পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন ২০১৩: সন্তান দেখাশোনা না করলে মামলা ও শাস্তির আইনি নিয়ম ২০২৬

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-11

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

আমাদের সমাজে অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, সন্তানরা প্রাপ্তবয়স্ক ও আর্থিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বৃদ্ধ বাবা-মাকে অবহেলা করেন, তাদের চিকিৎসার দায়িত্ব নেন না কিংবা তাদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও বৃদ্ধাশ্রমে বা দূরবর্তী কোনো পরিত্যক্ত স্থানে ফেলে রেখে আসেন। অনেক ক্ষেত্রে সন্তানরা পিতা-মাতার স্থাবর সম্পত্তি নিজেদের নামে লিখে নেওয়ার পর বৃদ্ধ মা-বাবাকে একবেলা খাবারও দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এই নির্মম সামাজিক অবক্ষয় রোধ এবং অসহায় বৃদ্ধ পিতা-মাতার জীবন ও সম্মান সুরক্ষিত করতে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ২০১৩ সালে প্রণয়ন করে একটি অত্যন্ত কঠোর বিশেষ আইন—'পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩' (আইন নং ৪৯, ২০১৩)। এই আইনে স্পষ্ট ঘোষণা করা হয়েছে যে, পিতামাতার ভরণপোষণ দেওয়া প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ও সক্ষম সন্তানের একটি অলঙ্ঘনীয় আইনগত দায়িত্ব। সন্তান অবহেলা করলে তা সরাসরি শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। ২০২৬ সালের আধুনিক প্রেক্ষাপটে পিতা-মাতার আইনি সুরক্ষা, মামলা করার নিয়ম ও প্রতিকার নিচে বিশদভাবে তুলে ধরা হলো।

১. পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন ২০১৩-এর পটভূমি ও সাংবিধানিক তাৎপর্য

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে নাগরিকদের জীবনের মৌলিক প্রয়োজন—অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসার নিশ্চয়তা প্রদানের কথা বলা হয়েছে। বিশেষ করে নাগরিকদের বার্ধক্য, পঙ্গুত্ব বা অসুস্থতাজনিত কারণে সরকারি ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সাংবিধানিক অঙ্গীকার রয়েছে। এই সাংবিধানিক চেতনার আলোকে ২০১৩ সালে সরকার অনুভব করে যে, সমাজে পিতা-মাতার প্রতি অবহেলা কেবল একটি নৈতিক বিচ্যুতি নয়, বরং এটি অসহায় মানুষের বেঁচে থাকার মৌলিক মানবাধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন। তাই নৈতিক উপদেশ নয়, বরং আইনি বাধ্যবাধকতা প্রতিষ্ঠা করতেই 'পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন ২০১৩' পাস করা হয়। এই আইনের বিশেষত্ব হলো—এটি ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার অধীনে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে।

২. আইনে 'ভরণপোষণ' (Maintenance)-এর আইনি সংজ্ঞা ও পরিধি

আইনের ধারা ২(ঘ) অনুযায়ী 'ভরণপোষণ' বলতে কেবল সামান্য কিছু অর্থ দেওয়াকে বোঝায় না। এর পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক: আইনগত ভরণপোষণের অন্তর্ভুক্ত: ১. উপযুক্ত ও নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিতকরণ। ২. পর্যাপ্ত, পুষ্টিকর ও নিয়মিত খাদ্য ও পানীয় সরবরাহ। ৩. আবহাওয়া উপযোগী মানসম্মত পোশাক-পরিচ্ছদ প্রদান। ৪. জরুরি চিকিৎসা সেবা, নিয়মিত ওষুধ ক্রয়, ডাক্তারের ফি এবং প্রয়োজনীয় সেবা-শুশ্রূষা (Nursing Care)। ৫. পিতা-মাতার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং তাদের মানসিকভাবে সঙ্গ দেওয়া। অতএব, সন্তান যদি কেবল কিছু টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দিয়ে বৃদ্ধ অসুস্থ পিতা-মাতাকে নিঃসঙ্গ বা চিকিৎসার সুযোগহীন অবস্থায় ফেলে রাখে, তবে তাও আইনের চোখে পূর্ণ ভরণপোষণ বলে গণ্য হবে না।

