লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-09-13 · ১৩ মিনিট পড়ুন
জমি বিক্রয়, ভবন নির্মাণ বা দেখাশোনার জন্য দেওয়া অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (Irrevocable Power of Attorney) যখন ভূমিদস্যু বা স্বার্থান্বেষী মধ্যস্বত্বভোগীদের দখলে চলে যায়, তখন মূল মালিক নিঃস্ব হওয়ার মুখে পড়েন। ২০১২ সালের আইন অনুযায়ী এমন জালিয়াতি কীভাবে তাৎক্ষণিক রুখবেন এবং দলিল বাতিল করবেন, তা নিয়ে আইনি দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রবীণ আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>।
| বিষয় / শর্ত | সরকারি নিয়ম, ফি ও আইন (২০২৬) |
|---|---|
| প্রযোজ্য আইন ও আদালত | বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০, ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ (CrPC) ও সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্ট বিভাগ |
| আগাম ও নিয়মিত জামিন | হাইকোর্ট বিভাগে আগাম জামিন (ধারা ৪৯৮ CrPC) ও ম্যাজিস্ট্রেট/দায়রা আদালতে নিয়মিত জামিন |
| সরকারি পোর্টাল ও যাচাই | supremecourt.gov.bd, judiciary.gov.bd, pcc.police.gov.bd ও land.gov.bd |
| জরুরি আইনি পরামর্শ চেম্বার | অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম (বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট) — ০১৭১২-৬৫৫৫৪৬ |
পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন ২০১২ অনুসারে, আর্থিক স্বার্থ জড়িত থাকলে বা বায়না চুক্তি থাকলে তা 'অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি' হিসেবে গণ্য হয়। তবে আইনের ১৪ ধারা অনুসারে—যদি ক্ষমতাগ্রাহক (Attorney) চুক্তি বা দলিলের শর্ত ভঙ্গ করেন, মালিকের ক্ষতিসাধন করেন কিংবা হিসাব প্রদান করতে ব্যর্থ হন, তবে মালিক কর্তৃক নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় নোটিশ দিয়ে তা রদ বা বাতিলের আইনি অধিকার সম্পূর্ণ বহাল থাকে।
আদালতের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, অনেক রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার বা মধ্যস্থতাকারী ফ্ল্যাট নির্মাণের নামে অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার নিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়, বছরের পর বছর সাইট ফেলে রাখে, অথবা গোপনে মালিকের অজান্তেই তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছে ফ্ল্যাট/জমি বায়না করে টাকা হাতিয়ে নেয়। মূল মালিক যখন জমি ফেরত চান, তখন তারা পাওয়ার অব অ্যাটর্নির দোহাই দিয়ে জমি ছাড়তে অস্বীকার করে।
ভুক্তভোগী জমির মালিকরা প্রথমেই দৌড়ে যান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এবং সাব-রেজিস্ট্রারকে বলেন দলিলটি কেটে দিতে। মনে রাখবেন, রেজিস্ট্রি করা কোনো রেজিস্টার্ড দলিল নিজে নিজে বাতিল করার বা কেটে দেওয়ার কোনো আইনি ক্ষমতা সাব-রেজিস্ট্রারের নেই। দলিল বাতিলের একমাত্র বিচারিক ক্ষমতা রয়েছে দেওয়ানি আদালতের।
প্রতারক প্রতিনিধির কবল থেকে জমি রক্ষা করার মূল আইনি হাতিয়ার হলো সহকারী জজ বা যুগ্ম জেলা জজ আদালতে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ১৮৭৭ (Specific Relief Act)-এর ৩৯ ধারা অনুযায়ী ‘দলিল বাতিল ও প্রত্যাহার’ (Cancellation of Instrument)-এর মোকদ্দমা দায়ের করা। আইনজীবী প্রমাণ করবেন যে ক্ষমতাগ্রাহক বিশ্বাসভঙ্গ করেছেন এবং শর্ত মানেননি, ফলে আদালত পাওয়ার দলিলটি সম্পূর্ণ বাতিল ও অকার্যকর ঘোষণা করবেন।
আপনার জমি বিরোধ, বাটোয়ারা মামলা, জামিন, তালাক বা সাইবার জটিলতায় বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে সুপ্রিম কোর্ট বা উত্তরা চেম্বারে নথিপত্রসহ সরাসরি বসুন।
মামলা ফাইল করার দিনই দেওয়ানি কার্যবিধির অর্ডার ৩৯ রুল ১ ও ২ অনুযায়ী বিজ্ঞ আদালতের নিকট জরুরি ‘অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা’ (Injunction) প্রার্থনা করতে হবে। আদালত ইনজাংশন জারি করে দিলে ওই পাওয়ারের বলে প্রতিনিধি আর কোনো জমি বিক্রয়, ফ্ল্যাট হস্তান্তর বা নির্মাণকাজ চালাতে পারবে না।
দেওয়ানি মামলার পাশাপাশি নতুন ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৩’-এর আওতায় জালিয়াতি, প্রতারণামূলক বায়নানামা ও বেআইনি দখলের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধির বিরুদ্ধে সরাসরি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে ফৌজদারি মামলা দায়ের করে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড নিশ্চিত করা যায়।
যেকোনো পাওয়ার দলিলের ড্রাফট চূড়ান্ত করার সময়: