নাবালকের সম্পত্তি বিক্রয় ও ফেরত পাওয়ার আইনি নিয়ম ২০২৬ — আদালতের অনুমতি ও অভিভাবকত্ব আইন

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-06 · ১৪ মিনিট

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

<p>পিতার আকস্মিক মৃত্যুর পর অনেক পরিবারে অপ্রাপ্তবয়স্ক (১৮ বছরের নিচে) নাবালক সন্তানরা ওয়ারিশসূত্রে সম্পত্তির মালিক হয়। এই অবস্থায় অনেক সময় মা, চাচা বা আত্মীয়স্বজন আদালতের অনুমতি ব্যতিরেকেই নাবালকের অংশ অন্য ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেন। আইন অনুযায়ী জেলা জজ আদালতের পূর্বানুমতি ছাড়া নাবালকের সম্পত্তি বিক্রি করা সম্পূর্ণ বেআইনি ও বাতিলযোগ্য (Voidable)। সাবালক হওয়ার পর উক্ত সন্তান যেকোনো সময় সেই দলিল বাতিল করে নিজের সম্পত্তি ফেরত পেতে পারে। নাবালকের সম্পত্তি বিক্রয় ও ফেরত সংক্রান্ত সম্পূর্ণ আইনি গাইড নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। আইনি পরামর্শে: <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--gold);font-weight:bold">অ্যাডভোকেট মোঃ শাহ আলম</a> — <a href="tel:01712655546" style="color:var(--gold);font-weight:bold">📞 01712655546</a></p>

: · সুপ্রিম কোর্ট ও জজ কোর্ট জামিন আইনজীবী

এক নজরে মূল তথ্য (Quick Answer Table)

বিষয় / শর্তসরকারি নিয়ম, ফি ও আইন (২০২৬)
প্রযোজ্য আইন ও আদালতবাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০, ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ (CrPC) ও সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্ট বিভাগ
আগাম ও নিয়মিত জামিনহাইকোর্ট বিভাগে আগাম জামিন (ধারা ৪৯৮ CrPC) ও ম্যাজিস্ট্রেট/দায়রা আদালতে নিয়মিত জামিন
সরকারি পোর্টাল ও যাচাইsupremecourt.gov.bd, judiciary.gov.bd, pcc.police.gov.bd ও land.gov.bd
জরুরি আইনি পরামর্শ চেম্বারঅ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম (বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট) — ০১৭১২-৬৫৫৫৪৬
⚡ নাবালকের সম্পত্তি আইন — একনজরে মূল বিধানাবলী
  • অভিভাবকত্ব ও প্রতিপাল্য আইন ১৮৯০ (Guardians and Wards Act, 1890) অনুযায়ী নাবালকের স্থাবর সম্পত্তি সংরক্ষিত থাকে।
  • মা বা প্রাকৃতিক অভিভাবক হলেও জেলা জজ আদালতের অনুমতি ছাড়া নাবালকের জমি বিক্রি বা বন্ধক দিতে পারেন না।
  • অনুমতি ছাড়া বিক্রি করা দলিল বাতিলযোগ্য (Voidable); এটি আইনত ক্রেতাকে কোনো পাকা স্বত্ব প্রদান করে না।
  • নাবালক ১৮ বছর বয়স পূর্ণ (সাবালক) হওয়ার পর ৩ বছরের মধ্যে তামাদি আইনের ৪৪ অনুচ্ছেদ মতে জমি ফেরতের মামলা করতে হয়।
  • আদালতের অনুমতি নিয়ে জমি বিক্রি করতে হলে প্রমাণ করতে হয় যে বিক্রিটি নাবালকের ভরণপোষণ ও শিক্ষার জরুরি স্বার্থে করা হচ্ছে।
📋 সূচিপত্র
  1. ১. আইন অনুযায়ী নাবালক কে? অভিভাবকত্ব ও প্রতিপাল্য আইন ১৮৯০
  2. ২. আইনগত অভিভাবক বনাম প্রাকৃতিক অভিভাবকের এখতিয়ার
  3. ৩. জেলা জজ আদালতের অনুমতি ছাড়া জমি বিক্রি কেন অবৈধ?
  4. ৪. নাবালকের জমি বিক্রির অনুমতি (Permission Petition) গ্রহণের নিয়ম
  5. ৫. আদালতের অনুমতি ছাড়া বিক্রি হওয়া জমি ফেরত পাওয়ার উপায়
  6. ৬. তামাদি আইন ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ৪৪: মামলা করার সময়সীমা
  7. ৭. নাবালকের জমি ক্রেতার চরম ঝুঁকি ও আত্মরক্ষার উপায়
  8. ৮. পারিবারিক ও সম্পত্তি বিশেষজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ
  9. মায়েদের দ্বিতীয় বিবাহের পর প্রথম পক্ষের নাবালক সন্তানের অধিকার
  10. নাবালকের সম্পত্তি আত্মসাতের বিরুদ্ধে ফৌজদারি প্রতারণার মামলা
  11. আদালত কর্তৃক অভিভাবক নিয়োগের আবেদন (Petition for Appointment of Guardian)
  12. সাবালক হওয়ার পর অবৈধ বিক্রয় দলিল বাতিলের মামলার সুনির্দিষ্ট ড্রাফটিং গাইড
  13. নাবালকের সম্পত্তিতে ব্যাংক ঋণ গ্রহণ ও আর্থিক সুরক্ষার বিধান

