পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার নিয়ম ও আইনগত প্রতিকার – হয়রানি বন্ধের গাইড

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-07-22

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে পুলিশের মূল দায়িত্ব জনগণের জীবন ও সম্পদের সুরক্ষা দেওয়া। কিন্তু বাস্তবে অনেক সময় অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার, ঘুস দাবি, ভুয়া মামলায় ফাঁসানো বা সাধারণ মানুষকে পুলিশি হয়রানির শিকার হতে হয়। দেশের সাধারণ নাগরিক হিসেবে পুলিশ অফিসার বা সদস্যের অন্যায়ের বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার পাওয়ার পূর্ণ অধিকার সংবিধান আপনাকে দিয়েছে। ২০২৬ সালের হালনাগাদ নিয়ম অনুযায়ী পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর সঠিক উপযোগ ও প্রশাসনিক ও বিচারিক উপায়সমূহ নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো। যেকোনো জটিল আইনি সমস্যায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>-এর আইনি পরামর্শ নিতে পারেন।

পুলিশি হয়রানি বা অন্যায়ের ধরনসমূহ

বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কোনো পুলিশ সদস্য যদি তার অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করেন, তবে তিনি আইনত দণ্ডনীয়। সচরাচর যেসব পুলিশি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিকার চাওয়া যায়:

  • বিনা পরোয়ানায় বেআইনি আটক ও ঘুস দাবি: অন্যায়ভাবে ধরে এনে টাকা দাবি করা বা মামলায় ফাসানোর হুমকি দেওয়া।
  • জিডি বা এফআইআর গ্রহণ না করা: কোনো অপরাধের শিকার ব্যক্তি থানায় মামলা দিতে গেলে রাজনৈতিক বা অসাধু উদ্দেশ্যে মামলা না নেওয়া।
  • শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন: হেফাজতে নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩ অনুযায়ী পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন করা মারাত্মক অপরাধ।
  • সাজানো জব্ধতালিকা (False Seizure List) তৈরি: নির্দোষ ব্যক্তির কাছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মাদক বা অস্ত্র বসিয়ে গ্রেপ্তার দেখানো।

উপায় ১: ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার (SP / Police Commissioner) নিকট লিখিত অভিযোগ

যদি কোনো থানার ওসি (OC) বা সাব-ইনস্পেক্টর (SI) অন্যায় করেন, তবে তার বিরুদ্ধে প্রথম ধাপ হলো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দায়ের করা:

  • জেলা পর্যায়ে: সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপার (SP) এর দপ্তরে লিখিত আবেদন জমা দিন।
  • মেট্রোপলিটন এলাকায়: সংশ্লিষ্ট পুলিশ কমিশনার (Police Commissioner) বা উপ-পুলিশ কমিশনার (DC) এর কাছে নালিশ পাঠান।

আবেদনপত্রের একটি কপি নিজে 'রিসিভড কপি' (Received Stamp সহ) সংরক্ষণ করুন। পুলিশ সুপার অভিযোগটি তদন্তের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বা ডিআইজি অফিসে পাঠান। অপরাধ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা (Departmental Action) যেমন বরখাস্ত বা পদাবনতি হয়।

উপায় ২: পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ইন্টারনাল OVERSIHGHT (PIO) ও হটলাইন

পুলিশ সদস্যদের পেশাগত অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে Police Internal Oversight (PIO) সেল কাজ করে।

  • হটলাইন নম্বর: 01320001299 এবং 01320001300 (২৪ ঘণ্টা সচল)।
  • ইমেইল: complain@police.gov.bd এ সরাসরি প্রমাণসহ ইমেইল পাঠাতে পারেন।
  • জাতীয় জরুরি সেবা: ৯৯৯ (999) এ কল করে তাৎক্ষণিক সহায়তা চাওয়া যায়।

উপায় ৩: বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সরাসরি 'সিআর মামলা' (CR Case) দায়ের

পুলিশ যদি থানায় মামলা না নেয় বা পুলিশ সদস্য নিজেই অপরাধের সাথে যুক্ত থাকেন, তবে আদালতের স্মরণাপন্ন হওয়াই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

ফৌজদারি কার্যবিধি ১৯০ এবং ২০০ ধারা অনুযায়ী: ভুক্তভোগী ব্যক্তি সরাসরি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যের বিরুদ্ধে ফৌজদারি নালিশি মামলা (CR Case) দায়ের করতে পারেন।

আদালত নালিশ শুনে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সমন (Summon) বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে পারেন অথবা বিচারিক বিভাগীয় তদন্তের আদেশ দিতে পারেন।

উপায় ৪: হাইকোর্টে রিট পিটিশন (Writ Petition) ও বিভাগীয় বিচার ব্যবস্থা

পুলিশ যদি বেআইনিভাবে কাউকে আটকে রাখে বা সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকার (Article 31 & 32) লঙ্ঘন করে, তবে পরিবারের সদস্যরা সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হেবিয়াস কর্পাস (Habeas Corpus) রিট পিটিশন দায়ের করতে পারেন।

হাইকোর্ট বিভাগ সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাকে সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে আসামিকে আদালতে উপস্থাপন করার এবং বেআইনি আটকের কারণ ব্যাখ্যা করার কঠোর নির্দেশ প্রদান করেন।

⚖️ বিশেষজ্ঞ আইনি পরামর্শের জন্য যোগাযোগ: আপনার আইনি বিষযটি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম-এর সাথে সরাসরি কথা বলুন বা আমাদের বিশেষজ্ঞ আইনি সেবা গ্রহণ করুন। যেকোনো প্রয়োজনে সরাসরি যোগাযোগ পেজে ক্লিক করুন।