লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-15 · ১১ মিনিট পড়ুন
অতীতে না বুঝে বা অজ্ঞতাবশত আয়কর রিটার্নে (IT-10B সম্পদ বিবরণী) পারিবারিক স্বর্ণালংকার, নগদ সঞ্চয় কিংবা কেনা কোনো ফ্ল্যাট-জমির তথ্য প্রদর্শন না করার ভুল অনেকেই করেন। কিন্তু পরবর্তীতে যখন ব্যাংক লেনদেন বা জমি বিক্রির বড় অঙ্কের টাকা ব্যাংকে ঢোকে, তখন এনবিআরের কর অডিট নোটিশ ও শাস্তির ঝুঁকিতে পড়েন। আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী কীভাবে বৈধ উপায়ে এই অপ্রদর্শিত সম্পদ ট্যাক্স ফাইলে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, তা বিশদ তুলে ধরেছেন সুপ্রিম কোর্টের কর আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>।
| বিষয় / শর্ত | সরকারি নিয়ম, ফি ও আইন (২০২৬) |
|---|---|
| প্রযোজ্য আইন ও আদালত | বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০, ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ (CrPC) ও সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্ট বিভাগ |
| আগাম ও নিয়মিত জামিন | হাইকোর্ট বিভাগে আগাম জামিন (ধারা ৪৯৮ CrPC) ও ম্যাজিস্ট্রেট/দায়রা আদালতে নিয়মিত জামিন |
| সরকারি পোর্টাল ও যাচাই | supremecourt.gov.bd, judiciary.gov.bd, pcc.police.gov.bd ও land.gov.bd |
| জরুরি আইনি পরামর্শ চেম্বার | অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম (বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট) — ০১৭১২-৬৫৫৫৪৬ |
কোনো করদাতা যদি নিজের অর্জিত কোনো নগদ অর্থ, ব্যাংক ব্যালেন্স, ফ্ল্যাট, জমি, গাড়ি বা কোম্পানির শেয়ার তার বার্ষিক আয়কর রিটার্নের সম্পদ বিবরণীতে (Statement of Assets and Liabilities) উল্লেখ না করেন, তবে আয়কর আইনে তা অপ্রদর্শিত বা অপ্রকাশিত সম্পদ হিসেবে গণ্য হয়। এই সম্পদ দিয়ে ভবিষ্যতে কোনো ব্যবসা শুরু করলে বা বড় সম্পদ কিনতে গেলে এনবিআরের তদন্তের মুখে পড়তে হয়।
নতুন আয়কর আইন ২০২৩-এর আওতায় কোনো লুকানো সম্পদ উপ-কর কমিশনারের অডিটে ধরা পড়লে তার ওপর নিয়মিত কর হারের পাশাপাশি অতিরিক্ত জরিমানা এবং ক্ষেত্রবিশেষে ৫০% থেকে দ্বিগুণ হারে দণ্ড আরোপ হতে পারে। এমনকি ইচ্ছাকৃত জালিয়াতির ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যধারা চালুর কঠোর বিধান রাখা হয়েছে।
অডিট নোটিশ আসার পূর্বেই যদি করদাতা স্বেচ্ছায় তার ট্যাক্স রিটার্নে নির্দিষ্ট হারে বিশেষ কর (Special Tax Rate) বা জরিমানা পরিশোধ করে সম্পদ প্রদর্শন করেন, তবে এনবিআর কোনো প্রশ্নের অবকাশ রাখে না। বাজেট ও অর্থ আইন অনুযায়ী নগদ অর্থ বা ব্যাংকে রক্ষিত টাকার ওপর ১৫% কর পরিশোধ করে তা ফাইলে নিয়মিত অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ বিদ্যমান থাকে।
আপনার জমি বিরোধ, বাটোয়ারা মামলা, জামিন, তালাক বা সাইবার জটিলতায় বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে সুপ্রিম কোর্ট বা উত্তরা চেম্বারে নথিপত্রসহ সরাসরি বসুন।
পারিবারিক সূত্রে বা বিয়েতে উপহার পাওয়া স্বর্ণালংকার প্রদর্শন করা সম্পূর্ণ বৈধ। বিয়ের সময় পাওয়া পারিবারিক স্বর্ণের ক্ষেত্রে হলফনামা বা গিফট ডিক্লারেশনের মাধ্যমে ভরির বিবরণ দিয়ে 'পূর্বের ব্যক্তিগত ব্যবহারের সম্পদ' বা 'উপহার' হিসেবে সম্পদ বিবরণীতে দেখানো যায়, যার জন্য কোনো নতুন কর পরিশোধ করতে হয় না।
অতীতে অনেকে সাব-রেজিস্ট্রিতে কম মূল্য দেখিয়ে দলিল করেছেন। কিন্তু ব্যাংক ঋণ নেওয়া বা বিক্রির জন্য এখন প্রকৃত মূল্য দেখাতে চান। এক্ষেত্রে আয়কর আইনজীবীর মাধ্যমে সম্পূরক রিটার্ন বা সংশোধিত ফাইলে মূলধনী বিনিয়োগের উৎস সুনির্দিষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে কর সমন্বয় করে নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।