১. আইন অনুযায়ী নাবালক কে? অভিভাবকত্ব ও প্রতিপাল্য আইন ১৮৯০

সাবালকত্ব আইন ১৮৭৫ (The Majority Act, 1875) অনুযায়ী ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত যে কোনো ব্যক্তি নাবালক (Minor) হিসেবে গণ্য হয়। তবে যদি কোনো নাবালকের জন্য আদালত কর্তৃক আইনগত অভিভাবক নিযুক্ত করা হয়, তবে সে ক্ষেত্রে তার সাবালকত্বের বয়স ২১ বছর পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।

নাবালক অবস্থায় কোনো ব্যক্তি চুক্তি সম্পাদন বা সম্পত্তি হস্তান্তর করার আইনি যোগ্যতা রাখে না (Contract Act-এর ১১ ধারা মতে নাবালকের চুক্তি শুরু থেকেই বাতিল বা Void ab initio)। ফলে নাবালকের সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ পরিচালিত হয় The Guardians and Wards Act, 1890 অনুযায়ী।

২. আইনগত অভিভাবক বনাম প্রাকৃতিক অভিভাবকের এখতিয়ার

মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী নাবালকের অভিভাবকত্ব দুই প্রকার:

  • শরীরের হেফাজতকারী (হিজানাত): মা সন্তানের লালন-পালন ও শারীরিক হেফাজতের অধিকারী। ছেলে সন্তান ৭ বছর এবং মেয়ে সন্তান বয়ঃসন্ধি পর্যন্ত মায়ের হেফাজতে থাকে।
  • সম্পত্তির অভিভাবক (Legal Guardian): মা কখনোই নাবালকের সম্পত্তির আইনগত অভিভাবক নন। পিতার মৃত্যুর পর কেবল আদালতের অভিভাবক সনদপ্রাপ্ত ব্যক্তিই নাবালকের সম্পত্তির অভিভাবক হতে পারেন। সুতরাং মা একা কোনো অবস্থাতেই বাবার জমি নাবালকের পক্ষে বিক্রি করার আইনগত ক্ষমতা রাখেন না।

৩. জেলা জজ আদালতের অনুমতি ছাড়া জমি বিক্রি কেন অবৈধ?

