⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়।
সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।
বাংলাদেশের সংবিধানে ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে প্রতিটি নাগরিকের ব্যক্তিস্বাধীনতা ও জীবনের অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সমাজে ব্যক্তিগত শত্রুতা, জমিজমা দখল কিংবা ব্যবসায়িক দেনা-পাওনাকে কেন্দ্র করে অহরহ মিথ্যা ফৌজদারি মামলা (FIR) বা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নালিশি মামলা (C.R. Case) দায়ের করা হয়। পুলিশ তদন্তে গাফিলতি করে ওয়ারেন্ট বের করে আনলে একজন নিরীহ নাগরিক যেকোনো সময় গ্রেফতার হয়ে জেলে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েন। হাইকোর্ট বিভাগ থেকে অন্তর্বর্তীকালীন আগাম জামিন সাময়িক সুরক্ষা দিলেও বিচারিক আদালতে স্থায়ী স্বস্তি পাওয়ার একমাত্র পথ হলো আদালতে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে **আত্মসমর্পণ ও নিয়মিত জামিন (Regular Bail)** লাভ করা। **ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ (CrPC) এর ৪৯৭ ধারা** অনুযায়ী কীভাবে নিয়মিত জামিন আবেদন করতে হয়, জামিনযোগ্য বনাম অজামিনযোগ্য ধারার পার্থক্য, নারী ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জামিনের বিশেষ সুবিধা, জিম্মাদার দ্বারা বেইল বন্ড পূরণ এবং ম্যাজিস্ট্রেট জামিন না দিলে দায়রা আদালতে আপিলের যাবতীয় প্রক্রিয়া এই গাইডে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০, ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ (CrPC) ও সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্ট বিভাগ
আগাম ও নিয়মিত জামিন
হাইকোর্ট বিভাগে আগাম জামিন (ধারা ৪৯৮ CrPC) ও ম্যাজিস্ট্রেট/দায়রা আদালতে নিয়মিত জামিন
সরকারি পোর্টাল ও যাচাই
supremecourt.gov.bd, judiciary.gov.bd, pcc.police.gov.bd ও land.gov.bd
জরুরি আইনি পরামর্শ চেম্বার
অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম (বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট) — ০১৭১২-৬৫৫৫৪৬
⚡ এক নজরে
১. জামিনযোগ্য (৪৯৬ ধারা) বনাম অজামিনযোগ্য (৪৯৭ ধারা) অপরাধের পার্থক্য
ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ এর দ্বিতীয় তফসিলে প্রতিটি অপরাধকে স্পষ্টভাবে ভাগ করা হয়েছে:
৪৯৬ ধারা (জামিনযোগ্য অপরাধ): যেসকল অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি ৩ বছরের কম (যেমন মারামারির ৩২৩ ধারা, মানহানির ৫০০ ধারা বা হুমকির ৫০৬ ধারা), সেগুলোতে জামিন পাওয়া আসামির আইনগত অধিকার। আসামী জিম্মাদার দিতে প্রস্তুত থাকলে থানা পুলিশ বা ম্যাজিস্ট্রেট জামিন দিতে বাধ্য। এখানে জামিন নাকচ করে জেলে পাঠানোর কোনো এখতিয়ার আদালতের নেই।
৪৯৭ ধারা (অজামিনযোগ্য অপরাধ): যেমন প্রতারণার ৪২০ ধারা, অর্থ আত্মসাতের ৪০৬ ধারা কিংবা মাদকের মামলা। এসব ক্ষেত্রে জামিন দেওয়া আদালতের বিবেচনাধীন ক্ষমতা (Discretionary Power)। তবে এই ক্ষমতা যথেচ্ছ নয়, বরং সুপ্রিম কোর্টের নজির দ্বারা সুনির্দিষ্ট।
২. অজামিনযোগ্য মামলায় নিয়মিত জামিন পাওয়ার প্রতিষ্ঠিত ভিত্তি
বিজ্ঞ আদালত সাধারণত নিচের আইনি গ্রাউন্ডগুলোর ওপর ভিত্তি করে নিয়মিত জামিন মঞ্জুর করেন:
দেওয়ানি বা বাণিজ্যিক বিরোধের রূপ: যদি মামলার অভিযোগ নিছক ব্যবসায়িক দেনা-পাওনা, চুক্তির টাকা বা জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ থেকে উদ্ভূত হয়, তবে আদালত ধরে নেন যে কাউকে চাপ দেওয়ার জন্য ফৌজদারি রূপ দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত মতে—ফৌজদারি আদালত কোনো টাকা আদায়ের রিকভারি এজেন্সি নয়, তাই এক্ষেত্রে আসামিকে জামিন দেওয়া হয়।
অপরাধের মাত্রা ও সাজার পরিমাণ: সর্বোচ্চ শাস্তি যদি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন না হয়, তবে বিচারে সাজা হওয়ার আগ পর্যন্ত আসামিকে নিরাপরাধ গণ্য করার নীতিতে জামিন দেওয়া আদালতের সাধারণ নিয়ম।
পলাতক হওয়ার সম্ভাবনা না থাকা: আসামি সমাজে প্রতিষ্ঠিত, স্থায়ী ঠিকানাবিশিষ্ট নাগরিক হলে এবং তদন্তে সহযোগিতার অঙ্গীকার দিলে জামিন মঞ্জুর হয়।
বিচারে দীর্ঘসূত্রতা: দীর্ঘদিন মামলা ফাইলবন্দী থাকলে বা সাক্ষীরা উপস্থিত না হলে ৪৯৭(১ক) ধারা অনুযায়ী বিলম্বের কারণে জামিন দেওয়া যায়।
৩. ৪৯৭ ধারার বিশেষ সুবিধা: নারী, শিশু ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জামিন
গুরুতর ফৌজদারি মামলায় যখন অভিযোগ মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডযোগ্য (যেমন খুনের ৩০২ ধারা), তখনও ৪৯৭(১) ধারার শর্তাংশ আদালতকে জামিন দেওয়ার অবাধ ক্ষমতা প্রদান করে:
'তবে শর্ত থাকে যে, আদালত এমন অপরাধে অভিযুক্ত যেকোনো ষোলো বছরের কম বয়স্ক ব্যক্তি, অথবা কোনো নারী, অথবা কোনো অসুস্থ বা অক্ষম ব্যক্তিকে জামিনে মুক্তির নির্দেশ দিতে পারেন।'
যদি অভিযুক্ত ব্যক্তি কোনো নারী হন, অথবা ১৬ বছরের কম বয়সী কোনো কিশোর হন, কিংবা হাসপাতালে চিকিৎসারত কোনো বয়োবৃদ্ধ ও জটিল রোগী হন, তবে আদালতের বিশেষ বিবেচনায় প্রথম দিনেই নিয়মিত জামিন পাওয়ার আইনি অধিকার তৈরি হয়।
৪. আদালতে স্বশরীরে আত্মসমর্পণের সঠিক বিচারিক প্রক্রিয়া
গ্রেফতার এড়াতে এবং নিরাপদে জামিন নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট কৌশল মেনে চলা আবশ্যক:
নথি ও জিআর রেজিস্টার পরীক্ষা: বিজ্ঞ আইনজীবী আদালতের পুলিশ প্রসিকিউশন অফিস থেকে মামলার এজাহার ও জব্দ তালিকার কপি সংগ্রহ করে স্টাডি করবেন।
জামিন আবেদন ড্রাফটিং: ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৭ ধারায় সমস্ত আইনি যুক্তি, ব্যবসায়িক কাগজ বা মেডিকেল রিপোর্ট যুক্ত করে বিস্তারিত জামিনের আবেদন প্রস্তুত করা হয়।
সকালে কাঠগড়ায় হাজির হওয়া: সকাল ১০:৩০ মিনিটে আদালত বসামাত্রই আসামিকে আদালতের ডক বা কাঠগড়ায় স্বশরীরে হাজির হতে হবে। আসামি কাঠগড়ায় না থাকলে আইনজীবী জামিনের শুনানি করতে পারেন না।
আইনজীবীর জোরালো শুনানি: আইনজীবী মামলার প্রকৃতি দেওয়ানি ও হয়রানিমূলক প্রমাণ করে শুনানি করেন। বিচারক সন্তুষ্ট হলে তাৎক্ষণিক নিয়মিত জামিনের আদেশ দেন।
৫. জামিননামা (Bail Bond) সম্পাদন ও জিম্মাদার যাচাইয়ের নিয়ম
মৌখিকভাবে জামিন মঞ্জুর হলেই আসামী মুক্ত নন; তাকে ৪৯৯ ধারা অনুযায়ী জামিননামা বা বেইল বন্ড সম্পাদন করতে হয়:
উপযুক্ত স্থানীয় জিম্মাদার: সাধারণত আদালত দুই জন স্থানীয় সচ্ছল জিম্মাদার (Surety) প্রদানের নির্দেশ দেন। জিম্মাদার আসামির আত্মীয়, স্থানীয় ব্যবসায়ী বা পরিচিত ব্যক্তি হতে পারেন।
