লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-15
শ্বশুরবাড়িতে শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের শিকার হলে অনেক নারী মনে করেন—তাদের সামনে কেবল দুটি পথ খোলা: হয় সব মুখ বুজে সহ্য করে সংসার করা, নয়তো ডিভোর্স দিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে চরম ফৌজদারি মামলা ঠুকে দেওয়া। অথচ ২০১০ সালের পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ আইনে বৈবাহিক সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ রেখেই শ্বশুরবাড়িতে সসম্মানে বসবাসের ও আইনি সুরক্ষা পাওয়ার অনন্য প্রতিকার রয়েছে। এর বাস্তব প্রয়োগ তুলে ধরেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>।
এই আইনের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো এটি নিছক কাউকে জেলে পাঠিয়ে সংসার ধ্বংস করার আইন নয়, বরং নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পরিবার বাঁচানোর একটি দেওয়ানি ও সুরক্ষামূলক আইন। শারীরিক প্রহার, মানসিক কটূক্তি, অর্থনৈতিক বঞ্চনা কিংবা যৌন নির্যাতন—যেকোনো ধরনের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে এই আইনে সরাসরি আদালতের কার্যকর সুরক্ষা পাওয়া যায়।
আদালতে আবেদন করলে বিজ্ঞ জুডিশিয়াল বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শুনানি শেষে ‘সুরক্ষা আদেশ’ জারি করেন। এই আদেশের ফলে স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির কোনো সদস্য ভিকটিমের সাথে কোনো ধরনের দুর্ব্যবহার করতে পারবেন না, কর্মস্থলে গিয়ে উত্ত্যক্ত করতে পারবেন না কিংবা ফোনে হুমকি দিতে পারবেন না। এই আদেশ অমান্য করা সরাসরি আমলযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ (জেল ও জরিমানা)।
শ্বশুরবাড়ি থেকে কোনো নারীকে এক কাপড়ে বের করে দেওয়া বাংলাদেশে নিয়মিত ঘটনা। কিন্তু পারিবারিক সহিংসতা আইনের ১৩ ধারা অনুযায়ী—স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির যৌথ বসতবাড়িতে (Shared Household) বসবাস করার আইনি অধিকার নারীর শতভাগ অটুট। ম্যাজিস্ট্রেট নির্দেশ দিতে পারেন যেন স্ত্রীকে ওই বাড়ি থেকে বেদখল না করা হয়, অথবা স্বামীকে স্ত্রীর জন্য সমমানের পৃথক নিরাপদ বাসস্থানের পূর্ণ ভাড়া বহন করতে বাধ্য করা হয়।
সহিংসতার শিকার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হলে তার সকল ওষুধের বিল এবং শারীরিক-মানসিক ক্ষতির জন্য উপযুক্ত এককালীন বা মাসিক আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ বিজ্ঞ আদালত দিতে পারেন।
বুকের দুধের বা অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুকে যদি জোর করে মা’র কোল থেকে কেড়ে নেওয়া হয়, তবে এই আইনের অধীনে দরখাস্তের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সন্তানকে তাৎক্ষণিক মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে তলব করে আদেশ জারি করা যায়।
বিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সরাসরি দরখাস্ত দাখিল করতে হয়। আদালত প্রথম শুনানিতেই মধ্যস্থতাকারী (Protection Officer) নিয়োগ করতে পারেন কিংবা তাৎক্ষণিক অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা আদেশ জারি করেন।