অভিভাবকত্ব ও প্রতিপাল্য আইন ১৮৯০-এর ২৯ ধারা অত্যন্ত স্পষ্ট। এতে বলা হয়েছে, কোনো অভিভাবক আদালতের পূর্বানুমতি ব্যতীত নাবালকের স্থাবর সম্পত্তি বন্ধক, ইজারা (৫ বছরের অধিক) বা বিক্রয় করতে পারবেন না।

⚠️ ৩০ ধারার আইনি নিষেধাজ্ঞা

আইনের ৩০ ধারা মতে, ২৯ ধারার বিধান লঙ্ঘন করে সম্পাদিত যে কোনো বিক্রয় দলিল অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির অপশন বা ইচ্ছায় বাতিলযোগ্য (Voidable at the instance of the minor)। অর্থাৎ নাবালক সাবালক হয়ে আদালতে বললেই উক্ত দলিল বাতিল হয়ে যাবে।

৪. নাবালকের জমি বিক্রির অনুমতি (Permission Petition) গ্রহণের নিয়ম

জরুরি প্রয়োজনে নাবালকের সম্পত্তি বিক্রি করতে হলে বিজ্ঞ জেলা জজ আদালতে অভিভাবকত্ব মোকদ্দমার মাধ্যমে অনুমতি নিতে হয়। আদালতের অনুমোদনের জন্য ৩টি বিষয় প্রমাণ করতে হয়:

  1. প্রয়োজনীয়তা (Necessity): নাবালকের খাদ্য, চিকিৎসা বা জীবনরক্ষার অন্য কোনো আর্থিক বিকল্প নেই।
  2. সুস্পষ্ট সুবিধা (Evident Advantage): জমিটি বিক্রি করে নাবালকের উচ্চশিক্ষা বা স্থায়ী কোনো লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করা হচ্ছে।
  3. বিক্রয়মূল্যের সুরক্ষা: বিক্রিত অর্থ নাবালকের নামে সরকারি ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট (FDR) রাখা হবে যা সাবালক না হওয়া পর্যন্ত কেউ তুলতে পারবে না। আদালত সন্তুষ্ট হলে কঠোর শর্তে বিক্রির আদেশ মঞ্জুর করেন।

৫. আদালতের অনুমতি ছাড়া বিক্রি হওয়া জমি ফেরত পাওয়ার উপায়

যদি আপনার নাবালক অবস্থায় মা, ভাই বা কোনো আত্মীয় জমি বিক্রি করে দিয়ে থাকে, তবে সাবালক হয়ে আপনি আপনার বেদখল হওয়া জমি আইনানুগভাবে শতভাগ ফেরত পেতে পারেন।

আইনি প্রক্রিয়া:

  • দেওয়ানি আদালতে মামলা: সাবালক হওয়ার পর দেওয়ানি আদালতে অবৈধ বিক্রয় দলিল বাতিল এবং সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের (Recovery of Possession) মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে।
  • আদালতের ডিক্রি: আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে দেখবেন যে জমি বিক্রির সময় আদালতের অনুমোদন ছিল না। প্রমাণিত হলেই আদালত উক্ত দলিল বাতিল ঘোষণা করে বাদীকে জমি ফেরত দেওয়ার ডিক্রি প্রদান করবেন।

৬. তামাদি আইন ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ৪৪: মামলা করার সময়সীমা

নাবালকের জমি ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় হলো সময়ের তামাদি। অনেকেই জানেন না যে এই মামলা করার একটি সুনির্দিষ্ট ডেডলাইন রয়েছে।

⏳ তামাদি আইন অনুচ্ছেদ ৪৪-এর ৩ বছরের সময়সীমা

তামাদি আইন ১৯০৮-এর প্রথম তফসিলের ৪৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নাবালক যে তারিখে ১৮ বছর পূর্ণ করে সাবালকত্ব অর্জন করবেন, ঠিক সেই দিন থেকে পরবর্তী ৩ (তিন) বছরের মধ্যে দলিল বাতিলের মামলা আদালতে দায়ের করতে হবে। ১৮ বছর পেরিয়ে ২১ বছর পার হয়ে গেলে মামলা তামাদিতে বারিত হয়ে যাবে এবং জমি ফেরত পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে।

