নারী নির্যাতন দমন আইনে মিথ্যা মামলা ও জামিন পাওয়ার আইনি উপায় ২০২৬

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-07-31 · ২০ মিনিট

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় "নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)" প্রণয়ন করা হলেও, পারিবারিক কলহ, বৈবাহিক বিবাদ, কিংবা জমি-জমা বিরোধের জের ধরে অনেক সময় স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি, ভাসুর ও দেবরদের বিরুদ্ধে মিথ্যা যৌতুক নির্যাতন বা যৌতুকের জন্য জখমের মামলা করার ঘটনা ঘটে। এই আইনে মিথ্যা মামলার শিকার হলে কীভাবে প্রাথমিক গ্রেপ্তারি এড়াবেন, হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পাবেন এবং ট্রাইব্যুনালে ১৭ ধারায় মিথ্যা মামলাকারীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবেন—তার ১,৪০০+ শব্দের পূর্ণাঙ্গ আইনি সমাধান নিচে তুলে ধরা হলো। সুপ্রিম কোর্টের প্রখ্যাত ফৌজদারি আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--gold);font-weight:bold;text-decoration:underline;">অ্যাডভোকেট মো. شاه আলম</a>-এর সরাসরি সাহায্য পেতে ফোন করুন: <a href="tel:01712655546" style="color:var(--gold);font-weight:bold;">01712655546</a>।

: · সুপ্রিম কোর্ট ও জজ কোর্ট জামিন আইনজীবী

এক নজরে মূল তথ্য (Quick Answer Table)

বিষয় / শর্তসরকারি নিয়ম, ফি ও আইন (২০২৬)
প্রযোজ্য আইন ও আদালতবাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০, ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ (CrPC) ও সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্ট বিভাগ
আগাম ও নিয়মিত জামিনহাইকোর্ট বিভাগে আগাম জামিন (ধারা ৪৯৮ CrPC) ও ম্যাজিস্ট্রেট/দায়রা আদালতে নিয়মিত জামিন
সরকারি পোর্টাল ও যাচাইsupremecourt.gov.bd, judiciary.gov.bd, pcc.police.gov.bd ও land.gov.bd
জরুরি আইনি পরামর্শ চেম্বারঅ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম (বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট) — ০১৭১২-৬৫৫৫৪৬
⚡ সংক্ষিপ্ত দিকনির্দেশনা: মিথ্যা নারী নির্যাতন মামলা
  • নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭ ধারা অনুযায়ী মিথ্যা মামলা দায়ের করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ (সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড)।
  • থানায় এজাহার হওয়ার পর পুলিশি গ্রেপ্তার এড়াতে সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগ থেকে "আগাম জামিন" (Anticipatory Bail) নেওয়ার বিধান রয়েছে।
  • মামলার চার্জ গঠন (Charge Framing) দিনে ট্রাইব্যুনালে ফৌজদারি কার্যবিধির ২৬৫সি ধারায় অব্যাহতির (Discharge) আবেদন করা যায়।
  • ঘটনার দিন আপনি উপস্থিত ছিলেন না প্রমাণ করার জন্য আলিবাই (Alibi) ও সিসিটিভি/ডকুমেন্ট প্রমাণের কপি সংগ্রহ করা অত্যন্ত জরুরি।
📋 সূচিপত্র
  1. ১. নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অপব্যবহার ও প্রধান ধারাসমূহ
  2. ২. মিথ্যা মামলা দায়ের হলে প্রথম ৫টি আবশ্যকীয় কাজ
  3. ৩. হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন (Anticipatory Bail) নেওয়ার পদ্ধতি
  4. ৪. ট্রাইব্যুনালে অব্যাহতির (Discharge) দরখাস্ত দাখিলের নিয়ম
  5. ৫. নারী নির্যাতন আইনের ১৭ ধারায় বাদীপক্ষের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা
  6. ৬. ফৌজদারি মামলা ও জামিন বিবাদে আইনজীবীর পরামর্শ

১. নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অপব্যবহার ও প্রধান ধারাসমূহ

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর প্রধান ধারাগুলো যেমন ১১(ক), ১১(খ), ১১(গ) ধারা (যৌতুকের জন্য হত্যা, মারাত্মক জখম বা সাধারণ জখম) এবং যৌতুক নিরোধ আইন ২০১৮ এর অধীন মামলাগুলো সাধারণত অ-জামিনযোগ্য (Non-bailable)। এই কারণে মিথ্যা মামলার শিকার ব্যক্তি ও তার পরিবার মারাত্মক সামাজিক মানসিক হয়রানি ও গ্রেপ্তার আতঙ্কে পড়েন।

তবে উপযুক্ত আইনগত প্রতিরক্ষা তৈরি করলে ও নির্দোষতার তথ্য দাখিল করলে জামিন লাভ এবং মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়া শতভাগ সম্ভব। আমাদের ফৌজদারি মামলা ও জামিন বিশেষজ্ঞ আইন সার্ভিস পেজে বিষদ তথ্য পাবেন।

২. মিথ্যা মামলা দায়ের হলে প্রথম ৫টি আবশ্যকীয় কাজ

আপনার বিরুদ্ধে কোনো মিথ্যা এজাহার দায়ের হলে অনতিবিলম্বে নিচের কাজগুলো সম্পন্ন করুন:

