বাংলাদেশে নিষেধাজ্ঞা: আদালতের মাধ্যমে অবৈধ কাজ বন্ধ করার পদ্ধতি

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-03-18

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

কেউ আপনার সম্পত্তি দখল করছে, নির্মাণ কাজ শুরু করছে, বা চুক্তি লঙ্ঘন করছে — এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে দ্রুত আইনি প্রতিকার হল আদালতের নিষেধাজ্ঞা। সঠিক পদ্ধতিতে আবেদন করলে একই দিনে অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা পাওয়া সম্ভব।

বাংলাদেশ আইনে নিষেধাজ্ঞা কী?

নিষেধাজ্ঞা হল একটি আদালতের আদেশ যা কোনো ব্যক্তি বা সংস্থাকে একটি নির্দিষ্ট কাজ করতে বা না করতে নির্দেশ করে। বাংলাদেশে দুই ধরনের নিষেধাজ্ঞা:

  • নিষেধমূলক নিষেধাজ্ঞা: কোনো কাজ করা থেকে বিরত রাখার আদেশ।
  • বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা: কোনো কাজ করতে বাধ্য করার আদেশ।

স্পেসিফিক রিলিফ আইন ১৮৭৭ ও দেওয়ানি কার্যবিধি (আদেশ ৩৯)-এ নিষেধাজ্ঞার বিধান রয়েছে। আবেদনের আগে একজন দেওয়ানি আইনজীবীর পরামর্শ নিন।

নিষেধাজ্ঞার তিনটি মূল শর্ত

নিষেধাজ্ঞা পেতে হলে আদালতের কাছে তিনটি বিষয় প্রমাণ করতে হবে:

  1. প্রাথমিক দৃষ্টিতে মামলা (Prima Facie Case): আবেদনকারীর পক্ষে প্রাথমিক প্রমাণ থাকতে হবে।
  2. অপূরণীয় ক্ষতির সম্ভাবনা: নিষেধাজ্ঞা না দিলে অর্থ দিয়ে পূরণ করা যাবে না এমন ক্ষতি হতে পারে।
  3. সুবিধা-অসুবিধার ভারসাম্য: নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সুবিধা না দেওয়ার সুবিধার চেয়ে বেশি।

নিষেধাজ্ঞার আবেদনের প্রক্রিয়া

নিষেধাজ্ঞার আবেদনের ধাপ:

  1. মূল মামলার সাথে আলাদা নিষেধাজ্ঞার আবেদন (অ্যাপ্লিকেশন) দাখিল করুন।
  2. হলফনামা ও প্রাসঙ্গিক দলিল যুক্ত করুন।
  3. অতি জরুরি ক্ষেত্রে বিবাদীকে না শুনে আপাতত নিষেধাজ্ঞা পেতে পারেন — এরপর শুনানির তারিখ দিয়ে বিবাদীকে নোটিশ জারি করা হবে।
  4. উভয় পক্ষকে শুনে আদালত অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা বহাল বা খারিজ করবেন।
  5. মূল মামলার শেষে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর হতে পারে।

অ্যাডভোকেট শাহ আলম উত্তরায় ও ঢাকায় জমি, ব্যবসায়িক এবং পারিবারিক বিরোধে নিষেধাজ্ঞার মামলায় প্রতিনিধিত্ব করেন।