৩. পিতা-মাতার ভরণপোষণে সন্তানের আইনি দায়িত্বসমূহ (ধারা ৩)

আইনের ৩ ধারায় সন্তানের ওপর সুস্পষ্ট দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে: - ধারা ৩(১): প্রত্যেক সন্তানকে তার পিতা-মাতার ভরণপোষণ নিশ্চিত করিতে হইবে। - ধারা ৩(২): সন্তানকে অবশ্যই পিতা-মাতার সহিত একই সাথে বসবাস করিতে হইবে। - ধারা ৩(৩): তবে কর্মস্থল বা বাস্তব কোনো কারণে সন্তান পৃথক বসবাস করিলে, পিতা-মাতার সহিত নিয়মিত সাক্ষাৎ করিতে হইবে এবং তাদের খোরপোশের সম্পূর্ণ অর্থ প্রতি মাসে নিয়মিত ও সময়মতো প্রদান করিতে হইবে। - ধারা ৩(৪): কোনো সন্তান তার পিতা-মাতাকে তাদের ইচ্ছা বা সম্মতির বিরুদ্ধে কোনো বৃদ্ধাশ্রম বা অন্য কোনো আশ্রমে বা পৃথক স্থানে বসবাস করিতে বাধ্য করিতে পারিবে না।

৪. দাদা-দাদী ও নানা-নানির ভরণপোষণের বাধ্যবাধকতা (ধারা ৪)

এই আইনের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো এটি শুধু পিতা-মাতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং রক্তের সম্পর্কের ঊর্ধ্বতন অভিভাবকদেরও অন্তর্ভুক্ত করেছে। আইনের ৪ ধারা অনুসারে: যদি পিতা-মাতার অবর্তমানে বা তাদের অক্ষমতার কারণে দাদা-দাদী বা নানা-নানি জীবিত থাকেন এবং তাদের ভরণপোষণের জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক সামর্থ্য না থাকে, তবে নাতি-নাতনিদের ওপর তাদের দাদা-দাদী এবং নানা-নানির সম্পূর্ণ ভরণপোষণ নিশ্চিত করার আইনি দায়িত্ব বর্তাবে। নাতি-নাতনি যদি আর্থিকভাবে সক্ষম হয় তবে তারাও এই দায় অস্বীকার করতে পারবে না।

৫. পিতা-মাতাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানো কি বেআইনি? আইনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা

বাংলাদেশে অনেক সন্তান তাদের আধুনিক জীবনযাত্রার সুবিধা বা স্ত্রীর আপত্তির কারণে বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে জোরপূর্বক কোনো বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দেন। আইনের অবস্থান দ্ব্যর্থহীন: পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন ২০১৩-এর ধারা ৩(৪) অনুযায়ী পিতা-মাতাকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানো একটি সরাসরি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। পিতা বা মাতা যদি স্বেচ্ছায় ও আনন্দচিত্তে কোনো বৃদ্ধাশ্রমে থাকতে না চান, তবে সন্তান কোনো অবস্থাতেই তাদের সেখানে পাঠাতে পারে না। যদি কোনো সন্তান পিতা-মাতাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসে, তবে পিতা-মাতার আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত অবিলম্বে সন্তানকে তাদের নিজ বাসায় ফিরিয়ে এনে সেবা করার আনুষ্ঠানিক আদেশ দেবেন।

৬. একাধিক সন্তান থাকলে ভরণপোষণের দায়িত্ব কীভাবে বণ্টিত হবে?