  1. এজাহার ও মামলা কপির সত্যায়িত অনুলিপি উত্তোলন: থানা বা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে এজাহারের নকল বের করুন।
  2. আসামিদের ঘটনার সময়ের নির্দোষতার প্রমাণ (Alibi): এজাহারে উল্লেখিত তারিখ ও সময়ে আপনি যে অকুস্থলে উপস্থিত ছিলেন না—তার অফিসিয়াল উপস্থিতি, সিসিটিভি ফুটেজ বা বাস/প্লেন টিকিটের প্রমাণ সংগ্রহ করুন।
  3. অভিযোগের ভৌগোলিক সত্যতা যাচাই: মেডিকেল সার্টিফিকেট বা জখমী সনদপত্র (Injury Report) ভুয়া তৈরি করা হয়েছে কিনা তা অনুসন্ধানে চিকিৎসকের মতামত সংগ্রহ করুন।

৩. হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন (Anticipatory Bail) নেওয়ার পদ্ধতি

থানায় এজাহার দায়েরের পর পুলিশি গ্রেপ্তার এড়াতে আসামিগণ সরাসরি **বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে** উপস্থিত হয়ে আগাম জামিনের (Anticipatory Bail) আবেদন করতে পারেন।

হাইকোর্ট সাধারণত পর্যালোচনা সাপেক্ষে আসামিদের ৪ থেকে ৮ সপ্তাহের জন্য আগাম জামিন দেন এবং নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ প্রদান করেন। আগাম জামিন নেওয়া থাকলে এই সময়ের মধ্যে পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারে না।

⚖️ আইনি কেস মূল্যায়ন ও চেম্বার অ্যাপয়েন্টমেন্ট

আপনার জমি বিরোধ, বাটোয়ারা মামলা, জামিন, তালাক বা সাইবার জটিলতায় বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে সুপ্রিম কোর্ট বা উত্তরা চেম্বারে নথিপত্রসহ সরাসরি বসুন।

জরুরি হোয়াটসঅ্যাপ সরাসরি কল: ০১৭১২-৬৫৫৫৪৬

৪. ট্রাইব্যুনালে অব্যাহতির (Discharge) দরখাস্ত দাখিলের নিয়ম

পুলিশি তদন্ত শেষে বিচারক যখন মামলাটি বিচারের জন্য গ্রহণ করেন, তখন অভিযোগ গঠনের (Charge Framing) দিনে ট্রাইব্যুনালে **আসামিপক্ষ থেকে অব্যাহতির (Discharge) দরখাস্ত** দাখিল করতে হয়। মামলায় কোনো প্রাথমিক সত্যতা না থাকলে ট্রাইব্যুনাল আসামিকে শুরুতেই মামলা থেকে বেকসুর খালাস দিতে পারেন।

৫. নারী নির্যাতন আইনের ১৭ ধারায় বাদীপক্ষের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর **১৭ ধারা অনুযায়ী:** যদি কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তির ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে মামলা করে, তবে উক্ত মামলাকারী বা অভিযোগকারীর **সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড** হবে। মিথ্যা মামলা থেকে খালাস পাওয়ার পর ভুক্তভোগী ট্রাইব্যুনালে বাদীপক্ষের বিরুদ্ধে ১৭ ধারায় মামলা ফাইল করতে পারেন।

৬. ফৌজদারি মামলা ও জামিন বিবাদে আইনজীবীর পরামর্শ

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট • চেম্বার কনসাল্টেশন

মিথ্যা মামলা ও জামিন শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবীর সাহায্য

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা পরিচালনা, হাইকোর্টে আগাম জামিন ও মিথ্যা মামলা খারিজের জন্য অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম স্যারের সাথে যোগাযোগ করুন।

সরাসরি কল: ০১৭১২-৬৫৫৫৪৬ WhatsApp বার্তা চেম্বার অ্যাপয়েন্টমেন্ট

সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)

মিথ্যা নারী নির্যাতন মামলায় কি জামিন পাওয়া যায়?

হ্যাঁ। ট্রাইব্যুনাল বা হাইকোর্টে উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করতে পারলে বিচারক জামিন মঞ্জুর করেন।

দায়বর্জন (Disclaimer): এই আর্টিকেলে পরিবেশিত তথ্যসমূহ কেবল আইনি সচেতনতা ও সাধারণ শিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনো প্রত্যক্ষ আইনি পরামর্শ (Legal Advice) নয় এবং এর মাধ্যমে কোনো আইনজীবী-মক্কেল সম্পর্ক (Attorney-Client Relationship) তৈরি হয় না। আপনার সুনির্দিষ্ট মামলার আইনি প্রতিকারের জন্য সরাসরি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বা জজ কোর্টের তালিকাভুক্ত বিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করুন।
আইনি সহায়তা বা জরুরি পরামর্শের প্রয়োজন?
যোগাযোগ করুন এডভোকেট মোঃ শাহ আলম: +880 1712-655546  |  WhatsApp
উত্তরা চেম্বার: বাড়ি ৪৬, রোড ৬/বি, সেক্টর ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০
কোর্ট চেম্বার: আইনজীবী সমিতি ভবন, ৪র্থ তলা, ৬/৭ কোর্ট হাউস স্ট্রিট, কোতোয়ালি, ঢাকা-১১০০