পুলিশ ক্লিয়ারেন্স আবেদন ও ট্র্যাকিং ২০২৬ (pcc.police.gov.bd)

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-06 · ১৬ মিনিট

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

<p>বিদেশে উচ্চশিক্ষা, কর্মসংস্থান ভিসা (Work Permit), স্কিলড ইমিগ্রেশন কিংবা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার সময় সবচেয়ে বাধ্যতামূলক যে নথিটি জমা দিতে হয় তা হলো—<strong>পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট (Police Clearance Certificate - PCC)</strong>। এই সার্টিফিকেটের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশ প্রত্যয়ন করে যে আবেদনকারী নাগরিকের বিরুদ্ধে দেশের কোনো থানায় বা আদালতে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড বা বিচারাধীন মামলা নেই। কিন্তু সাধারণ মানুষের মনে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিয়ে অসংখ্য প্রশ্ন থাকে—<em>"অনলাইনে কীভাবে আবেদন করব? ৫০০ টাকার সরকারি ব্যাংক ড্রাফট বা চালান কোড কী? পাসপোর্ট ও ঠিকানার ভেরিফিকেশন কীভাবে হয়? এবং সবচেয়ে বড় আতঙ্ক: অতীতে কোনো জিডি বা মিথ্যা মামলা থাকলে কি পুলিশ ক্লিয়ারেন্স আটকে যাবে?"</em> ঘরে বসে মাত্র ৭ থেকে ১০ দিনে ত্রুটিহীন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট পাওয়ার সম্পূর্ণ অনলাইন প্রসেস, পুলিশ ভেরিফিকেশন মোকাবিলা এবং বিচারাধীন মামলা থাকলে আদালতের মাধ্যমে এনওসি (NOC) পাওয়ার আইনি গাইডলাইন নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো। বিশেষ আইনি সহযোগিতায়: <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--gold);font-weight:bold">অ্যাডভোকেট মোঃ শাহ আলম</a> — <a href="tel:01712655546" style="color:var(--gold);font-weight:bold">📞 01712655546</a></p>

: · ফৌজদারি ও থানা-পুলিশ বিষয়ক আইনজীবী

এক নজরে মূল তথ্য (Quick Answer Table)

বিষয় / শর্তসরকারি নিয়ম, ফি ও আইন (২০২৬)
অফিসিয়াল আবেদন পোর্টালpcc.police.gov.bd (বাংলাদেশ পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পোর্টাল)
সরকারি চালান ফি৫০০ টাকা (সোনালী ব্যাংক ট্রেজারি চালান কোড: ১-২২০১-০০০১-২৬৮১ বা অনলাইন পেমেন্ট)
প্রয়োজনীয় কাগজপত্রপাসপোর্টের তথ্য পাতার কপি (মেয়াদ ন্যূনতম ৩ মাস) ও জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
ভেরিফিকেশন ও ডেলিভারি সময়সাধারণত ৭ থেকে ১৫ কার্যদিবস (থানা ভেরিফিকেশন ও SP/DC কাউন্টার সাইনসহ)
অনলাইন স্ট্যাটাস চেকpcc.police.gov.bd পোর্টালে পাসপোর্ট বা রেফারেন্স নম্বর দিয়ে চেক
⚡ পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট (PCC) — একনজরে মূল আইনি তথ্য
  • পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট এখন সম্পূর্ণ অনলাইনে <strong>pcc.police.gov.bd</strong> পোর্টাল থেকে আবেদন করতে হয়; কোনো থানায় সরাসরি কাগজের ফাইল জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
  • বাংলাদেশ ব্যাংক বা সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় ১-৭৩০১-০০০১-২৬৮১ কোডে অথবা অনলাইনে চালান পোর্টালে (e-Challan) ৫০০ টাকার সরকারি ফি জমা দিতে হয়।
  • পাসপোর্টের মেয়াদ আবেদনের তারিখে ন্যূনতম ৩ মাস থাকতে হবে এবং পাসপোর্টের বর্তমান বা স্থায়ী ঠিকানার পুলিশ স্টেশন থেকেই ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হবে।
  • আবেদনকারীর বিরুদ্ধে যদি কোনো থানায় জিডি বা চার্জশিটবিহীন এফআইআর থাকে, তবে তদন্তকারী অফিসারের সাথে আইনি ব্যাখ্যা প্রদান করে ক্লিয়ারেন্স নেওয়া যায়।
  • আদালতে বিচারাধীন মামলায় জামিনে থাকলে বিজ্ঞ বিচারকের কাছ থেকে নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC) গ্রহণ করে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স অনুমোদন করানো সম্ভব।
📋 সূচিপত্র
  1. ১. পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট (PCC) কী এবং কখন এর প্রয়োজন হয়?
  2. ২. অনলাইনে আবেদনের অফিশিয়াল পোর্টাল ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র চেকলিস্ট
  3. ৩. ৫০০ টাকা সরকারি চালানের কোড ও ফি পরিশোধের নিয়মাবলী (e-Challan)
  4. ৪. পাসপোর্টের ঠিকানার সাথে জাতীয় পরিচয়পত্রের অমিল থাকলে সমাধান
  5. ৫. ধাপে ধাপে অনলাইন আবেদন ও পাসপোর্ট কপি আপলোড করার প্রক্রিয়া
  6. ৬. পুলিশ তদন্ত (Verification): এসবি ও থানা পুলিশের সরেজমিন প্রক্রিয়া
  7. ৭. আবেদনকারীর বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (GD) থাকলে কি PCC আটকে যায়?
  8. ৮. বিচারাধীন ফৌজদারি মামলা বা এফআইআর (FIR) থাকলে ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার আইনি পথ
  9. ৯. আদালত থেকে স্পেশাল পারমিশন ও এনওসি (NOC) গ্রহণের পদ্ধতি
  10. ১০. দূতাবাস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সত্যায়ন (Foreign Ministry Attestation)
  11. ১১. সুপ্রিম কোর্টের যুগান্তকারী রায়: মৌলিক অধিকার হিসেবে বিদেশে গমনের অধিকার
  12. ১২. আবেদনকারীর জন্য সিনিয়র ফৌজদারি আইনজীবীর গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

১. পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট (PCC) কী এবং কখন এর প্রয়োজন হয়?

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট হলো কোনো দেশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চ (SB) কর্তৃক ইস্যুকৃত একটি অফিসিয়াল চারিত্রিক সনদপত্র। এটি প্রমাণ করে যে ব্যক্তিটি কোনো সন্ত্রাসী, পলাতক বা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নন এবং তিনি আন্তর্জাতিকভাবে ভ্রমণের জন্য নিরাপদ নাগরিক।

বাস্তব জীবনে সবচেয়ে বেশি যেসব ক্ষেত্রে এর প্রয়োজন হয়:

  • কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ইউকে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপের যেকোনো দেশে স্টুডেন্ট বা ইমিগ্রেশন ভিসা।
  • মধ্যপ্রাচ্য বা এশিয়ার দেশগুলোতে সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা।
  • বিদেশে সরকারি বৃত্তি, আন্তর্জাতিক কনফারেন্স বা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন।
  • বিদেশী কোনো কোম্পানি বা বহুজাতিক সংস্থায় উচ্চপদে নিয়োগ লাভ।

২. অনলাইনে আবেদনের অফিশিয়াল পোর্টাল ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র চেকলিস্ট

বাংলাদেশ পুলিশের আধুনিক সেবায় এখন সম্পূর্ণ আবেদন প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল। বাংলাদেশ পুলিশের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট pcc.police.gov.bd-তে গিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলে আবেদন করতে হয়।

আবেদনের পূর্বে নিচের ডকুমেন্টসগুলো রঙিন স্ক্যান করে ২০০ থেকে ৩০০ কেবির মধ্যে প্রস্তুত রাখুন:

  1. মূল পাসপোর্টের রঙিন স্ক্যান কপি: মূল পাসপোর্টটির বায়োপেজ (তথ্য পৃষ্ঠা) প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা অথবা নোটারি পাবলিক কর্তৃক সত্যায়িত কপি। পাসপোর্টে ঠিকানা নবায়ন থাকলে সেই পৃষ্ঠার কপিও লাগবে।
  2. ৫০০ টাকার সরকারি ব্যাংক চালানের মূল কপি: চালানটি ব্যাংক কাউন্টারে জমা দিয়ে ব্যাংকের সিলযুক্ত কপি স্ক্যান করতে হবে অথবা অটোমেটেড ই-চালানের (A-Challan) মূল পিডিএফ।
  3. জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা অনলাইন জন্ম সনদ: আবেদনকারীর সচিত্র পরিচয়পত্রের স্পষ্ট স্ক্যান কপি।
  4. ইউপি চেয়ারম্যান বা ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রত্যয়নপত্র: স্থানীয় সরকার প্রতিনিধির দেওয়া সচিত্র নাগরিকত্ব ও চারিত্রিক সনদপত্র (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।

