লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-22 · ১৮ মিনিট
বাংলাদেশে বহু পরিবারে পিতা বার্ধক্যে উপনীত হলেই সন্তানেরা পৈতৃক সম্পত্তি ভাগ করে দেওয়ার জন্য মানসিক ও শারীরিক চাপ সৃষ্টি করে। অনেক ক্ষেত্রে জোরপূর্বক বা কৌশলে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে গিয়ে হেবা দলিল বা দানপত্র করিয়ে নেওয়ার অমানবিক ঘটনা ঘটে। কিন্তু বাংলাদেশের আইন জীবিত পিতার সম্পত্তির ওপর সন্তানের কতটুকু অধিকার দেয়? পিতা বেঁচে থাকাকালে কি কোনো সন্তান বাটোয়ারা মামলা (Partition Suit) দায়ের করতে পারে? জোর করে সম্পত্তি লিখে নিলে তা আদালতের মাধ্যমে কীভাবে বাতিল করবেন? এই অত্যন্ত সংবেদনশীল অথচ বাস্তব আইনি সমস্যার মুখোমুখি হলে সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--gold);font-weight:bold;text-decoration:underline;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>-এর আদালতের বাস্তব দিকনির্দেশনা নিচে তুলে ধরা হলো। প্রয়োজনে সরাসরি চেম্বারে যোগাযোগ করুন: <a href="tel:01712655546" style="color:var(--gold);font-weight:bold;">01712655546</a>।
মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়াহ) এবং ট্রান্সফার অব প্রোপার্টি অ্যাক্ট ১৮৮২-এর ৬(ক) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি জীবিত থাকা পর্যন্ত তার সম্পত্তিতে ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকারীদের কোনো 'স্বত্ব' বা 'অধিকার' জন্মায় না। আইনের ভাষায় একে বলা হয় Spes Successionis — অর্থাৎ কেবল পাওয়ার একটি আশা বা সম্ভাবনা।
যতক্ষণ পিতা জীবিত ও সুস্থ মস্তিষ্কে আছেন, ততক্ষণ তিনি তার স্ব-অর্জিত ও পৈতৃক উভয় প্রকার সম্পত্তির একমাত্র ও নিরঙ্কুশ মালিক। তিনি চাইলে তা বিক্রি করতে পারেন, ব্যাংকে বন্ধক রাখতে পারেন, হেবা বা দান করতে পারেন কিংবা কোনো সন্তানকেই না দিয়ে নিজের নামে রেখে দিতে পারেন। সন্তানরা যতই সাবালক বা বিবাহিত হোক না কেন, পিতার জীবদ্দশায় সম্পত্তির কোনো হিস্যা বা সীমানা ভাগ করার আইনগত কোনো কর্তৃত্ব তাদের নেই।
আদালতে অনেক সময় অবাধ্য সন্তানেরা পিতার বিরুদ্ধে বা অন্য ভাইদের বিরুদ্ধে 'বাটোয়ারা মামলা' ঠুকে দেয়। তবে দেওয়ানি আদালতের সুস্পষ্ট নীতি হলো—যৌথ স্বত্ব ও মালিকানা ছাড়া বাটোয়ারা মোকদ্দমা চলে না (No title, no partition)।
যেহেতু পিতার সম্পত্তিতে পিতার জীবদ্দশায় সন্তানের কোনো যৌথ মালিকানা বা কো-শারারশিপ তৈরি হয় না, তাই এমন মামলা দায়ের করা হলে বিবাদী পিতা আদালতে দেওয়ানি কার্যবিধির Order 7 Rule 11 (Rejection of Plaint) ধারায় আবেদন করলেই বিচারক মামলাটি প্রাথমিক শুনানিতেই খারিজ করে দেন। উল্টো আদালত অসৎ উদ্দেশ্যমূলক মামলার কারণে বাদীর ওপর ক্ষতিপূরণমূলক খরচ আরোপ করতে পারেন।
