লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-05-21 · ৯ মিনিট পড়া
বাংলাদেশে অংশীদারিত্ব (পার্টনারশিপ) ব্যবসা একটি অত্যন্ত প্রচলিত ব্যবসায়িক কাঠামো, তবে এটি আইনিভাবে সবচেয়ে বেশি ভুল বোঝাবুঝির শিকার। মুনাফা বণ্টন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা বিলুপ্তি নিয়ে অংশীদারদের মধ্যে বিরোধ ব্যবসাকে রাতারাতি ধ্বংস করতে পারে। পার্টনারশিপ অ্যাক্ট ১৯৩২ অনুযায়ী আপনার অধিকার ও দায়িত্ব জানা আপনাকে সময়, অর্থ এবং আইনি ঝামেলা থেকে বাঁচাতে পারে। যেকোনো জটিল আইনি সমস্যায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>-এর আইনি পরামর্শ নিতে পারেন।
পার্টনারশিপ অ্যাক্ট ১৯৩২ (বাংলাদেশে প্রযোজ্য) অনুযায়ী, অংশীদারিত্ব হলো এমন একটি সম্পর্ক যেখানে দুই বা ততোধিক ব্যক্তি সকলের পক্ষে বা যেকোনো একজনের দ্বারা পরিচালিত ব্যবসার মুনাফা ভাগ করার চুক্তি করেন। একটি বৈধ অংশীদারিত্বের জন্য তিনটি মূল উপাদান থাকতে হবে:
অংশীদারিত্ব একটি কোম্পানি থেকে আলাদা। কোম্পানি আইন ১৯৯৪ অনুযায়ী নিবন্ধিত প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির মতো অংশীদারিত্বের নিজস্ব কোনো পৃথক আইনি পরিচয় নেই। বাংলাদেশে একটি সাধারণ ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বে সর্বোচ্চ ২০ জন অংশীদার থাকতে পারেন। সঠিক ব্যবসায়িক কাঠামো বেছে নিতে একজন কোম্পানি আইনজীবীর পরামর্শ নিন।
একটি অংশীদারিত্ব মৌখিকভাবে বা লিখিত পার্টনারশিপ ডিড (অংশীদারি চুক্তিপত্র) এর মাধ্যমে গঠন করা যায়। লিখিত চুক্তি আইনিভাবে বাধ্যতামূলক না হলেও ভবিষ্যতের বিরোধ এড়াতে এটি অত্যন্ত সুপারিশকৃত। একটি সুলিখিত পার্টনারশিপ ডিডে যা থাকা উচিত:
বাংলাদেশে অংশীদারিত্ব ফার্মের নিবন্ধন ঐচ্ছিক, তবে অনিবন্ধিত ফার্ম আদালতে মামলা দায়ের করতে পারে না। নিবন্ধন রেজিস্ট্রেশন বিভাগের অধীন ফার্মসমূহের রেজিস্ট্রার-এর কাছে করা হয়।
পার্টনারশিপ অ্যাক্ট ১৯৩২ অংশীদারদের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধিকার দেয়:
এই দায়িত্বগুলো লঙ্ঘন করলে বিলুপ্তির মামলা বা সিভিল কোর্টে হিসাবের মামলা হতে পারে। বাংলাদেশে কর্পোরেট আইনজীবী-র সাথে যোগাযোগ করুন।
অংশীদারিত্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি বৈশিষ্ট্য — এবং সবচেয়ে বড় ঝুঁকি — হলো অসীম যৌথ ও পৃথক দায়বদ্ধতা। প্রতিটি অংশীদার ফার্মের সকল কাজের জন্য অন্য সকল অংশীদারের সাথে যৌথভাবে এবং পৃথকভাবে ব্যক্তিগতভাবে দায়বদ্ধ।
এর মানে:
এই অসীম দায়বদ্ধতার কারণেই অনেকে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি গঠন পছন্দ করেন। কোম্পানি আইনজীবী-র সাথে পরামর্শ করুন।
আপনার জমি বিরোধ, বাটোয়ারা মামলা, জামিন, তালাক বা সাইবার জটিলতায় বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে সুপ্রিম কোর্ট বা উত্তরা চেম্বারে নথিপত্রসহ সরাসরি বসুন।
বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব আইনে বিভিন্ন ধরনের অংশীদার স্বীকৃত:
অনেক নিষ্ক্রিয় অংশীদার মনে করেন তারা দায়বদ্ধতা থেকে মুক্ত — যা বাংলাদেশের আইনে সঠিক নয়। ব্যবসায়িক আইনজীবী-র কাছে আপনার কাঠামো পরীক্ষা করান।
পার্টনারশিপ অ্যাক্ট ১৯৩২ অনুযায়ী বিভিন্নভাবে অংশীদারিত্ব বিলুপ্ত হতে পারে:
সকল অংশীদার পারস্পরিক সম্মতিতে যেকোনো সময় ফার্ম বিলুপ্ত করতে পারেন। সকলে বিলুপ্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন এবং হিসাব নিষ্পত্তি করেন।
নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়:
ইচ্ছামতো অংশীদারিত্বে যেকোনো অংশীদার লিখিত নোটিশ দিয়ে ফার্ম বিলুপ্ত করতে পারেন।
কোনো অংশীদার নিম্নলিখিত কারণে সিভিল কোর্টে মামলা করতে পারেন:
বিলুপ্তির পর হিসাব নিষ্পত্তির ক্রম: (১) তৃতীয় পক্ষের পাওনাদারদের ঋণ, (২) অংশীদারদের অগ্রিম, (৩) মূলধন, (৪) অবশিষ্ট মুনাফা। বিতর্কিত বিলুপ্তির ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী-র সাথে যোগাযোগ করুন।
বাংলাদেশে অংশীদারিত্ব বিরোধ সিভিল কোর্টে পরিচালিত হয়। প্রধান প্রতিকারগুলো হলো:
মনে রাখবেন: শুধুমাত্র নিবন্ধিত অংশীদারিত্ব ফার্ম অংশীদারিত্ব চুক্তি থেকে উদ্ভূত অধিকার প্রয়োগের জন্য মামলা করতে পারে। অনিবন্ধিত ফার্মের অংশীদাররা সহ-অংশীদারদের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন না।
পার্টনারশিপ ডিডে সালিশি ধারা থাকলে, আদালতে যাওয়ার আগে সালিশ আইন ২০০১ অনুযায়ী সালিশে যেতে হবে। অংশীদারিত্ব বিরোধে বিশেষজ্ঞ আইনি প্রতিনিধিত্বের জন্য অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম-এর সাথে যোগাযোগ করুন।
না, পার্টনারশিপ অ্যাক্ট ১৯৩২ অনুযায়ী নিবন্ধন ঐচ্ছিক। তবে অনিবন্ধিত ফার্ম অংশীদারিত্ব চুক্তি থেকে উদ্ভূত অধিকার প্রয়োগের জন্য আদালতে মামলা করতে পারে না, যা বিরোধের ক্ষেত্রে আপনার আইনি প্রতিকারকে মারাত্মকভাবে সীমিত করে।
সাধারণ ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বে সর্বোচ্চ ২০ জন অংশীদার থাকতে পারেন। ব্যাংকিং ব্যবসার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ জন। এর বেশি সদস্য প্রয়োজন হলে কোম্পানি আইন ১৯৯৪ অনুযায়ী কোম্পানি গঠন করতে হবে।
হ্যাঁ। সকল অংশীদার — নিষ্ক্রিয় অংশীদারসহ — ফার্মের সকল ঋণ ও দায়ের জন্য যৌথভাবে এবং পৃথকভাবে ব্যক্তিগতভাবে দায়বদ্ধ। নিষ্ক্রিয় অংশীদারের ব্যক্তিগত সম্পদও ঝুঁকিতে থাকে।
পার্টনারশিপ ডিড না থাকলে বা মুনাফা বণ্টন বিষয়ে চুক্তি নীরব থাকলে, পার্টনারশিপ অ্যাক্ট ১৯৩২ এর ধারা ১৩(খ) অনুযায়ী সকল অংশীদারের মধ্যে মুনাফা ও লোকসান সমানভাবে ভাগ হয়।
হ্যাঁ, তবে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট শর্তে: (ক) পার্টনারশিপ ডিডে বহিষ্কারের বিধান স্পষ্টভাবে থাকতে হবে, (খ) ফার্মের স্বার্থে সৎভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে এবং (গ) সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশীদার সম্মত থাকতে হবে। এই শর্ত ছাড়া বহিষ্কার অবৈধ।
কোম্পানি আইন ১৯৯৪ অনুযায়ী প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির নিজস্ব পৃথক আইনি পরিচয় আছে, দায় পরিশোধিত মূলধনের মধ্যে সীমিত, এবং আরজেএসসিতে নিবন্ধন প্রয়োজন। অংশীদারিত্বে কোনো পৃথক আইনি পরিচয় নেই এবং অংশীদারদের অসীম ব্যক্তিগত দায় থাকে, তবে গঠন সহজ।
পার্টনারশিপ অ্যাক্ট ১৯৩২ এর ধারা ৪৪ অনুযায়ী সিভিল কোর্টে বিলুপ্তির মামলা করুন — চুক্তি লঙ্ঘন, অসদাচরণ বা 'ন্যায্য ও ন্যায়সংগত' ভিত্তিতে। আদালত বিলুপ্তির আদেশ দিতে এবং ফার্মের কার্যক্রম বন্ধ করতে রিসিভার নিয়োগ করতে পারেন।