৩. ৫০০ টাকা সরকারি চালানের কোড ও ফি পরিশোধের নিয়মাবলী (e-Challan)

পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের সরকারি ফি হলো মাত্র ৫০০ (পাঁচশত) টাকা। এই ফি প্রদানের দুটি স্বীকৃত মাধ্যম রয়েছে:

💳 চালানের সঠিক অর্থনৈতিক কোড

বাংলাদেশ ব্যাংক বা সোনালী ব্যাংকে চালানের মাধ্যমে জমা দিলে কোডটি লিখতে হবে: ১-৭৩০১-০০০১-২৬৮১। চালানের বিবরণীতে লিখতে হবে: "পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট ফি বাবদ"। এছাড়াও বাংলাদেশ সরকারের অটোমেটেড ই-চালান পোর্টাল (ibacs-challan.gov.bd) থেকে বিকাশ, নগদ বা ভিসা কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি অনলাইনে ৫০০ টাকা পরিশোধ করে মুহূর্তেই ডিজিটাল চালান ডাউনলোড করা যায়।

৪. পাসপোর্টের ঠিকানার সাথে জাতীয় পরিচয়পত্রের অমিল থাকলে সমাধান

অনেক আবেদনকারীর পাসপোর্টে যে বর্তমান বা স্থায়ী ঠিকানা দেওয়া থাকে, এনআইডিতে হয়তো গ্রাম বা ভিন্ন শহরের ঠিকানা উল্লেখ থাকে। পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের ক্ষেত্রে আইনগত নীতি হলো—পাসপোর্টের ঠিকানাই চূড়ান্ত ভিত্তি। আপনার পাসপোর্টে যে পুলিশ থানার আওতাধীন ঠিকানা দেওয়া রয়েছে, আপনাকে সেই থানার নামেই আবেদন ড্রাফট করতে হবে। এনআইডি ভিন্ন হলেও স্থানীয় কাউন্সিলর বা চেয়ারম্যান থেকে একটি ঠিকানার প্রত্যয়নপত্র সংযুক্ত করে দিলে কোনো সমস্যা হয় না।

৫. ধাপে ধাপে অনলাইন আবেদন ও পাসপোর্ট কপি আপলোড করার প্রক্রিয়া

অনলাইন ফর্ম পূরণের ধাপসমূহ:

  • রেজিস্ট্রেশন: pcc.police.gov.bd-তে গিয়ে নিজের সচল মোবাইল নম্বর দিয়ে ওটিপি (OTP) ভেরিফিকেশন করে সাইন-আপ করুন।
  • তথ্য পূরণ: পাসপোর্টের তথ্য হুবহু পাসপোর্টের বানান অনুযায়ী পূরণ করুন। পিতার নাম, মাতার নাম ও জন্মতারিখ সামান্যতম অমিল হলেও ফাইল রিজেক্ট হতে পারে।
  • ডেলিভারি মাধ্যম নির্বাচন: সার্টিফিকেটটি কোন থানা থেকে বা কোন এসপি/ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্স থেকে সংগ্রহ করবেন তা ড্রপডাউন থেকে নির্বাচন করুন।
  • ডকুমেন্টস আপলোড ও সাবমিশন: চালানের নম্বর ও তারিখ লিখে চালান কপি এবং সত্যায়িত পাসপোর্টের স্ক্যান কপি আপলোড করে সাবমিট করুন। সাবমিটের সাথে সাথে একটি ট্র্যাকিং নম্বর (Reference ID) তৈরি হবে।