পরিবারে যদি একাধিক ছেলে বা মেয়ে থাকে, তবে প্রায়শই সন্তানরা একে অপরের ওপর দায় চাপাতে চায়—'বড় ভাই দেখবে', 'ছোট ভাই চাকরি ভালো করে সে দেখবে'। আইন অত্যন্ত স্পষ্ট: ধারা ৩(৫) অনুযায়ী: যদি পিতা-মাতার একাধিক সন্তান থাকে, তবে সকল সন্তান নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক আলাপ-আলোচনা করে পিতা-মাতার ভরণপোষণ নিশ্চিত করবে। কোনো সন্তান বলতে পারবে না যে অন্য ভাই দায়িত্ব নেয়নি বলে সেও দায়িত্ব নেবে না। আদালত প্রয়োজনে প্রতিটি সন্তানের আর্থিক আয় বিবেচনা করে পিতা-মাতার মাসিক খরচের নির্দিষ্ট অনুপাত নির্ধারণ করে দিতে পারেন। উল্লেখ্য, এই আইনে ছেলে এবং মেয়ে উভয়কেই 'সন্তান' হিসেবে সমভাবে দায়বদ্ধ করা হয়েছে।

৭. প্রবাসী সন্তানদের ক্ষেত্রে পিতা-মাতার ভরণপোষণ কার্যকর করার আইনি পথ

বর্তমান যুগে বহু পরিবারের সক্ষম সন্তানরা বিদেশে (যেমন মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আমেরিকা বা কানাডায়) বসবাস করেন। অনেক ক্ষেত্রে সন্তানরা বিদেশে বিলাসী জীবনযাপন করলেও দেশে অবস্থানরত বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায় ফেলে রাখেন এবং তাদের চিকিৎসা ও খরচের জন্য কোনো রেমিট্যান্স পাঠান না। পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন ২০১৩ অনুযায়ী সন্তান বিদেশে অবস্থান করলেও তার আইনি দায় সামান্যতমও হ্রাস পায় না। পিতা বা মাতা বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালত প্রবাসে থাকা সন্তানের স্থায়ী ঠিকানায় বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার চ্যানেলের মাধ্যমে সমন জারি করতে পারেন। একই সাথে সন্তান যদি আদালতে হাজির না হয়, তবে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী তার অবর্তমানে একতরফা বিচার পরিচালনা অথবা বাংলাদেশে থাকা তার স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও ব্যাংকে থাকা অর্থ ফ্রিজ করে পিতা-মাতার মাসিক ভরণপোষণ আদায় করার আদেশ দিতে পারেন। সন্তান দেশে ফেরার সময় ইমিগ্রেশন ও বিমানবন্দরে গ্রেফতারের গ্রেফতারি পরোয়ানাও বিজ্ঞ আদালত জারি করতে পারেন।

৭. পুত্রবধূ বা জামাই কর্তৃক পিতা-মাতার সেবায় বাধা প্রদানের আইনি পরিণতি

বাস্তবে দেখা যায়, সন্তান হয়তো পিতা-মাতাকে দেখতে চায় কিন্তু সন্তানের স্বামী বা স্ত্রী (পুত্রবধূ বা জামাই) পিতা-মাতার ভরণপোষণে বা একসাথে থাকতে প্রচণ্ড বাধা প্রদান করে অথবা মানসিক নির্যাতন চালায়। আইনের কঠোর ৫(২) ধারা: যদি কোনো সন্তানের স্বামী বা স্ত্রী, অথবা অন্য কোনো আত্মীয় পিতা-মাতার ভরণপোষণ প্রদানে বাধা সৃষ্টি করে বা প্ররোচনা দেয়, তবে তিনিও এই আইনের অধীনে অপরাধের সহযোগী (Abettor) হিসেবে গণ্য হবেন এবং সন্তানের সমান শাস্তির (১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা কারাদণ্ড) মুখোমুখি হবেন। অর্থাৎ পিতা-মাতার সেবায় বাধা দেওয়া সরাসরি দণ্ডনীয় অপরাধ।

৯. মুসলিম আইন, হিন্দু আইন বনাম পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন ২০১৩: তুলনামূলক সুরক্ষা

