লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-13 · ১১ মিনিট পড়ুন
ফেসবুক পেজ বা বিভিন্ন লোভনীয় ই-কমার্স ওয়েবসাইট থেকে কম দামে দামি মোবাইল, ঘড়ি বা পোশাকের বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ হয়ে বিকাশে ফুল পেমেন্ট করার পর দেখা যায়—ভাঙ্গা বা ভুয়া পণ্য পাঠানো হয়েছে কিংবা ক্রেতার নম্বর ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। এমন প্রতারকদের বিরুদ্ধে বসে না থেকে কীভাবে ভোক্তা অধিকার ও সাইবার আদালতের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণসহ অর্থ আদায় করবেন, তা তুলে ধরেছেন সাইবার আইনের প্র্যাকটিসিং আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>।
| বিষয় / শর্ত | সরকারি নিয়ম, ফি ও আইন (২০২৬) |
|---|---|
| প্রযোজ্য আইন ও আদালত | বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০, ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ (CrPC) ও সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্ট বিভাগ |
| আগাম ও নিয়মিত জামিন | হাইকোর্ট বিভাগে আগাম জামিন (ধারা ৪৯৮ CrPC) ও ম্যাজিস্ট্রেট/দায়রা আদালতে নিয়মিত জামিন |
| সরকারি পোর্টাল ও যাচাই | supremecourt.gov.bd, judiciary.gov.bd, pcc.police.gov.bd ও land.gov.bd |
| জরুরি আইনি পরামর্শ চেম্বার | অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম (বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট) — ০১৭১২-৬৫৫৫৪৬ |
অসাধু অনলাইন ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন আকর্ষণীয় ডিসকাউন্ট অফার দেয় এবং ডেলিভারির আগেই সম্পূর্ণ টাকা বিকাশ বা নগদে দাবি করে। টাকা পাওয়ার পর তারা যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়, নিম্নমানের নষ্ট মালামাল পাঠায় অথবা কুরিয়ারে ফাঁকা প্যাকেট পাঠিয়ে ক্যাশ-অন-ডেলিভারির টাকা হাতিয়ে নিয়ে কেটে পড়ে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এর ৪৫ ধারা অনুযায়ী—বিজ্ঞাপনে প্রতিশ্রুত পণ্য সরবরাহ না করা, পণ্যের গুণগত মান গোপন করা কিংবা প্রতারণামূলকভাবে অতিরিক্ত মূল্য গ্রহণ করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আইনে সর্বোচ্চ ১ বছরের কারাদণ্ড বা ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের কঠোর বিধান রাখা হয়েছে।
প্রতারিত হওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর ইমেইলে (nccc@dncrp.gov.bd) কিংবা সরাসরি লিখিত অভিযোগ দাখিল করতে হবে। অভিযোগের সাথে ফেসবুক পেজের স্ক্রিনশট, চ্যাট হিস্ট্রি, পেমেন্ট ট্রানজেকশন স্লিপ এবং কুরিয়ারের রসিদ সংযুক্ত করতে হবে।
এই আইনের অন্যতম আকর্ষণীয় দিক হলো—শুনানি শেষে অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক যদি প্রতারক পেজ বা ব্যবসায়ীকে ৫০,০০০ টাকা জরিমানা করেন, তবে আইনের ৭৬(৪) ধারা অনুযায়ী জরিমানার মোট টাকার ২৫ শতাংশ (যেমন: ১২,৫০০ টাকা) তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগকারী সাধারণ ভোক্তাকে পুরস্কার হিসেবে প্রদান করা হয়।
আপনার জমি বিরোধ, বাটোয়ারা মামলা, জামিন, তালাক বা সাইবার জটিলতায় বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে সুপ্রিম কোর্ট বা উত্তরা চেম্বারে নথিপত্রসহ সরাসরি বসুন।
যদি প্রতারণার অংক অনেক বড় হয় (যেমন: লাখ টাকার ইলেকট্রনিক্স বা পাইকারি মালামাল), তবে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় সাইবার ট্রাইব্যুনালে দণ্ডবিধির ৪২০ ধারা এবং সাইবার নিরাপত্তা আইনের অধীনে আইনজীবীর মাধ্যমে মামলা করা যায়। বিজ্ঞ ট্রাইব্যুনাল সিআইডিকে দিয়ে বিকাশ অ্যাকাউন্ট ও পেজ অ্যাডমিনের আইপি এড্রেস ট্র্যাক করে প্রতারকদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেন।
প্রমাণ প্রস্তুত রাখতে সংগ্রহ করুন:
অনলাইন কেনাকাটায় সবসময় ক্যাশ অন ডেলিভারি (COD) বেছে নিন। কোনো পেজের ট্রেড লাইসেন্স বা অফিসিয়াল ঠিকানা না থাকলে কখনো ফুল পেমেন্ট করবেন না এবং ডেলিভারি ম্যানের সামনে পার্সেল খুলে ভিডিও করে পণ্য গ্রহণ করুন।