৬. পুলিশ তদন্ত (Verification): এসবি ও থানা পুলিশের সরেজমিন প্রক্রিয়া

অনলাইনে সাবমিটের পর আবেদনটি প্রথমে স্পেশাল ব্রাঞ্চ (SB) বা মহানগর এলাকায় ডিবি/সিটি এসবিতে যায়। সেখান থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় তদন্তের জন্য পাঠানো হয়। থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব-ইন্সপেক্টর (SI) বা এএসআই আবেদনকারীর দেওয়া মোবাইল নম্বরে ফোন করে থানায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে দেখা করতে বলেন অথবা সরেজমিনে বাড়িতে এসে প্রতিবেশীদের কাছে আবেদনকারীর চরিত্র ও পূর্ববর্তী কোনো অপরাধের রেকর্ড আছে কিনা তা যাচাই করেন।

৭. আবেদনকারীর বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (GD) থাকলে কি PCC আটকে যায়?

অনেকে ভয় পান যে অতীতে জমি বা পারিবারিক কোনো ঘটনায় কারো সাথে থানায় সাধারণ ডায়েরি (GD) হয়েছিল, তাহলে কি ক্লিয়ারেন্স বাতিল হবে?

আইনগত সত্য: শুধু কোনো সাধারণ ডায়েরি (GD) থাকার কারণে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স বাতিল হতে পারে না। জিডি কোনো ফৌজদারি অভিযোগপত্র বা অপরাধের প্রমাণ নয়; এটি কেবল একটি তথ্য সংরক্ষণ। তদন্তকারী কর্মকর্তা জিডির বিষয়বস্তু পরীক্ষা করে যদি দেখেন যে এটি কোনো সক্রিয় অপরাধের মামলা নয়, তবে তিনি ক্লিয়ারেন্স অনুমোদনের পক্ষে পজিটিভ রিপোর্ট প্রদান করেন।

⚖️ আইনি কেস মূল্যায়ন ও চেম্বার অ্যাপয়েন্টমেন্ট

আপনার জমি বিরোধ, বাটোয়ারা মামলা, জামিন, তালাক বা সাইবার জটিলতায় বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে সুপ্রিম কোর্ট বা উত্তরা চেম্বারে নথিপত্রসহ সরাসরি বসুন।

জরুরি হোয়াটসঅ্যাপ সরাসরি কল: ০১৭১২-৬৫৫৫৪৬

৮. বিচারাধীন ফৌজদারি মামলা বা এফআইআর (FIR) থাকলে ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার আইনি পথ

যদি আবেদনকারীর বিরুদ্ধে কোনো থানায় এফআইআর থাকে বা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে কোনো সিআর মামলা চলমান থাকে, তবে পুলিশ সাধারণত সরাসরি ক্লিয়ারেন্সে নেগেটিভ মন্তব্য বা "Case Pending" লিখে দেয়।

কিন্তু আবেদনকারী যদি নিয়মিত জামিনে থাকেন (On Bail), তবে তার সামনে বিকল্প আইনি পথ খোলা থাকে:

মামলার বর্তমান অবস্থা পুলিশের সাধারণ ভূমিকা উত্তরণের সঠিক আইনি কৌশল
তদন্তাধীন এফআইআর (চার্জশিট হয়নি) ফাইল আটকে রাখে বা রিপোর্ট হোল্ড করে আইনজীবীর মাধ্যমে হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন ও তদন্তে অসহযোগিতা না করার অঙ্গীকার দাখিল
চার্জশিটভুক্ত মামলা বিচারাধীন নেগেটিভ রিপোর্ট পাঠায় সংশ্লিষ্ট ট্রায়াল জজ আদালতে আবেদন করে বিদেশে গমনাগমনে আপত্তিহীনতার আদেশ (Court NOC) সংগ্রহ
মামলা থেকে খালাস বা নিষ্পত্তি থানার রেকর্ডে নাম থেকে যেতে পারে বিজ্ঞ আদালতের চূড়ান্ত খালাসের রায় ও ডিক্রির সার্টিফাইড কপি থানায় জমা দিয়ে রেকর্ড সংশোধন