ব্যক্তিগত ধর্মীয় আইনের অধীনেও পিতা-মাতার অধিকার সুরক্ষিত। মুসলিম আইনশাস্ত্রে হাদিস ও কোরআনের অসংখ্য নির্দেশনায় পিতা-মাতার সেবা ফরজ করা হয়েছে এবং সন্তান আর্থিকভাবে অসচ্ছল হলেও ভিক্ষা করে হলেও পিতা-মাতাকে খাওয়ানোর নৈতিক ও ধর্মীয় বিধান রয়েছে। অপরদিকে হিন্দু আইনেও পুত্রের ওপর পিতা-মাতার ভরণপোষণের পবিত্র দায়িত্ব অর্পিত রয়েছে। তবে পূর্বে দেওয়ানি আদালতের মাধ্যমে খোরপোশ আদায় করতে বছরের পর বছর লেগে যেত। এই দীর্ঘসূত্রিতা দূর করতেই ২০১৩ সালের বিশেষ আইনটি ফৌজদারি আমলযোগ্য আইনের রূপ দেওয়া হয়েছে। ফলে পূর্বে যেখানে খোরপোশ পেতে পারিবারিক আদালতে দেওয়ানি ডিক্রির জন্য অপেক্ষা করতে হতো, সেখানে এখন ফৌজদারি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মাত্র কয়েকটি শুনানিতে সন্তানকে হাজির করিয়ে তাৎক্ষণিক খরচের ব্যবস্থা করা সম্ভব হচ্ছে।

৮. আদালত ও মামলা দায়েরের পদ্ধতি: ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সরাসরি নালিশ (ধারা ৫)

যদি কোনো সন্তান পিতা-মাতাকে ভরণপোষণ না দেয়, তবে পিতা বা মাতা কীভাবে আইনের আশ্রয় নেবেন? আইনি প্রক্রিয়া: ১. উপযুক্ত আদালত: ঘটনার আওতাধীন প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (Judicial Magistrate Court) অথবা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (Metropolitan Magistrate Court)-এ সরাসরি মামলা দায়ের করতে হবে। ২. লিখিত দরখাস্ত (Complaint): পিতা বা মাতা নিজে অথবা তাদের পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে লিখিত নালিশ দাখিল করবেন। ৩. জবানবন্দি গ্রহণ (CrPC Section 200): বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট পিতা বা মাতার জবানবন্দি সরাসরি গ্রহণ করবেন। ৪. সমন বা ওয়ারেন্ট জারি: অভিযোগ আমলে নিয়ে আদালত অবহেলাকারী সন্তানের বিরুদ্ধে সমন (Summons) জারি করবেন এবং হাজির না হলে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করবেন।

১১. সম্পত্তি হেবা বা দান করার পর অবহেলা করলে দানপত্র বাতিলের মোকদ্দমা

বাস্তবে এক মারাত্মক চিত্র হলো—পিতা বা মাতা নিজের সমস্ত স্থাবর জমি ও বাড়ি স্নেহের বশবর্তী হয়ে নির্দিষ্ট এক বা একাধিক সন্তানের অনুকূলে হেবা বা দানপত্র করে দেন। দলিল রেজিস্ট্রি হওয়ার পরপরই সেই সন্তানরা সম্পূর্ণ রূপ বদলে ফেলে এবং পিতা-মাতাকে ঘর থেকে তাড়িয়ে দেয়। এমন মর্মান্তিক পরিস্থিতিতে আইন কী বলে? যদিও হেবা দলিল সহজে বাতিল হয় না, তবে সুপ্রিম কোর্টের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে যে, যদি দলিলে সুস্পষ্ট বা অন্তর্নিহিত শর্ত থাকে যে সন্তান আজীবন পিতা-মাতার সেবা করবে এবং সন্তান সেই শর্ত ভঙ্গ করে নিষ্ঠুর আচরণ করে, তবে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৯ ধারা অনুযায়ী দেওয়ানি আদালতে মামলা করে দলিল বাতিলের দাবি তোলা যায়। একই সাথে ২০১৩ সালের আইনের ৫ ধারায় ফৌজদারি শাস্তি এবং পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ আইনে নিজ বাস্তুভিটায় নিরাপদে বসবাসের সুরক্ষা আদেশ (Protection Order) জারি করানো যায়।

