পুলিশি রিমান্ডের নিয়ম ও আসামির ১০+ আইনি অধিকার – নির্যাতন প্রতিরোধ ও রিমান্ড বাতিলের নিয়ম

লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-08-10

⚠️ দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ আইনি তথ্যের জন্য। এটি আইনি পরামর্শ নয়। সরাসরি পরামর্শের জন্য +880 1712-655546-এ যোগাযোগ করুন।

পুলিশি রিমান্ড (Remand) মানেই নির্যাতন নয়। দেশের সংবিধান এবং সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে রিমান্ডে আসামির সুনির্দিষ্ট আইনি অধিকার সুরক্ষিত রয়েছে। রিমান্ডে আসামির ১০+ আইনি অধিকার ও রিমান্ড বাতিলের কৌশল জানুন। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>-এর আইনি পরামর্শ নিন।

ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৭ ধারা (Section 167 CrPC) অনুযায়ী পুলিশি রিমান্ড কি?

তদন্তের স্বার্থে আসামীকে পুলিশি হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের অনুমতি নেওয়াকে রিমান্ড বলা হয়।

ব্লাস্ট (BLAST) বনাম বাংলাদেশ সরকার মামলায় হাইকোর্টের ও সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক নির্দেশনা

সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে রিমান্ডে কাঁচের দেয়াল বিশিষ্ট কক্ষে আইনজীবী ও আত্মীয়দের উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে।

১০+ টি আইনি অধিকারে আসামির রিমান্ড নামঞ্জুর ও আইনজীবী বা ডাক্তারের উপস্থিতি

  1. শারীরিক পরীক্ষা করানো আদালতের নির্দেশ।
  2. আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শের সুযোগ পাওয়া।
  3. স্বজনদের সাথে দেখা করার অধিকার।
  4. শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন না করা।
  5. রিমান্ডে নেওয়ার আগে ও পরে ডাক্তার রিপোর্ট যুক্ত করা।
  6. বৃদ্ধ বা অসুস্থ আসামির রিমান্ড নাকচ করা।
  7. গর্ভবতী নারীদের পুলিশ হেফাজতে না রাখা।
  8. অভিযুক্তের আইনজীবীকে রিমান্ড আবেদনের কপি সরবরাহ করা।
  9. রিমান্ড নামঞ্জুর করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ দেওয়া।
  10. ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি প্রদানে বাধ্য না করা।

রিমান্ডের আগে ও পরে আসামির শারীরিক পরীক্ষা (Medical Examination) বাধ্যবাধকতা

পুলিশ হেফাজতে আসামির গায়ে কোনো আঘাতের চিহ্ন থাকলে সাথে সাথে সরকারি হাসপাতালে ডাক্তারের চেকআপ বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

কাস্টডিতে নির্যাতন করলে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন ২০১৩ এর মামলা

হাজতে আসামির ওপর শারীরিক নির্যাতন করলে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের কাস্টডিয়াল ডেথ অ্যাক্টে কড়া মামলা দায়ের করা যায়।

ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রিমান্ড বাতিলের যুক্তিতর্ক ও জামিন আবেদন

আইনজীবী কোর্টে প্রমাণ করতে পারেন যে এজাহারে আসামির নাম থাকা সত্ত্বেও রিমান্ডে নেওয়ার আইনগত কোনো যৌক্তিকতা নেই।

জবানবন্দি গ্রহণ (১৬৪ ধারা) করার সময় ম্যাজিস্ট্রেটের সতর্কবার্তা ও অধিকার

ম্যাজিস্ট্রেট আসামীকে ৩ ঘণ্টা ভাবার সময় দেবেন এবং নিশ্চিত করবেন যে কোনো পুলিশি চাপে জবানবন্দি দেওয়া হচ্ছে না।

বিচার বিভাগীয় হেফাজত (জেলহাজত) ও রিমান্ডের সময়সীমা গণনা

রিমান্ড না মঞ্জুর হলে আদালত আসামিকে বিচার বিভাগীয় কাস্টডি বা জেলহাজতে পাঠায়।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

প্রশ্ন: একের পর এক রিমান্ড কি আইনসম্মত?

উত্তর: সুনির্দিষ্ট ভিত্তি ছাড়া বারবার রিমান্ডের আবেদন উচ্চ আদালত নাকচ করে দেন।

ফৌজদারি মামলা পরিচালনা ও আইনজীবী মো. শাহ আলমের ভূমিকা

ফৌজদারি রিমান্ড ও জামিন শুনানিতে বিজ্ঞ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীর সেবা নিন। যোগাযোগ পেজে ক্লিক করুন।