৯. আদালত থেকে স্পেশাল পারমিশন ও এনওসি (NOC) গ্রহণের পদ্ধতি

যদি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বা জমিজমার মামলা আদালতে ট্রায়াল পর্যায়ে থাকে, তবে তিনি সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞ দায়রা জজ বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় দরখাস্ত করতে পারেন। বিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে যে আবেদনকারীর বিদেশে যাওয়া চাকরির জন্য বা উচ্চশিক্ষার জন্য অপরিহার্য এবং তিনি আদালতকে জামিননামা মুচলেকা প্রদান করতে প্রস্তুত আছেন। বিজ্ঞ আদালত সন্তুষ্ট হলে পুলিশকে একটি "আদালতের অনাপত্তিপত্র" (Court NOC) প্রদান করেন যার ভিত্তিতে পুলিশ সার্টিফিকেট প্রদান করে।

১০. দূতাবাস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সত্যায়ন (Foreign Ministry Attestation)

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট হাতে পাওয়ার পর তা সরাসরি অনেক দূতাবাস গ্রহণ করে না। বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার শাখা (সেগুনবাগিচা, ঢাকা) থেকে সার্টিফিকেটটির পেছনে সরকারি লাল সিল ও কিউআর কোডযুক্ত মিনিস্ট্রি অফ ফরেন অ্যাফেয়ার্স (MOFA) সত্যায়ন করিয়ে নিতে হয়। এই সত্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং একই দিনে সম্পন্ন করা যায়।

১১. সুপ্রিম কোর্টের যুগান্তকারী রায়: মৌলিক অধিকার হিসেবে বিদেশে গমনের অধিকার

সুপ্রিম কোর্টের প্রতিষ্ঠিত নজিরসমূহ:

১. গোলাম আজম বনাম বাংলাদেশ (46 DLR): সুপ্রিম কোর্ট রায় দেন যে, সংবিধানের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের চলাফেরা ও বিদেশে ভ্রমণের অধিকার একটি সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার; উপযুক্ত আদালতের সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা ছাড়া পুলিশ বা প্রশাসন কাউকে নির্বিচারে এই অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারে না।

২. নাসিরুদ্দিন আহমেদ বনাম স্বরাষ্ট্র সচিব (54 DLR): আদালত নির্দেশ দেন যে, নিছক রাজনৈতিক মামলার অজুহাতে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স আটকে রাখা বেআইনি; কোনো সাজা না হওয়া পর্যন্ত নাগরিক নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

১২. আবেদনকারীর জন্য সিনিয়র ফৌজদারি আইনজীবীর গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের আবেদনের সময় কখনোই কোনো দালালের প্রলোভনে পড়বেন না বা ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করবেন না। মিথ্যা তথ্য দিলে পাসপোর্ট বাতিলসহ পাসপোর্টের কালোতালিকাভুক্ত (Blacklisted) হতে পারেন। নিজের পাসপোর্ট ও চালানের তথ্য সঠিকভাবে দিন এবং কোনো মামলার জটিলতা থাকলে লুকিয়ে না রেখে একজন বিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতের নির্দেশনামা নিয়ে অগ্রসর হন। সঠিক আইনি পথে চললে কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই আপনার কাঙ্ক্ষিত পুলিশ ক্লিয়ারেন্স হাতে আসবে।

১৩. পুলিশ ক্লিয়ারেন্স আবেদন বাতিল হলে রি-অ্যাপ্লাই ও এসপি অফিসে আপিল করার নিয়ম

অনেক আবেদনকারীর পুলিশ ক্লিয়ারেন্স আবেদন ছোটখাটো ভুলে বা পুলিশ তদন্তে অনুপস্থিতির কারণে বাতিল (Rejected) হয়ে যেতে পারে। যেমন: পাসপোর্টের ফটোকপিতে নোটারির সিল অস্পষ্ট হওয়া, ব্যাংক চালানের ভুল কোড বা মোবাইল নম্বর বন্ধ থাকা। এমনটি ঘটলে পুনরায় নতুন করে পুরো আবেদন বাতিল হওয়ার কারণ খুঁজে বের করতে হবে। বাতিল হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ সুপার (SP) কার্যালয় বা মহানগর এলাকায় উপ-পুলিশ কমিশনার (DC) হেডকোয়ার্টার্সের ক্লিয়ারেন্স ডেস্কে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করে লিখিত পুনর্বিবেচনার দরখাস্ত দেওয়া যায়। যদি কোনো তদন্তকারী অফিসার উদ্দেশ্যমূলকভাবে বা অসদুপায়ে নেগেটিভ রিপোর্ট দেন, তবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) বরাবর অভিযোগ দাখিল করা যায়। এছাড়া নতুন করে সংশোধিত এফিডেভিট ও নির্ভুল ব্যাংক চালানের রসিদ সংযুক্ত করে অনলাইনে পুনঃআবেদন (Re-apply) করা যায়। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের রিট পিটিশন ফাইল করে পাসপোর্ট ও চলাচলের সাংবিধানিক অধিকার দ্রুততম সময়ে নিশ্চিত করা সম্ভব।