৯. আপস নিষ্পত্তি ও সালিশি বোর্ড গঠন (ধারা ৭): পারিবারিক পুনর্মিলন

পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন কোনো প্রতিশোধমূলক আইন নয়; এর মূল লক্ষ্য হলো পরিবারকে রক্ষা করা এবং পিতা-মাতার মুখে হাসি ফোটানো। আইনের ৭ ধারা অনুযায়ী: আদালত চাইলে মামলাটির বিচার শুরুর পূর্বে বা শুনানিকালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বা ওয়ার্ড কাউন্সিলর সমন্বয়ে একটি 'আপস সালিশি বোর্ড' গঠনের নির্দেশ দিতে পারেন। সালিশি বোর্ড উভয় পক্ষকে ডেকে সন্তানের মাসিক খরচের একটি সন্তোষজনক চুক্তি সম্পাদন করে দেবে। সন্তান যদি সেই লিখিত আপস চুক্তি মেনে চলে, তবে মামলা নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। তবে সন্তান প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলে আদালত সরাসরি সাজার আদেশ দেবেন।

১০. শাস্তির পরিমাণ ও জরিমানা অনাদায়ে কারাদণ্ডের বিধান ২০২৬

আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী অপরাধের শাস্তি: - প্রধান শাস্তি: অনধিক ১,০০,০০০ (এক লাখ) টাকা অর্থদণ্ড। - অর্থদণ্ড অনাদায়ে সাজা: যদি সন্তান জরিমানার টাকা পরিশোধ না করে, তবে বিজ্ঞ আদালত তাকে অনধিক ৩ (তিন) মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করবেন। - অর্থদণ্ডের টাকার বণ্টন: জরিমানার অর্থ আদায় করে তা ক্ষতিগ্রস্ত পিতা বা মাতাকে প্রদান করা হবে যাতে তারা নিজেদের জীবন নির্বাহ করতে পারেন। - অপরাধের জামিনযোগ্যতা: এই অপরাধটি আপসযোগ্য হলেও আদালত পিতা-মাতার আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সহজে জামিন মঞ্জুর করেন না।

১১. সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট এম ডি শাহ আলমের চেম্বারের আইনি পরামর্শ ও সহায়তা

বৃদ্ধ বয়সে সন্তানের নিষ্ঠুর অবহেলার শিকার হওয়া যেকোনো বাবা-মায়ের জন্য এক অবর্ণনীয় বেদনা। কিন্তু নীরবে চোখের জল না ফেলে আইনের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে নিজের মর্যাদা ও খোরপোশ নিশ্চিত করা সম্ভব। অ্যাডভোকেট এম ডি শাহ আলম সাহেবের চেম্বারে প্রদত্ত আইনি সেবা: - অসহায় পিতা-মাতার পক্ষে বিনামূল্যে বা ন্যূনতম খরচে পরামর্শ প্রদান ও ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট নালিশি পিটিশন ড্রাফটিং। - সন্তানকে আইনি নোটিশ পাঠিয়ে পারিবারিক আলোচনার মাধ্যমে মাসিক সম্মানজনক খোরপোশ আদায় নিশ্চিত করা। - সম্পত্তি লিখে নেওয়ার পর পিতা-মাতাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিলে দেওয়ানি আদালতে দলিল বাতিলের সমন্বিত মামলা পরিচালনা। - চেম্বার যোগাযোগের ঠিকানা: রুম নং ২০৮ ও ২১৪, ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবন, পুরাতন কোর্ট চত্বর, ঢাকা। ফোন: ০১৭১১-৯৪৬১৯৮ / ০১৭৩১৮৪১৯১৯।