পিতা যদি সুস্থ ও সচেতন অবস্থায় কোনো সন্তানকে ভালোবেসে তার সম্পত্তি হেবা (Hiba) বা দান করে দেন, তবে মুসলিম আইন অনুযায়ী তা আইনত সম্পূর্ণ বৈধ। তবে এ ক্ষেত্রে হেবার ৩টি আবশ্যিক শর্ত পূরণ হতে হবে:
তবে স্মরণ রাখতে হবে, রেজিস্ট্রেশন আইন ১৯০৮-এর ১৭ ধারা সংশোধনের পর বর্তমানে মুখে মুখে হেবা আইনত অকার্যকর। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে রক্তসম্পর্কের নির্ধারিত ১০০ টাকা রেজিস্ট্রেশন ফিতে রেজিস্ট্রিকৃত হেবা দলিল সম্পাদন করতে হবে। পিতা অন্য কোনো সন্তানকে কম দিলে বা না দিলে নৈতিক প্রশ্ন উঠতে পারে, কিন্তু পিতা সুস্থ মস্তিষ্কে স্বেচ্ছায় হস্তান্তর করলে আইনগতভাবে সেই হেবা বাতিল করা অত্যন্ত কঠিন।
বাস্তব আদালতে আমরা অহরহ পাই—অসুস্থ, অন্ধ বা শয্যাশায়ী পিতাকে চিকিৎসার কথা বলে বা ভুল বুঝিয়ে সাব-রেজিস্ট্রারে নিয়ে গিয়ে গোপনে হেবা দলিল রেজিস্ট্রি করিয়ে নেয় কোনো সুযোগসন্ধানী সন্তান। আইন অনুযায়ী এ জাতীয় দলিল Voidable (বাতিলযোগ্য)।
পিতা নিজে বেঁচে থাকলে বা প্রতারিত পিতা সুস্থ হয়ে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ১৮৭৭-এর ৩৯ ধারা অনুযায়ী সহকারী জজ আদালতে 'দলিল বাতিলের দেওয়ানি মোকদ্দমা' (Suit for Cancellation of Deed) দায়ের করতে পারেন। চুক্তি আইন ১৮৭২-এর ১৬ ধারা (Undue Influence বা অনুচিত প্রভাব) ও ১৯ ধারা অনুযায়ী প্রমাণ করা যায় যে, মানসিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বা ভয় দেখিয়ে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল। একই সাথে দণ্ডবিধির ৪২০/৪৬৭/৪৬৮ ধারায় ফৌজদারি আদালতে জালিয়াতির মামলাও করা যায়।
বৃদ্ধ বয়সে পিতা-মাতাকে অবহেলা করা বা তাদের জমি থেকে উচ্ছেদ করার প্রবণতা রুখতে জাতীয় সংসদে প্রণীত হয়েছে পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন ২০১৩। এই আইনের মূল বিধানগুলো হলো:
আপনি যদি প্রবীণ পিতা হন এবং সন্তানের পক্ষ থেকে সম্পত্তি সংক্রান্ত মানসিক পীড়নের শিকার হন, তবে অবিলম্বে নিচের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করুন:
পৈতৃক জমিজমা সংক্রান্ত জটিলতা পারিবারিক বিরোধের চেয়েও বড় দেওয়ানি মামলায় রূপ নিতে পারে। আপনার বা আপনার পরিবারের কোনো সদস্য যদি জোরপূর্বক দলিল জালিয়াতি বা অবৈধ বাটোয়ারা দাবির সম্মুখীন হন, তবে দেওয়ানি আদালতের পাকা ড্রাফটিং ছাড়া প্রতিকার পাওয়া অসম্ভব। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলমের চেম্বারে সরাসরি পরামর্শ পেতে কল করুন 01712655546 অথবা WhatsApp-এ মেসেজ পাঠান।