১৪. প্রবাসী ভাই-বোনদের জন্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স উত্তোলনের বিশেষ নির্দেশনা

বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা যারা দেশে ছুটি কাটাতে আসতে পারেন না অথচ তৃতীয় কোনো দেশে ইমিগ্রেশনের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজন, তাদের ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার ফ্রেমওয়ার্ক অনুযায়ী বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে একটি বিশেষ পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা প্রতিনিধিত্বের প্রত্যয়নপত্র সম্পাদন করতে হয়। এই প্রত্যয়নপত্রে দেশে অবস্থানরত কোনো বিশ্বস্ত আত্মীয়কে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। প্রতিনিধি সংশ্লিষ্ট এসপি বা ডিসি অফিসে গিয়ে পাসপোর্ট সত্যায়িত কপি প্রদর্শনপূর্বক পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের মূল কপি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিলমোহরযুক্ত কপি সংগ্রহ করে আন্তর্জাতিক কুরিয়ারে প্রবাসীর কাছে পাঠিয়ে দিতে পারেন। এতে প্রবাসীকে কর্মক্ষেত্র ছেড়ে দেশে ফিরে আসতে হয় না এবং সময় ও অর্থের বিশাল সাশ্রয় ঘটে।

সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট পেতে কতদিন সময় লাগে?

অনলাইনে সঠিক কাগজপত্র আপলোড করার পর সাধারণ অবস্থায় ৭ থেকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট প্রস্তুত হয়ে যায়।

পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের সরকারি ফি কত টাকা?

সরকারি সোনালী ব্যাংক চালানের মাধ্যমে বা ই-চালানে নির্ধারিত সরকারি ফি হলো মাত্র ৫০০ (পাঁচশত) টাকা।

মামলা থাকলে কি পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পাওয়া যায়?

হ্যাঁ, মামলায় জামিনে থাকলে বিজ্ঞ আদালতের নিকট থেকে বিদেশে গমনের অনাপত্তিপত্র (Court NOC) সংগ্রহ করে পুলিশের কাছে উপস্থাপন করলে ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট পাওয়া যায়।

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটের মেয়াদ কতদিন থাকে?

ইস্যু হওয়ার তারিখ থেকে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের সাধারণ মেয়াদ থাকে ৬ (ছয়) মাস।

প্রবাসী বাংলাদেশিরা কীভাবে দেশের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পাবেন?

প্রবাসীরা সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস/হাইকমিশন থেকে পাসপোর্ট কপি সত্যায়ন করে দেশে তাদের মনোনীত প্রতিনিধির মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে পারেন।

দায়বর্জন (Disclaimer): এই আর্টিকেলে পরিবেশিত তথ্যসমূহ কেবল আইনি সচেতনতা ও সাধারণ শিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনো প্রত্যক্ষ আইনি পরামর্শ (Legal Advice) নয় এবং এর মাধ্যমে কোনো আইনজীবী-মক্কেল সম্পর্ক (Attorney-Client Relationship) তৈরি হয় না। আপনার সুনির্দিষ্ট মামলার আইনি প্রতিকারের জন্য সরাসরি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বা জজ কোর্টের তালিকাভুক্ত বিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করুন।
আইনি সহায়তা বা জরুরি পরামর্শের প্রয়োজন?
যোগাযোগ করুন এডভোকেট মোঃ শাহ আলম: +880 1712-655546  |  WhatsApp
উত্তরা চেম্বার: বাড়ি ৪৬, রোড ৬/বি, সেক্টর ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০
কোর্ট চেম্বার: আইনজীবী সমিতি ভবন, ৪র্থ তলা, ৬/৭ কোর্ট হাউস স্ট্রিট, কোতোয়ালি, ঢাকা-১১০০