৭. নাবালকের জমি ক্রেতার চরম ঝুঁকি ও আত্মরক্ষার উপায়

যারা জমি ক্রয় করেন তাদের জন্য এটি একটি বিরাট সতর্কবার্তা। কোনো দলিলে যদি বিক্রেতা হিসেবে কোনো নাবালকের নাম থাকে এবং তার মা বা ভাই তার পক্ষে দস্তখত দেন, তবে কখনোই সেই জমি কিনবেন না—যতক্ষণ না জেলা জজ আদালতের অনুমোদনের মূল সার্টিফাইড কপি ও আদেশের নম্বর দেখতে পাচ্ছেন। অনুমতি ছাড়া কেনা জমির ওপর আপনি যত কোটি টাকার বাড়িই বানান না কেন, নাবালক সাবালক হয়ে মামলা করলে জমি হাতছাড়া হওয়ার সমূহ ঝুঁকি থাকে।

⚖️ আইনি কেস মূল্যায়ন ও চেম্বার অ্যাপয়েন্টমেন্ট

আপনার জমি বিরোধ, বাটোয়ারা মামলা, জামিন, তালাক বা সাইবার জটিলতায় বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে সুপ্রিম কোর্ট বা উত্তরা চেম্বারে নথিপত্রসহ সরাসরি বসুন।

জরুরি হোয়াটসঅ্যাপ সরাসরি কল: ০১৭১২-৬৫৫৫৪৬

৮. পারিবারিক ও সম্পত্তি বিশেষজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট • চেম্বার কনসাল্টেশন

নাবালকের সম্পত্তি ফেরত ও অভিভাবকত্ব মামলায় পরামর্শ নিন

নাবালক অবস্থায় বিক্রি হওয়া পৈত্রিক জমি উদ্ধার, আদালতে দলিল বাতিলের মোকদ্দমা কিংবা নাবালকের জমি বিক্রির আইনি পারমিশন পেতে সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোঃ শাহ আলমের সরাসরি আইনি সহায়তা নিন।

সরাসরি কল: ০১৭১২-৬৫৫৫৪৬ WhatsApp বার্তা চেম্বার অ্যাপয়েন্টমেন্ট

৯. মায়েদের দ্বিতীয় বিবাহের পর প্রথম পক্ষের নাবালক সন্তানের অধিকার

পিতার মৃত্যুর পর মা যদি দ্বিতীয় বিবাহ করেন, তবে মুসলিম আইনে তিনি সন্তানের শারীরিক হেফাজত (হিজানাত) হারাতে পারেন, কিন্তু সন্তানের পৈত্রিক সম্পত্তির ওপর কোনো প্রভাব পড়ে না। দ্বিতীয় স্বামীর ঘরে মায়ের অন্য সন্তান হলেও তারা প্রথম স্বামীর সম্পত্তিতে কোনো অংশ পাবে না। প্রথম পক্ষের নাবালক সন্তানের সম্পত্তি সম্পূর্ণ আলাদা সংরক্ষিত থাকবে এবং সাবালক হলে সে এককভাবে দখল গ্রহণ করবে।

১০. নাবালকের সম্পত্তি আত্মসাতের বিরুদ্ধে ফৌজদারি প্রতারণার মামলা

যদি কোনো আত্মীয় নাবালকের সম্পত্তি জাল সনদের মাধ্যমে নিজের নামে নামজারি করে বিক্রি করে দেন, তবে শুধু দেওয়ানি মামলা নয়, দণ্ডবিধি (Penal Code)-এর ৪২০ (প্রতারণা), ৪০৬ (বিশ্বাসভঙ্গ), ৪৬৭ ও ৪৬৮ (জালিয়াতি) ধারায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা যায়। এতে প্রতারকদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয় এবং ক্ষতিপূরণ আদায় সহজ হয়।

