লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-21 · ১৮ মিনিট
নতুন ই-পাসপোর্ট ইস্যু, বিসিএস বা যেকোনো সরকারি চাকরিতে নিয়োগ, কিংবা অস্ত্রের লাইসেন্স প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সবচেয়ে স্পর্শকাতর ধাপ হলো পুলিশ ভেরিফিকেশন (Police Verification Report)। বিশেষ শাখা (SB) বা জেলা গোয়েন্দা শাখা (DSB) কর্তৃক পরিচালিত এই তদন্তে যদি প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো অতীত বা চলমান মামলা, জিডি (GD) বা রাজনৈতিক অভিযোগ উঠে আসে, তবে ভেরিফিকেশন রিপোর্ট 'নেগেটিভ' হয়ে পুরো ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। মামলা বা জিডি থাকলে কীভাবে তা আইনি উপায়ে মোকাবেলা করবেন, আদালতের ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট নেবেন এবং রিপোর্ট আটকে থাকলে হাইকোর্টে রিট করার উপায় কী—তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ ফৌজদারি আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--gold);font-weight:bold;text-decoration:underline;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>-এর পূর্ণাঙ্গ আইনি বিশ্লেষণ নিচে আলোচনা করা হলো। জরুরি আইনি সহায়তায় কল করুন: <a href="tel:01712655546" style="color:var(--gold);font-weight:bold;">০১৭১২-৬৫৫৫৪৬</a>।
পুলিশ ভেরিফিকেশন হলো রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও নাগরিক পরিচয় নিশ্চিত করার একটি প্রথাগত প্রশাসনিক তদন্ত। এর মূল লক্ষ্য হলো প্রার্থীর নাগরিকত্ব যাচাই করা, স্থায়ী ঠিকানার সত্যতা নিশ্চিত করা এবং তিনি কোনো রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড বা গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত কিনা তা খুঁজে বের করা।
ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (SB / Special Branch) এবং জেলা পর্যায়ে জেলা বিশেষ শাখা (DSB) ও সংশ্লিষ্ট মডেল থানা এই তদন্ত পরিচালনা করে থাকে।
তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা (Sub-Inspector / ASI) প্রার্থীর স্থায়ী বা বর্তমান ঠিকানায় গিয়ে অথবা থানায় ডেকে নিচের তথ্যগুলো যাচাই করেন:
অনেক সময় জমিজমা সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধে বা রাজনৈতিক কারণে নির্দোষ ব্যক্তিদের নামে মিথ্যা সিআর (CR) বা জিআর (GR) মামলা দায়ের থাকে। এক্ষেত্রে নিয়ম হলো:
অনেকেই ভাবেন কারও সাথে কোনো বিষয়ে থানায় জিডি থাকলে বুঝি সরকারি চাকরি বা পাসপোর্ট বাতিল হয়ে যাবে। এটি একটি অমূলক ভয়।
জিডি কেবল একটি সাধারণ তথ্যের রেকর্ড। কোনো জিডিতে যদি কোনো ফৌজদারি অপরাধের বিবরণ না থাকে এবং বিজ্ঞ আদালত যদি জিডির ভিত্তিতে কোনো তদন্তের নির্দেশ না দিয়ে থাকেন, তবে সাধারণ জিডির কারণে পুলিশ ভেরিফিকেশনে কোনো বিরূপ মন্তব্য (Adverse Remarks) লেখার আইনি এখতিয়ার পুলিশের নেই।
যদি আপনার বিরুদ্ধে অতীতে কোনো মামলা ছিল এবং আপনি বিচার শেষে আদালত কর্তৃক খালাস (Acquittal), অব্যাহতি (Discharge) পেয়েছেন অথবা উচ্চ আদালত কর্তৃক মামলাটি কোয়াশমেন্ট (Quashed under 561A CrPC) হয়েছে, তবে:
সেই খালাস আদেশের পূর্ণাঙ্গ রায়ের সার্টিফাইড কপি এবং মামলার সমাপ্তির প্রত্যয়নপত্র আদালতের রেকর্ডরুম থেকে তুলে ভেরিফিকেশন ফাইলের সাথে সংযুক্ত করে দিন। তখন পুলিশের রেকর্ডে আপনাকে সম্পূর্ণ 'বেকসুর খালাসপ্রাপ্ত ও দায়মুক্ত' হিসেবে রিপোর্ট পাঠানো হবে।
সরকারি চাকরির ফর্ম বা পাসপোর্ট আবেদনে মামলার তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করলে এবং পরবর্তীতে সিআইডির কেন্দ্রীয় ক্রিমিনাল ডাটাবেজ (CDMS) থেকে তা ধরা পড়লে:
যদি দেখা যায় কোনো বৈধ কারণ ছাড়াই তদন্তকারী কর্মকর্তা দীর্ঘ মাস ধরে ভেরিফিকেশন রিপোর্ট ঝুলিয়ে রেখেছেন অথবা অনৈতিক আর্থিক সুবিধা দাবি করছেন, তবে:
মিথ্যা মামলা ঘাড়ে নিয়ে আতঙ্কে না ভুগে তা আইনিভাবে নিষ্পত্তি করা এবং আদালতে মামলা কোয়াশ বা দ্রুত জামিন নিশ্চিত করাই পুলিশ ভেরিফিকেশন ক্লিয়ারের একমাত্র টেকসই পথ। আমাদের ল’ চেম্বার নিয়মিতভাবে মিথ্যা মামলার প্রতিরক্ষা, কোর্ট ক্লিয়ারেন্স সনদ প্রাপ্তি এবং হাইকোর্টে রিট পিটিশন পরিচালনা করে থাকে। যেকোনো আইনি জটিলতায় যোগাযোগ করুন।
নতুন পাসপোর্টের ক্ষেত্রে সাধারণত স্থায়ী ঠিকানায় পুলিশ ভেরিফিকেশন হয়। তবে পাসপোর্টের মেয়াদোত্তীর্ণ রি-ইস্যু বা নবায়নের ক্ষেত্রে যদি কোনো তথ্য পরিবর্তন না থাকে, তবে বর্তমান নিয়মে কোনো পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রয়োজন হয় না।
বিদেশে গমনের জন্য pcc.police.gov.bd পোর্টাল থেকে ৫০০ টাকা সরকারি ফি ট্রেজারি চালানে জমা দিয়ে আবেদন করা যায়। তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত করে ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে ডিজিটাল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদ প্রদান করেন।
হ্যাঁ, সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী বিচারাধীন মামলা থাকলেও নাগরিকের পাসপোর্ট পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। তবে আদালতের বিশেষ কোনো ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বা পাসপোর্ট জব্দের আদেশ না থাকলে নবায়ন সম্ভব।
পাসপোর্ট বা চাকরির আবেদন ফরোয়ার্ড হওয়ার পর এসবি বা থানা পুলিশের সর্বোচ্চ ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে ভেরিফিকেশন রিপোর্ট পাসপোর্ট অফিসে বা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করার সরকারি নির্দেশনা রয়েছে।