লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-15 · ১২ মিনিট পড়ুন
পৈতৃক ভিটা, ফ্ল্যাট কিংবা দোকান থেকে জোরপূর্বক তালা ভেঙে কাউকে বের করে দেওয়া অথবা মাস্তান লেলিয়ে দিয়ে রাতারাতি উচ্ছেদ করা বাংলাদেশে এক অমানবিক বাস্তব চিত্র। অনেকেই মনে করেন জমি একবার বেদখল হয়ে গেলে আর কোনো উপায় থাকে না। অথচ ১৮৭৭ সালের সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন এবং ২০২৩ সালের নতুন ভূমি আইনে তাৎক্ষণিকভাবে দখল ফিরিয়ে পাওয়ার অকাট্য সুরক্ষাকবচ রয়েছে। এ বিষয়ে জরুরি আইনি গাইডলাইন দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>।
| বিষয় / শর্ত | সরকারি নিয়ম, ফি ও আইন (২০২৬) |
|---|---|
| প্রযোজ্য আইন ও আদালত | বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০, ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ (CrPC) ও সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্ট বিভাগ |
| আগাম ও নিয়মিত জামিন | হাইকোর্ট বিভাগে আগাম জামিন (ধারা ৪৯৮ CrPC) ও ম্যাজিস্ট্রেট/দায়রা আদালতে নিয়মিত জামিন |
| সরকারি পোর্টাল ও যাচাই | supremecourt.gov.bd, judiciary.gov.bd, pcc.police.gov.bd ও land.gov.bd |
| জরুরি আইনি পরামর্শ চেম্বার | অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম (বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট) — ০১৭১২-৬৫৫৫৪৬ |
আইন অনুযায়ী ‘দখল স্বত্বের নয়-দশমাংশ’ (Possession is nine points of the law)। কোনো ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে কোনো ভূমিতে শান্তিময় দখলে থাকলে, এমনকি প্রকৃত মালিকও তাকে জোরজবরদস্তি করে বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিতে পারেন না। উচ্ছেদ করতে হলে যথাযথ আদালতের ডিক্রি ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক।
১৮৭৭ সালের সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারা (Section 9, Specific Relief Act) একটি অত্যন্ত দ্রুত কার্যকর সংক্ষিপ্ত প্রতিকার। এর বিশেষত্ব হলো:
যদি ৬ মাস অতিবাহিত হয়ে যায় কিংবা প্রতিপক্ষ নিজস্ব ভুয়া দলিলের ওপর ভিত্তি করে জমি দাবি করে, তবে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৮ ধারা অনুযায়ী নিয়মিত দেওয়ানী আদালতে স্বত্ব প্রমাণসহ দখল পুনরুদ্ধারের মোকদ্দমা করতে হয়। তামাদি আইনের ১৪২ ও ১৪৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বেদখল হওয়ার তারিখ থেকে ১২ বছরের মধ্যে এ মামলা করা যায়।
মামলা দায়েরের দিনই দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৯ আদেশের ১ ও ২ নিয়ম অনুযায়ী বিজ্ঞ আদালতে জরুরি দরখাস্ত দিতে হয়—যেন বিবাদী দখল করা জমিতে কোনো নতুন ভবন নির্মাণ, গাছপালা কর্তন কিংবা তৃতীয় পক্ষের নিকট জমি বিক্রি বা হস্তান্তর করতে না পারে। আদালত তাৎক্ষণিক অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা স্থিতাবস্থার আদেশ দিলে জমিতে প্রতিপক্ষের যেকোনো পরিবর্তন বেআইনি ঘোষিত হয়।
আপনার জমি বিরোধ, বাটোয়ারা মামলা, জামিন, তালাক বা সাইবার জটিলতায় বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে সুপ্রিম কোর্ট বা উত্তরা চেম্বারে নথিপত্রসহ সরাসরি বসুন।
২০২৩ সালে প্রণীত যুগান্তকারী ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন’-এ জোরপূর্বক জমি দখলের শাস্তিকে সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করার স্পষ্ট বিধান রাখা হয়েছে। ফলে দেওয়ানি মামলার পাশাপাশি দখলদারের বিরুদ্ধে সরাসরি আমলি আদালতে ফৌজদারি প্রতিকার চেয়ে তাদের আইনের আওতায় নেওয়া সম্ভব।
জমি নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় মামলা করা যায়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জমির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে ওসিকে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার আদেশ দেন এবং প্রয়োজনে জমি সরকারি হেফাজতে সাময়িক ক্রোক (Attachment) করে উভয় পক্ষকে দেওয়ানি আদালতের ফয়সালা না আসা পর্যন্ত দূরে রাখার আদেশ দেন।