১১. আদালত কর্তৃক অভিভাবক নিয়োগের আবেদন (Petition for Appointment of Guardian)

যদি কোনো পরিবারে পিতা মারা যাওয়ার পর বিপুল স্থাবর সম্পত্তি থাকে এবং নাবালকের জমি রক্ষণাবেক্ষণ বা পরিচালনার জন্য কাউকে আইনি অভিভাবক নিযুক্ত করতে হয়, তবে অভিভাবকত্ব ও প্রতিপাল্য আইন ১৮৯০-এর ১০ ধারা মোতাবেক জেলা জজ আদালতে অভিভাবক নিয়োগের আনুষ্ঠানিক দরখাস্ত দাখিল করতে হয়।

🏛️ আদালত যেসব বিষয় বিবেচনা করেন

  • আবেদনকারীর সততা, মানসিক সামর্থ্য এবং নাবালকের সাথে রক্তের ঘনিষ্ঠতা।
  • সম্পত্তির প্রতি আবেদনকারীর কোনো বিপরীত স্বার্থ (Adverse Interest) আছে কিনা।
  • নাবালক যদি কিছুটা বুদ্ধিমান ও সমঝদার হয়, তবে তার নিজস্ব মতামত ও পছন্দ।
  • আদালত সন্তুষ্ট হলে নির্দিষ্ট বন্ড বা জামানতের ভিত্তিতে অভিভাবকত্ব সনদ (Certificate of Guardianship) প্রদান করেন।

১২. সাবালক হওয়ার পর অবৈধ বিক্রয় দলিল বাতিলের মামলার সুনির্দিষ্ট ড্রাফটিং গাইড

নাবালক সাবালক হওয়ার পর জমি উদ্ধারের জন্য দেওয়ানি আদালতে যে আরজি দাখিল করবেন, তাতে নিম্নোক্ত উপাদানগুলো নিখুঁতভাবে সন্নিবেশিত থাকতে হবে:

  1. সাবালকত্ব অর্জনের সঠিক জন্মতারিখ এবং ডিজিটাল জন্ম সনদ বা এনআইডির অকাট্য প্রমাণ।
  2. যে বিক্রয় দলিলটি চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে, তার নম্বর, সম্পাদনের তারিখ এবং রেজিস্ট্রেশন বিবরণ।
  3. উক্ত দলিলের সময় জেলা জজ আদালতের কোনো অনুমোদন না থাকার স্পষ্ট তথ্য।
  4. তামাদি আইনের ৪৪ অনুচ্ছেদের ৩ বছরের ডেডলাইনের ভেতরেই মামলা দাখিল হয়েছে মর্মে তামাদি গণনা।
  5. দলিল বাতিলকরণের পাশাপাশি বিবাদীদের উচ্ছেদ করে বাদীর অনুকূলে জমির বাস্তব দখল বুঝিয়ে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রার্থনা।

১৩. নাবালকের সম্পত্তিতে ব্যাংক ঋণ গ্রহণ ও আর্থিক সুরক্ষার বিধান

কোনো কোনো পরিবারে পিতা মারা যাওয়ার পর নাবালকের অংশ থাকা সত্ত্বেও অন্য শরিকরা ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্যিক ঋণ গ্রহণের জন্য উক্ত সম্পূর্ণ জমি ব্যাংকে মর্টগেজ (বন্ধক) রাখার চেষ্টা করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট রেগুলেশন এবং সম্পত্তি হস্তান্তর আইন ১৮৮২-এর সুস্পষ্ট বিধান অনুযায়ী, আদালতের লিখিত অভিভাবকত্ব ও বন্ধক অনুমোদনের আদেশ ছাড়া কোনো তফসিলি ব্যাংক নাবালকের হিস্যাযুক্ত জমি বন্ধক হিসেবে গ্রহণ করতে পারে না। যদি কোনো ব্যাংক কর্মকর্তা অসদুপায়ে এমন জমি বন্ধক রেখে ঋণ মঞ্জুর করেন, তবে সেই মর্টগেজ চুক্তিটি নাবালকের অংশের ওপর সম্পূর্ণ অকার্যকর থাকবে এবং নিলামে উক্ত জমি বিক্রি করার কোনো আইনগত ক্ষমতা অর্থঋণ আদালতের থাকবে না।

সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)

মা কি নাবালক সন্তানের জমি বিক্রি করতে পারেন?

না। মা প্রাকৃতিক অভিভাবক হলেও জেলা জজ আদালতের পূর্বানুমতি ছাড়া নাবালক সন্তানের জমি বিক্রি করতে পারেন না।

অনুমতি ছাড়া বিক্রি করা জমি কীভাবে ফেরত পাবেন?

১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পর ৩ বছরের মধ্যে দেওয়ানি আদালতে দলিল বাতিলের মামলা করে দখল ফেরত পাওয়া যায়।

নাবালকের জমি বিক্রির মামলা করার তামাদি কতদিন?

তামাদি আইন ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ৪৪ অনুযায়ী সাবালক হওয়ার পর সর্বোচ্চ ৩ বছরের মধ্যে মামলা করতে হয়।

আদালত কি নাবালকের জমি বিক্রির অনুমতি দেয়?

হ্যাঁ, যদি প্রমাণ করা যায় যে নাবালকের জীবনরক্ষা, চিকিৎসা বা অপরিহার্য ভরণপোষণের জন্য বিক্রি করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

অনুমতি ছাড়া জমি কিনলে ক্রেতার কী ক্ষতি হবে?

নাবালক সাবালক হয়ে মামলা করলে দলিল বাতিল হয়ে যাবে এবং ক্রেতা জমি হারাবেন।

নাবালক কত বছর বয়সে পূর্ণ মালিকানার অধিকার প্রয়োগ করতে পারে?

সাবালকত্ব আইন ১৮৭৫ অনুযায়ী ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার দিন থেকেই ব্যক্তি তার যাবতীয় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির নিরঙ্কুশ দখল ও বিক্রয় অধিকার লাভ করে।

নাবালকের পক্ষে মামলা কে করতে পারে?

দেওয়ানি কার্যবিধির ৩২ আদেশ অনুযায়ী নাবালকের পক্ষে যে কোনো উপযুক্ত আত্মীয় নেক্সট ফ্রেন্ড (Next Friend) বা হিতৈষী বন্ধু হিসেবে আদালতে মামলা পরিচালনা করতে পারেন।

দায়বর্জন (Disclaimer): এই আর্টিকেলে পরিবেশিত তথ্যসমূহ কেবল আইনি সচেতনতা ও সাধারণ শিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনো প্রত্যক্ষ আইনি পরামর্শ (Legal Advice) নয় এবং এর মাধ্যমে কোনো আইনজীবী-মক্কেল সম্পর্ক (Attorney-Client Relationship) তৈরি হয় না। আপনার সুনির্দিষ্ট মামলার আইনি প্রতিকারের জন্য সরাসরি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বা জজ কোর্টের তালিকাভুক্ত বিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করুন।
আইনি সহায়তা বা জরুরি পরামর্শের প্রয়োজন?
যোগাযোগ করুন এডভোকেট মোঃ শাহ আলম: +880 1712-655546  |  WhatsApp
উত্তরা চেম্বার: বাড়ি ৪৬, রোড ৬/বি, সেক্টর ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০
কোর্ট চেম্বার: আইনজীবী সমিতি ভবন, ৪র্থ তলা, ৬/৭ কোর্ট হাউস স্ট্রিট, কোতোয়ালি, ঢাকা-১১০০