নথিপত্র দাখিল: জিম্মাদারদের মূল জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), ট্রেড লাইসেন্স বা জমির দাখিলা আদালতে প্রদর্শন করতে হয়, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় আসামি পালিয়ে গেলে জিম্মাদার আদালতের নির্দেশ মানতে বাধ্য থাকবেন।
রোবকারি (Release Order): ম্যাজিস্ট্রেট বেইল বন্ড গ্রহণ ও স্বাক্ষর করলে 'রোবকারি' ইস্যু করা হয়, যা আদালত হাজতখানা বা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছালে আসামি তাৎক্ষণিক মুক্ত হন।
⚖️ আইনি কেস মূল্যায়ন ও চেম্বার অ্যাপয়েন্টমেন্ট
আপনার জমি বিরোধ, বাটোয়ারা মামলা, জামিন, তালাক বা সাইবার জটিলতায় বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে সুপ্রিম কোর্ট বা উত্তরা চেম্বারে নথিপত্রসহ সরাসরি বসুন।
জামিনের বিভিন্ন রূপ ও তাদের আইনি কার্যকারিতা নিচে তুলে ধরা হলো:
জামিনের ধরণ
আইনি ধারা
আবেদন করার ফোরাম
আসামির উপস্থিতি
কার্যকারিতার মেয়াদ
জামিনযোগ্য জামিন
CrPC ধারা ৪৯৬
থানা অথবা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত
উপস্থিতি বা গ্রেফতার
বিচার চলাকালীন পূর্ণ স্থায়ী জামিন
নিয়মিত জামিন
CrPC ধারা ৪৯৭
বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট বা দায়রা আদালত
কাঠগড়ায় স্বশরীরে আত্মসমর্পণ
মামলা নিষ্পত্তি পর্যন্ত স্থায়ী জামিন
আগাম জামিন
CrPC ধারা ৪৯৮
হাইকোর্ট ডিভিশন
হাইকোর্ট বেঞ্চের সামনে উপস্থিতি
সাময়িক (সাধারণত ৪ থেকে ৮ সপ্তাহ)
অন্তর্বর্তীকালীন জামিন
CrPC ধারা ৪৯৭/৪৯৮
যেকোনো ফৌজদারি আদালত
হেফাজতে থাকা অবস্থায়
কেস ডকেট বা চার্জশিট আসা পর্যন্ত
৭. ম্যাজিস্ট্রেট জামিন খারিজ করলে দায়রা ও হাইকোর্টে আপিল
যদি কোনো কারণে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট আবেদন নামঞ্জুর করে আসামিকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন, তবে তাৎক্ষণিকভাবে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে:
সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ: ওই দিনই ম্যাজিস্ট্রেটের বাতিলের আদেশ এবং মামলার কার্যবিবরণীর জরুরি সার্টিফায়েড নকল তুলতে হবে।
দায়রা জজ আদালতে আবেদন (৪৯৮ ধারা): ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট মহানগর দায়রা জজ (Metropolitan Sessions Judge) বা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ফৌজদারি মিস কেস দায়ের করে জামিনের জোর শুনানি করতে হয়। দায়রা আদালত বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অযৌক্তিক খারিজ আদেশ বাতিল করে জামিন মঞ্জুর করেন।
হাইকোর্ট বিভাগে জামিন: দায়রা আদালতও যদি জামিন না দেয়, তবে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ৪৯৮ ধারায় ফৌজদারি মিস কেস দায়ের করে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন হাসিল করা যায়।
৮. জামিন বাতিলের ঝুঁকি (৪৯৭(৫) ধারা): কী কী কারণে জামিন বাতিল হতে পারে
জামিন পাওয়া মানেই মামলা থেকে খালাস নয়, এটি একটি শর্তসাপেক্ষ সাময়িক মুক্তি। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৭(৫) ধারা অনুযায়ী আদালত চাইলে যেকোনো সময় জামিন বাতিল করে আসামিকে পুনরায় গ্রেফতারের নির্দেশ দিতে পারেন যদি:
আসামি জামিনে বেরিয়ে সাক্ষীদের ভয়ভীতি বা হুমকি প্রদর্শন করে।
তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করার অপচেষ্টা চালায় বা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করে।
জামিনে মুক্ত থাকা অবস্থায় নতুন করে কোনো অপরাধ সংঘটন করে।
আদালতের নির্দিষ্ট তারিখসমূহে বিনা যুক্তিসঙ্গত কারণে হাজির না থেকে দীর্ঘ অনুপস্থিত থাকে।
৯. প্রবাসীদের জন্য বিমানবন্দরে গ্রেফতার এড়ানো ও আত্মসমর্পণের কৌশল
প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে ফেরার সময় চরম বিপদে পড়েন যদি প্রতিপক্ষ গ্রামে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করিয়ে বিমানবন্দর ইমিগ্রেশনকে জানিয়ে রাখে। শাহজালাল বিমানবন্দরে নামামাত্রই ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের আটক করে জেলে পাঠিয়ে দিতে পারে।
এক্ষেত্রে সঠিক কৌশল হলো—দেশে আসার আগেই আইনজীবীর মাধ্যমে মামলার সঠিক বিবরণ ও ধারা জেনে নেওয়া। প্রয়োজনে দেশে নামার সাথে সাথেই বা সম্ভব হলে হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন করিয়ে নেওয়া। অন্যথায় উপযুক্ত জিম্মাদার ও ওকালতনামা তৈরি রেখে সকালবেলা সরাসরি বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের কাঠগড়ায় আত্মসমর্পণ করে একই দিনে নিয়মিত জামিনের আদেশ হাসিল করা।
১০. বাস্তব আদালতের কেস স্টাডি: ঢাকায় ৪২০ ধারার মামলায় একই দিনে জামিন লাভ
মতিঝিলের এক স্বনামধন্য পোশাক রফতানিকারক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় ৪৫ লক্ষ টাকা আত্মসাতের একটি বানোয়াট এফআইআর দায়ের করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা অপর পক্ষের প্রভাবে তাড়াহুড়ো করে চার্জশিট দাখিল করলে বিজ্ঞ সিএমএম আদালত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা (W/A) জারি করেন।
ব্যবসায়ী ভদ্রলোক গ্রেফতার আতঙ্কে আমাদের ক্রিমিনাল ডিফেন্স টিমের শরণাপন্ন হলে আমরা দ্রুত নিম্নোক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করি:
আদালতের নথিপত্র পরীক্ষা করে সাপ্লাই চুক্তি, মালামাল ডেলিভারির রসিদ এবং ব্যাংকিং স্টেটমেন্টের সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ করা হয়, যা প্রমাণ করে যে মালামাল ঠিকই দেওয়া হয়েছিল এবং বিরোধটি কেবল একটি বাউন্স চেকের দেনা-পাওনা সংক্রান্ত।
৪৯৭ ধারায় বিস্তারিত জামিন আবেদন প্রস্তুত করে সুপ্রিম কোর্টের বহু নজির উদ্ধৃত করা হয় যে, চুক্তি ভঙ্গের ঘটনায় ৪২০ ধারার কোনো উপাদান থাকে না।
ঢাকার দুইজন স্থানীয় সচ্ছল ব্যবসায়ীকে ট্রেড লাইসেন্স ও ট্যাক্স সার্টিফিকেটসহ প্রস্তুত রাখা হয়।
সকাল ১০:৩০ মিনিটে ক্লায়েন্ট সিএমএম আদালতের কাঠগড়ায় আত্মসমর্পণ করেন। আমাদের আইনজীবী জোরালো শুনানি উপস্থাপন করে প্রমাণ করেন যে এটি একটি খাঁটি দেওয়ানি বিরোধ।
বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সন্তুষ্ট হয়ে তাৎক্ষণিক নিয়মিত জামিন মঞ্জুর করেন, বেইল বন্ড গ্রহণ করা হয় এবং দুপুর ১:৩০ মিনিটের মধ্যে মুক্তিপত্র বা রোবকারি ইস্যু হয়ে যায়। ফলে ক্লায়েন্টকে এক মুহূর্তের জন্যও জেলহাজতে যেতে হয়নি।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)
জামিনযোগ্য ও অজামিনযোগ্য অপরাধের মধ্যে পার্থক্য কী?
