পাসপোর্ট ও এনআইডিতে নামের মারাত্মক ভুল: কোর্ট এফিডেভিট ও আইনি প্রক্রিয়ায় সংশোধনের বাস্তব ধাপ

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-13

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্রে (NID) নিজের নাম, পিতার নাম বা জন্মতারিখের মারাত্মক অমিলের কারণে বিদেশ যাত্রা, ভিসা প্রাপ্তি কিংবা সরকারি চাকরি আটকে গিয়ে হাজারো মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। দালালের খপ্পরে পড়ে টাকা নষ্ট না করে বিজ্ঞ আদালতের এফিডেভিট ও সরকারি সার্কুলার অনুযায়ী কীভাবে সমাধান করবেন, তা বিশ্লেষণ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের প্র্যাকটিসিং আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>।

সাধারণ মানুষ যেখানে বিভ্রান্ত হয়: নোটারি বনাম ম্যাজিস্ট্রেট এফিডেভিট

অধিকাংশ মানুষ কোর্টের বাইরে নোটারি পাবলিক দিয়ে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে এফিডেভিট করিয়ে পাসপোর্ট অফিসে জমা দেন এবং তা রিজেক্ট হয়। মনে রাখবেন—পাসপোর্টে নামের আমূল পরিবর্তন বা বয়সের বড় ধরণের অমিল সংশোধনের জন্য নোটারি পাবলিকের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন অধিদপ্তরের স্পষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী এটি অবশ্যই ১ম শ্রেণির জুডিশিয়াল বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে স্বাক্ষরিত হলফনামা (Judicial Magistrate Affidavit) হতে হবে।

পাসপোর্ট অধিদপ্তর ও নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ সংশোধন নীতিমালা

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ সুরক্ষা সেবা বিভাগের পরিপত্র অনুযায়ী—একজন নাগরিকের জাতীয় পরিচয়পত্র এবং শিক্ষাগত সনদের মধ্যে মিল থাকলে পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষ বিদ্যমান পাসপোর্টের তথ্য সংশোধন করতে বাধ্য। পূর্বে বয়স সংশোধনে যে চরম জটিলতা ছিল, হালনাগাদ সার্কুলারে তা অনেকটাই যৌক্তিক ও আইনি কাঠামোর মধ্যে আনা হয়েছে।

১ম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হলফনামা (Affidavit) সম্পাদনের নিয়ম

আইনজীবীর মাধ্যমে যথাযথ নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে হলফনামা প্রস্তুত করতে হবে। হলফনামায় আবেদনকারীর পূর্বের ভুল নাম ও সঠিক নাম, সনদের বিবরণ এবং কোনো ফৌজদারি অপরাধ আড়াল করার উদ্দেশ্যে এটি করা হচ্ছে না মর্মে সুস্পষ্ট ঘোষণা থাকবে। এরপর ম্যাজিস্ট্রেট এজলাসে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে জবানবন্দি দিয়ে সই সম্পাদন করতে হয়।

জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি ও বাংলাদেশ সরকারি গেজেট (Gazette) প্রকাশ

আদালতের হলফনামা সম্পন্নের পর অন্তত দুটি বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিকে (একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি) ‘নাম সংশোধন সংক্রান্ত ঘোষণা’ বিজ্ঞপ্তি আকারে ছাপাতে হবে। নামের বড় ধরণের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিজি প্রেস (BG Press) থেকে সরকারি গেজেট নোটিফিকেশন করিয়ে নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ প্রমাণপত্র।

শিক্ষাগত সনদের (SSC/JSC) সাথে মিল রেখে পাসপোর্ট সংশোধনের কৌশল

যাদের এসএসসি সনদ রয়েছে, তাদের জন্য এসএসসি সার্টিফিকেটই হলো বয়সের চূড়ান্ত ও অখণ্ডনীয় প্রমাণ। যদি অতীতে দালাল চক্র পাসপোর্টে নিজের বয়স বাড়িয়ে বা কমিয়ে ফেলে থাকে, তবে মূল শিক্ষাগত সনদ, শিক্ষা বোর্ডের সত্যায়ন এবং আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট এফিডেভিট দাখিল করলে পাসপোর্ট বিভাগ বয়স সংশোধনের আবেদন মঞ্জুর করে।

বিবাহোত্তর বা ডিভোর্সের পর পাসপোর্টে স্বামীর নাম পরিবর্তন

বিয়ের পর পাসপোর্টে স্বামীর নাম সংযোজন করতে হলে নিকাহনামা ও কাবিননামা দাখিল করতে হয়। আর বিবাহবিচ্ছেদের পর স্বামীর নাম কর্তন বা পূর্বের কুমারী নাম পুনর্বহাল করতে হলে মেয়রের কার্যালয় থেকে ইস্যুকৃত তালাকের চূড়ান্ত সনদ এবং আদালতের হলফনামা সহ আবেদন করতে হয়।

প্রয়োজনীয় আইনি ডকুমেন্টস চেকলিস্ট

ফাইলে যা যা প্রস্তুত রাখবেন:

  1. মূল পাসপোর্ট ও অনলাইন ভেরিফায়েড জাতীয় পরিচয়পত্র।
  2. ১ম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক স্বাক্ষরিত মূল হলফনামা।
  3. পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির মূল কাটিং।
  4. অনলাইন জন্ম নিবন্ধন (১৬/১৭ ডিজিট) ও এসএসসি সনদের সত্যায়িত কপি।