বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে সরেজমিনে শান্তিভঙ্গের আশঙ্কার ওপর তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন
আদালত বিবাদীকে হাজির হয়ে ১ বছর পর্যন্ত মেয়াদের শান্তি রক্ষার আর্থিক মুচলেকা (Security for Keeping the Peace) দিতে বাধ্য করেন
মুচলেকা দিতে ব্যর্থ হলে বিবাদীকে সরাসরি কারাগারে প্রেরণের আইনি বিধান রয়েছে
১. ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭ ধারা কী এবং এটি কেন প্রতিরোধমূলক আইন?
ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC, 1898)-এর ১০৭ ধারা কোনো শাস্তিমূলক ধারা নয়, বরং এটি অপরাধ সংঘটিত হওয়া ঠেকানোর প্রতিরোধমূলক ক্ষমতা (Preventive Jurisdiction):
১০৭ ধারার মূল উদ্দেশ্য হলো—কোনো ব্যক্তি যাতে এলাকায় শান্তিভঙ্গ করতে না পারে বা বড় ধরনের রক্তপাত ও দাঙ্গা না ঘটাতে পারে, সেজন্য তাকে আদালতের কাছে ভালো আচরণের আর্থিক মুচলেকা দিতে বাধ্য করা। যদি কেউ মুচলেকা দিয়ে শান্তি ভঙ্গ করে, তবে তার জামানতের অর্থ সরকার বাজেয়াপ্ত করে এবং তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
২. কোন কোন পরিস্থিতিতে ১০৭ ধারার মামলা করা যায়?
দৈনন্দিন জীবনে যেসব ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে দ্রুত ১০৭ ধারা কার্যকর প্রতিকার দেয়:
প্রাণনাশের প্রত্যক্ষ হুমকি: জমি বা টাকা সংক্রান্ত বিরোধে প্রকাশ্যে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হলে।
জমি বা দোকান জবরদখলের পাঁয়তারা: লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে বিরোধপূর্ণ জমিতে হামলা বা দখলের সুস্পষ্ট হুমকি।
মারপিট ও এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি: জামিনে বের হয়ে বাদী বা সাক্ষীকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি প্রদান।
পারিবারিক সহিংসতা ও উচ্ছেদ হুমকি: সম্পত্তিবঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে বৃদ্ধ বাবা-মা বা নারীকে গৃহহীন করার হুমকি।
৩. নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১০৭ ধারার পিটিশন দাখিলের ধাপ
১০৭ ধারায় মামলা দায়ের করতে নিচের আইনি পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে হয়:
এখতিয়ারভুক্ত আদালত: সংশ্লিষ্ট জেলার বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ADM Court) অথবা মেট্রোপলিটন এলাকায় ডিসি (প্রসিকিউশন) আদালতে মামলা দায়ের।
নালিশি দরখাস্ত ও জিডি দাখিল: সুনির্দিষ্ট তারিখ, সময়, ঘটনার স্থান ও সাক্ষীদের নাম উল্লেখ করে আরজি প্রস্তুত। পূর্বের জিডির কপি সংযুক্ত করা।
কারণ দর্শানোর নোটিশ (Show Cause Notice): আদালত প্রাথমিক সন্তুষ্টির পর বিবাদীর নামে নোটিশ জারি করবেন যে কেন তাকে শান্তি রক্ষার মুচলেকা দিতে নির্দেশ দেওয়া হবে না (১১২ ধারা)।
⚖️ আইনি কেস মূল্যায়ন ও চেম্বার অ্যাপয়েন্টমেন্ট
আপনার জমি বিরোধ, বাটোয়ারা মামলা, জামিন, তালাক বা সাইবার জটিলতায় বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে সুপ্রিম কোর্ট বা উত্তরা চেম্বারে নথিপত্রসহ সরাসরি বসুন।
