লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-15 · ১২ মিনিট পড়ুন
পৈতৃক বা যৌথ সম্পত্তিতে একজন শরিক বাকি শরিকদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে গোপনে কোনো বহিরাগত অচেনা ব্যক্তির কাছে নিজের অংশ বিক্রি করে দেয়। এর ফলে পরিবারের শান্তির ব্যাঘাত ঘটে এবং বহিরাগত লোক এসে বসতভিটায় ঝামেলা পাকায়। অন্য শরিকদের বাদ দিয়ে জমি বিক্রি করলে আইন অনুযায়ী সেই জমি আদালত মারফত নিজের দখলে নেওয়ার নিশ্চিত প্রতিকার হলো 'অগ্রক্রয়াধিকার' (Pre-emption)। বিস্তারিত আলোচনা করেছেন দেওয়ানি আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>।
| বিষয় / শর্ত | সরকারি নিয়ম, ফি ও আইন (২০২৬) |
|---|---|
| প্রযোজ্য আইন ও আদালত | বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০, ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ (CrPC) ও সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্ট বিভাগ |
| আগাম ও নিয়মিত জামিন | হাইকোর্ট বিভাগে আগাম জামিন (ধারা ৪৯৮ CrPC) ও ম্যাজিস্ট্রেট/দায়রা আদালতে নিয়মিত জামিন |
| সরকারি পোর্টাল ও যাচাই | supremecourt.gov.bd, judiciary.gov.bd, pcc.police.gov.bd ও land.gov.bd |
| জরুরি আইনি পরামর্শ চেম্বার | অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম (বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট) — ০১৭১২-৬৫৫৫৪৬ |
সহজ ভাষায় অগ্রক্রয়াধিকার হলো—কোনো যৌথ বা শরিকি জমির কোনো অংশ বিক্রি করার ক্ষেত্রে বাইরের কোনো ব্যক্তির তুলনায় সহ-শরিক বা সংলগ্ন প্রতিবেশীর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ওই জমি ক্রয়ের আইনি অধিকার। আইন বলে, কোনো অংশীদার তার ভাগ বিক্রি করতে চাইলে প্রথমে তার সহ-শরিকদের প্রস্তাব দিতে হবে। যদি শরিককে না জানিয়ে তৃতীয় পক্ষের নিকট বিক্রি করা হয়, তবে আইনসঙ্গত প্রক্রিয়ায় শরিক আদালতের মাধ্যমে ওই জমি নিজে কিনে নেওয়ার ডিক্রি পেতে পারেন।
বাংলাদেশে মুসলিম পারিবারিক আইন ও রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০ (State Acquisition and Tenancy Act, 1950)-এর ৯৬ ধারা অনুযায়ী অগ্রক্রয়াধিকারের বিচারিক মোকদ্দমা পরিচালিত হয়। এই ধারায় স্পষ্ট বলা আছে, বিক্রির নোটিশ পাওয়ার পর বা বিক্রি জানার পর সহ-শরিক আইনগতভাবে আদালতের মাধ্যমে দলিলের টাকা জমা দিয়ে ওই জমি নিজের নামে নিয়ে নেওয়ার অধিকার রাখেন।
আইন অনুযায়ী ক্রমানুসারে অগ্রাধিকার নির্ধারিত হয়:
অগ্রক্রয়াধিকার মামলায় সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বড় ভুল করেন সময়সীমা নিয়ে। আইন অনুযায়ী—রেজিস্ট্রি দলিলের নোটিশ জারির ২ মাসের মধ্যে অথবা নোটিশ না পেলে জমি বিক্রির সংবাদ প্রথম জানার তারিখ থেকে সর্বোচ্চ ২ মাসের মধ্যে সহকারী জজ আদালতে মামলা করতে হবে। বিক্রির তারিখ থেকে ৩ বছর পার হয়ে গেলে মামলা তামাদি দোষে সরাসরি বাতিল হয়ে যায়।
আপনার জমি বিরোধ, বাটোয়ারা মামলা, জামিন, তালাক বা সাইবার জটিলতায় বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে সুপ্রিম কোর্ট বা উত্তরা চেম্বারে নথিপত্রসহ সরাসরি বসুন।
মামলা দায়েরের সময় আর্জির সাথে সরকারি চালানের মাধ্যমে আদালতে টাকা জমা দিতে হয়:
টাকা জমা দিয়ে মামলা ফাইল করার পর বিজ্ঞ আদালত ক্রেতা ও বিক্রেতাকে সমন পাঠান। ক্রেতা আদালতে হাজির হয়ে আপত্তি জানালে আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ করেন। বাদী যদি প্রমাণ করতে পারেন যে তিনি উত্তরাধিকারসূত্রে শরিক এবং তাকে প্রস্তাব না দিয়ে গোপনে বিক্রি করা হয়েছে, তবে আদালত বাদীর অনুকূলে ডিক্রি ঘোষণা করেন।
আদালতের রায়ের পর ক্রেতা তার জমা থাকা টাকা ক্ষতিপূরণসহ আদালত থেকে তুলে নেয় এবং বিজ্ঞ আদালত আদালতের ক্ষমতাবলে সংশ্লিষ্ট জমিটি বাদীর অনুকূলে রেজিস্ট্রি ও নামজারি করে দেন।