এনবিআর ট্যাক্স রেইড ও জব্দ: বাংলাদেশে আইনিভাবে কীভাবে মোকাবেলা করবেন

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-03-22

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর কর্মকর্তারা তল্লাশির অনুমতিপত্র নিয়ে আসলে অনেক ব্যবসায়ীই ঘাবড়ে যান। আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪-এ এনবিআরকে ব্যাপক তল্লাশি ও জব্দের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে — তবে আইন করদাতার অধিকারও রক্ষা করে।

এনবিআরের তল্লাশির আইনি ক্ষমতা

এনবিআর আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ (ধারা ১১৭-১২২)-এর অধীনে তল্লাশি ও জব্দের ক্ষমতা পায়। এই ক্ষমতায় কর কর্মকর্তারা:

  • ভবন, যানবাহন বা জাহাজে প্রবেশ ও তল্লাশি করতে পারেন।
  • ব্যক্তিকে তল্লাশি করতে পারেন।
  • প্রয়োজনে তালা ভাঙতে পারেন।
  • হিসাবের বই, দলিল, নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী জব্দ করতে পারেন।

তবে তল্লাশির আগে অবশ্যই লিখিত তল্লাশি পরোয়ানা বা অনুমতিপত্র থাকতে হবে। কর তদন্তের মুখে পড়লে অবিলম্বে কর আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ করুন।

রেইডের সময় করদাতার অধিকার

এনবিআরের ব্যাপক ক্ষমতা থাকলেও করদাতা গুরুত্বপূর্ণ অধিকার বজায় রাখেন:

  • তল্লাশি পরোয়ানা দেখার অধিকার: প্রবেশ দেওয়ার আগে লিখিত অনুমতিপত্র দাবি করুন।
  • সাক্ষী রাখার অধিকার: তল্লাশিতে স্বাধীন সাক্ষী (পঞ্চ) থাকার দাবি করুন।
  • পঞ্চনামার কপি পাওয়ার অধিকার: জব্দকৃত সামগ্রীর তালিকার প্রত্যয়িত কপি পেতে হবে।
  • আইনি প্রতিনিধিত্বের অধিকার।
  • লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার অধিকার।

রেইডের সময় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ

রেইডের সময় নিরাপদ থাকতে:

  1. শান্ত থাকুন ও সহযোগিতা করুন — বাধা দেওয়া আইনত অপরাধ।
  2. তাৎক্ষণিক কর আইনজীবীকে ফোন করুন।
  3. অনুমতিপত্র যাচাই করুন — কর্মকর্তার নাম, পদবি ও অনুমতির পরিধি লিখে নিন।
  4. সাক্ষী নিশ্চিত করুন।
  5. রেইডের বিস্তারিত লিখে রাখুন — সময়, কী পরীক্ষা করা হলো, কী জব্দ হলো।
  6. পঞ্চনামা স্বাক্ষরের আগে ভালো করে পড়ুন — ভুল থাকলে লিখিতভাবে আপত্তি জানান।