একটি বিবিধ মামলা (Miscellaneous Case) দায়ের করতে হয়। আবেদনে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে কেন সম্পত্তিটি বিক্রি করা প্রয়োজন, সম্পত্তির বর্তমান বাজার মূল্য কত, সম্ভাব্য ক্রেতা কে, এবং বিক্রিলব্ধ অর্থ কীভাবে নাবালকের কল্যাণে ব্যয় করা হবে। আদালত আবেদন পাওয়ার পর সাধারণত আত্মীয়স্বজন বা জনসাধারণের জ্ঞাতার্থে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি (Publication) দেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর শুনানিতে আদালত সন্তুষ্ট হলে অনুমতি মঞ্জুর করেন। অনেক ক্ষেত্রে আদালত নির্দেশ দেন যে, বিক্রির পর নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা নাবালকের নামে ব্যাংকে স্থায়ী আমানত (FDR) করে সেই রসিদ আদালতে জমা দিতে হবে।

আদালতে আবেদন করার সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ দলিলাদি দাখিল করতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে: নাবালকের জন্ম নিবন্ধন সনদ, অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্র, সম্পত্তির মালিকানার দলিল, খতিয়ান, খাজনার রসিদ, এবং সম্পত্তির মূল্য নির্ধারণের জন্য স্থানীয় সাব-রেজিস্ট্রার অফিস থেকে সংগৃহীত মৌজা রেটের প্রত্যায়নপত্র। যদি সম্পত্তিটি চিকিৎসা বা শিক্ষার জন্য বিক্রি করা হয়, তবে হাসপাতাল বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র প্রমাণ হিসেবে দাখিল করতে হবে। সঠিক কাগজপত্র না থাকলে আদালত অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন।

গার্ডিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্ডস অ্যাক্টের ৩০ ধারা এবং মুসলিম আইনের প্রতিষ্ঠিত নীতি অনুযায়ী, উপযুক্ত অভিভাবক বা আদালতের পূর্বানুমতি ছাড়া নাবালকের সম্পত্তি বিক্রি করা হলে সেই হস্তান্তর বাতিলযোগ্য (Voidable) বা ক্ষেত্রবিশেষে সম্পূর্ণ বাতিল (Void) বলে গণ্য হবে। নাবালক সাবালক হওয়ার পর (১৮ বা ২১ বছর বয়সে) নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আদালতে মামলা করে ওই দলিল বাতিল করে সম্পত্তির দখল উদ্ধার করতে পারে। এতে যিনি সরল বিশ্বাসে জমিটি কিনেছিলেন, তিনি চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। তাই ক্রেতাদের উচিত, সম্পত্তিতে কোনো নাবালকের অংশ থাকলে বিক্রেতাকে অবশ্যই আদালতের আদেশের কপি দেখাতে বাধ্য করা।

⚖️ আইনি সহায়তা ও পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করুন

আপনার আইনি সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম সর্বদা প্রস্তুত। সঠিক আইনি পরামর্শ পেতে আজই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।

📞 কল করুন: 01712655546 💬 WhatsApp 📍 চেম্বার ঠিকানা

Guardians and Wards Act 1890 এর ধারা ২৮ অনুযায়ী নাবালকের স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়, বন্ধক বা দীর্ঘমেয়াদী ইজারা দিতে হলে পারিবারিক আদালতে (Family Court) আবেদন করতে হয়।

আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:

  • নাবালকের জন্ম সনদ বা স্কুল সার্টিফিকেট (বয়স প্রমাণের জন্য)।
  • অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি।
  • বিক্রয়যোগ্য সম্পত্তির মূল দলিল ও খতিয়ান কপি।
  • নাবালকের কল্যাণে সম্পত্তি বিক্রয়ের প্রয়োজনীয়তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা (চিকিৎসা, পড়াশোনা বা ঋণ পরিশোধ)।
  • সম্পত্তির বর্তমান মূল্য নির্ধারণের সরকারি মূল্যায়ন সনদ।

আদালতের বিচার্য বিষয়: বিক্রয় সত্যিই নাবালকের স্বার্থে কিনা, বিক্রয়মূল্য ন্যায্য কিনা এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ নাবালকের কল্যাণে ব্যয় হবে কিনা নিশ্চিত করে আদালত অনুমতি দেন। অনুমতি ছাড়া বিক্রয় করা হলে তা আইনত বাতিল (Void) বলে গণ্য হবে।

বাংলাদেশের মুসলিম আইনে নাবালকের প্রাকৃতিক অভিভাবক (Natural Guardian) হলেন পিতা। পিতার মৃত্যুতে পিতামহ এবং তাঁর অনুপস্থিতিতে আদালত কর্তৃক নিযুক্ত অভিভাবক সম্পত্তি পরিচালনা করতে পারেন।

অভিভাবকের আইনি সীমাবদ্ধতা: প্রাকৃতিক অভিভাবকও নাবালকের সম্পত্তি বিক্রয়, বন্ধক বা উপহার দেওয়ার আগে আদালতের অনুমতি নিতে বাধ্য। শুধুমাত্র সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ ও খাজনা পরিশোধ অভিভাবক নিজেই করতে পারেন।

কোনো ব্যক্তি নাবালকের সম্পত্তি আত্মসাৎ বা অবৈধভাবে বিক্রয় করলে সে Guardians and Wards Act ও Penal Code অনুযায়ী ফৌজদারি অভিযোগের সম্মুখীন হতে পারেন।

⚖️ আইনি পরামর্শ পেতে এখনই যোগাযোগ করুন

যেকোনো আইনি সমস্যায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রখ্যাত অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম স্যারের সরাসরি সহায়তা পেতে এখনই যোগাযোগ করুন।

📞 কল করুন: 01712655546💬 WhatsApp📍 চেম্বার ঠিকানা