জামিনযোগ্য অপরাধে (৪৯৬ ধারা) জামিন পাওয়া আসামির আইনগত অধিকার, যা আদালত অস্বীকার করতে পারেন না। অজামিনযোগ্য অপরাধে (৪৯৭ ধারা) জামিন দেওয়া আদালতের বিবেচনাধীন ক্ষমতা।
নিয়মিত জামিনের জন্য কি আদালতে স্বশরীরে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক?
হ্যাঁ। আসামিকে অবশ্যই বিজ্ঞ আদালতের কাঠগড়ায় স্বশরীরে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন জানাতে হয়। আসামির অনুপস্থিতিতে নিয়মিত জামিন মঞ্জুর হয় না।
নারী বা অসুস্থ ব্যক্তিরা কি গুরুতর মামলায়ও জামিন পেতে পারেন?
হ্যাঁ। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৭(১) ধারার শর্তাংশ অনুযায়ী নারী, ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু এবং মারাত্মক অসুস্থ ব্যক্তিরা মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডযোগ্য মামলাতেও জামিন পেতে পারেন।
ম্যাজিস্ট্রেট জামিন না দিলে সাথে সাথে কী করণীয়?
ম্যাজিস্ট্রেটের খারিজ আদেশের সার্টিফায়েড কপি তুলে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দায়রা জজ (Sessions Judge) আদালতে ৪৯৮ ধারায় জামিনের আবেদন করতে হয়।
জামিন বন্ড বা জামিননামা সম্পাদনে কী কী কাগজ লাগে?
স্থানীয় উপযুক্ত দুই জন জিম্মাদারের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), পাসপোর্ট সাইজ ছবি, এবং তাদের আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণ হিসেবে ট্রেড লাইসেন্স বা জমির ট্যাক্স রসিদ দাখিল করতে হয়।
ব্যবসায়িক বা দেওয়ানি বিরোধের মামলায় কি জামিন পাওয়া সহজ?
হ্যাঁ। সুপ্রিম কোর্টের প্রতিষ্ঠিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেনা-পাওনা বা চুক্তি সংক্রান্ত খাঁটি দেওয়ানি বিরোধকে ফৌজদারি রূপ দেওয়া হলে আদালত আসামিকে নিয়মিত জামিন প্রদান করেন।
রোবকারি (Robokari) কী?
রোবকারি হলো জামিন বন্ড অনুমোদনের পর বিচারক কর্তৃক স্বাক্ষরিত আনুষ্ঠানিক মুক্তিপত্র, যা জেলখানা বা কোর্ট হাজতে পৌঁছানোর পর আসামিকে শারীরিকভাবে মুক্তি দেওয়া হয়।
জামিনে মুক্ত হওয়ার পর কি জামিন বাতিল হতে পারে?
হ্যাঁ। ৪৯৭(৫) ধারা অনুযায়ী আসামী যদি সাক্ষীদের হুমকি দেয়, প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করে বা আদালতে অনুপস্থিত থাকে, তবে আদালত জামিন বাতিল করে পুনরায় জেলে পাঠাতে পারেন।
দায়বর্জন (Disclaimer): এই আর্টিকেলে পরিবেশিত তথ্যসমূহ কেবল আইনি সচেতনতা ও সাধারণ শিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনো প্রত্যক্ষ আইনি পরামর্শ (Legal Advice) নয় এবং এর মাধ্যমে কোনো আইনজীবী-মক্কেল সম্পর্ক (Attorney-Client Relationship) তৈরি হয় না। আপনার সুনির্দিষ্ট মামলার আইনি প্রতিকারের জন্য সরাসরি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বা জজ কোর্টের তালিকাভুক্ত বিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করুন।
আইনি সহায়তা বা জরুরি পরামর্শের প্রয়োজন?
যোগাযোগ করুন এডভোকেট মোঃ শাহ আলম: +880 1712-655546 |
WhatsApp
উত্তরা চেম্বার: বাড়ি ৪৬, রোড ৬/বি, সেক্টর ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০
কোর্ট চেম্বার: আইনজীবী সমিতি ভবন, ৪র্থ তলা, ৬/৭ কোর্ট হাউস স্ট্রিট, কোতোয়ালি, ঢাকা-১১০০