৪. অন্তর্বর্তীকালীন বন্ড (Interim Bond) ও পুলিশ তদন্ত
জরুরি ক্ষেত্রে তদন্ত চলার ফাঁকেই আদালত থেকে অন্তর্বর্তীকালীন বন্ড (Interim Bond under Section 117(3) CrPC) দেওয়ার আদেশ করানো যায়:
যদি বাদীপক্ষ প্রমাণ করতে পারে যে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে, তবে ম্যাজিস্ট্রেট তদন্ত রিপোর্ট আসার আগেই বিবাদীকে তাৎক্ষণিক অন্তর্বর্তীকালীন মুচলেকা দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন। মুচলেকা না দিলে বিবাদীকে তাৎক্ষণিক হাজতে পাঠানো হয়।
৫. বিবাদী মুচলেকা ভঙ্গ করলে বা পুনরায় হুমকি দিলে শাস্তি
মুচলেকা সম্পাদন করার পর যদি বিবাদী আবারও এলাকায় শান্তি বিঘ্নিত করে বা হুমকি দেয়, তবে ১২২ ও ১২৩ ধারা অনুযায়ী আদালত জামিনদারদের নোটিশ করে জরিমানার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা নেন এবং বিবাদীকে নির্ধারিত মেয়াদের অবশিষ্ট সময় কারাগারে আটক রাখার নির্দেশ দেন।
৬. সুপ্রিম কোর্টের ফৌজদারি আইনজীবীর পরামর্শ
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট • চেম্বার কনসাল্টেশন
ব্যক্তি নিরাপত্তা ও জমি রক্ষায় তাৎক্ষণিক আইনি সুরক্ষা
হুমকিকে অবহেলা করবেন না। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জরুরি ১০৭ ও ১৪৫ ধারার পিটিশন দাখিলের জন্য সরাসরি যোগাযোগ করুন।
১০৭ ধারার মামলায় কি পুলিশ সরাসরি আসামি গ্রেপ্তার করতে পারে?
আদালত যদি সমন অমান্য করায় ওয়ারেন্ট ইস্যু করেন বা অন্তর্বর্তীকালীন বন্ড দিতে ব্যর্থতার কারণে আদেশ দেন, কেবল তখনই পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করে।
১০৭ ধারার মামলা শেষ হতে কতদিন সময় লাগে?
আইন অনুসারে মামলা দাখিলের ৬ মাসের মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটকে তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হয়। অন্যথায় বিশেষ কারণ লিপিবদ্ধ করতে হয়।
১০৭ ধারার সাথে কি জমির ১৪৫ ধারা একসাথে করা যায়?
হ্যাঁ, যদি বিরোধটি জমি দখলের আশঙ্কাকেন্দ্রিক হয়, তবে ১০৭ ধারার পাশাপাশি ১৪৫ ধারায় জমিতে নিষেধাজ্ঞা ও রিসিভার নিয়োগের আবেদন একসাথে করা যায়।
দায়বর্জন (Disclaimer): এই আর্টিকেলে পরিবেশিত তথ্যসমূহ কেবল আইনি সচেতনতা ও সাধারণ শিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনো প্রত্যক্ষ আইনি পরামর্শ (Legal Advice) নয় এবং এর মাধ্যমে কোনো আইনজীবী-মক্কেল সম্পর্ক (Attorney-Client Relationship) তৈরি হয় না। আপনার সুনির্দিষ্ট মামলার আইনি প্রতিকারের জন্য সরাসরি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বা জজ কোর্টের তালিকাভুক্ত বিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করুন।
আইনি সহায়তা বা জরুরি পরামর্শের প্রয়োজন?
যোগাযোগ করুন এডভোকেট মোঃ শাহ আলম: +880 1712-655546 |
WhatsApp
উত্তরা চেম্বার: বাড়ি ৪৬, রোড ৬/বি, সেক্টর ১২, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০
কোর্ট চেম্বার: আইনজীবী সমিতি ভবন, ৪র্থ তলা, ৬/৭ কোর্ট হাউস স্ট্রিট, কোতোয়ালি, ঢাকা-১১০০