লেখক: অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম · 2026-07-22
আইনি সংলাপে ও খবরের কাগজে আমরা প্রায়ই 'রিট পিটিশন' শব্দটির কথা শুনি। রাষ্ট্রীয় কোনো কর্তৃপক্ষ, সরকারি দপ্তর বা নিম্ন আদালত যদি সংবিধানের দেওয়া মৌলিক অধিকার হরণ করে বা বেআইনি কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তবে নাগরিকের শেষ ভরসাস্থল হলো সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকরা হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করে বিচার লাভ করতে পারেন। রিট পিটিশন কি, এর প্রকারভেদ, খরচ ও দায়ের করার সম্পূর্ণ আইনি নির্দেশিকা নিচে তুলে ধরা হলো। যেকোনো জটিল আইনি সমস্যায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী <a href="/advocate-md-shah-alam" style="color:var(--accent);font-weight:600;">অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম</a>-এর আইনি পরামর্শ নিতে পারেন।
সহজ ভাষায় 'রিট' (Writ) শব্দের অর্থ হলো উচ্চ আদালত কর্তৃক জারি করা আদেশ বা নির্দেশনামা। সাধারণ দেওয়ানি বা ফৌজদারি আদালতে বিচার না পাওয়া গেলে বা কোনো সরকারি/আধাসরকারী কর্তৃপক্ষ বেআইনি পদক্ষেপ নিলে, নাগরিকরা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে যে আবেদনপত্র দাখিল করেন, তাকেই রিট পিটিশন (Writ Petition) বলা হয়।
যে ব্যক্তি বা পক্ষ রিট পিটিশন দায়ের করেন তাকে বলা হয় পিটিশনার (Petitioner) এবং যার বা যাদের বিরুদ্ধে রিট করা হয় তাদের বলা হয় রেসপনডেন্ট (Respondent)।
বাংলাদেশ সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ হাইকোর্ট বিভাগকে বিশেষ এখতিয়ার (Writ Jurisdiction) প্রদান করেছে। সংবিধানের তৃতীয় ভাগে বর্ণিত নাগরিকদের মৌলিক অধিকার (Fundamental Rights) যেমন—জীবনের অধিকার, বাকস্বাধীনতা, চলাফেরার অধিকার, সম্পত্তির অধিকার ইত্যাদি সংক্ষুব্ধ বা লঙ্ঘিত হলে রিট দায়ের করা যায়।
কারা রিট করতে পারেন? যেকোনো ক্ষুব্ধ নাগরিক (Aggrieved Person) অথবা জনস্বার্থে কোনো সংগঠন (Public Interest Litigation - PIL) রিট দায়ের করতে পারে।
বাংলাদেশে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ৫ ধরনের রিট পিটিশন দায়ের করা যায়:
| রিটের নাম | আদালতের আদেশের মূল উদ্দেশ্য |
|---|---|
| ১. হেবিয়াস কর্পাস (Habeas Corpus) | বেআইনিভাবে আটকে রাখা ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া। |
| ২. ম্যানডামাস (Mandamus) | সরকারি সংস্থাকে তার আইনি অর্পিত দায়িত্ব পালন করার নির্দেশ দেওয়া। |
| ৩. প্রোহিবিশন (Prohibition) | নিম্ন আদালত বা সংস্থাকে তাদের এখতিয়ার বহির্ভূত কাজ করা থেকে বিরত রাখা। |
| ৪. সার্টিওরারি (Certiorari) | নিম্ন আদালত বা কর্তৃপক্ষের বেআইনি রায়/আদেশ বাতিল বলে ঘোষণা করা। |
| ৫. কো-ওয়ারেন্টো (Quo-Warranto) | কোনো ব্যক্তি কোন অধিকারে সরকারি পদে আসীন আছেন তা জানতে চাওয়া। |
যদি কোনো ব্যক্তিকে পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা বা কোনো বেসরকারি ব্যক্তি বেআইনিভাবে আটক বা গুম করে রাখে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির না করে, তবে তার পরিবার হাইকোর্টে হেবিয়াস কর্পাস রিট করতে পারেন। হাইকোর্ট আটককারী সংস্থাকে অবিলম্বে উক্ত ব্যক্তিকে আদালতে সশরীরে হাজির করার কঠোর নির্দেশ দেন।
কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা সংস্থা (যেমন রাজউক, সিটি কর্পোরেশন, ডেসকো, ব্যাংক, পাসপোর্ট অফিস) যদি কোনো নাগরিকের ন্যায্য আইনি আবেদন গ্রহণ না করে বা তার আইনসম্মত কাজ করতে অস্বীকার করে, তবে হাইকোর্ট ম্যানডামাস জারি করে সেই কাজ অবিলম্বে সম্পন্ন করার নির্দেশ প্রদান করেন।
⚖️ বিশেষজ্ঞ আইনি পরামর্শের জন্য যোগাযোগ: আপনার আইনি বিষযটি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম-এর সাথে সরাসরি কথা বলুন বা আমাদের বিশেষজ্ঞ আইনি সেবা গ্রহণ করুন। যেকোনো প্রয়োজনে সরাসরি যোগাযোগ পেজে ক্লিক করুন।